Monday, January 2nd, 2017
অপ্রস্তুত বাণিজ্যমেলায় বিরক্তিকর ঠুকঠাক
January 2nd, 2017 at 6:59 pm
অপ্রস্তুত বাণিজ্যমেলায় বিরক্তিকর ঠুকঠাক

রিজাউল করিম, ঢাকা:

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার দ্বিতীয় দিন ছিল আজ সোমবার। দুইদিন পেরিয়ে গেলেও মেলায় এখনো শেষ হয়নি প্যাভেলিয়ন তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্মাণজনিত প্রস্তুতিতে মেলার চারদিকে শুধু ঠুকঠাক শব্দ। শব্দ দূষণে মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কান হয়ে আসছে ভারী। ফলে আগতদের অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করছেন এবং আয়োজকদের দূর্বলতাকে দায়ী করছেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে খোলা মাঠে প্রতিবারের মতো এবারও এ মেলার আয়োজন করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। সোমবার সরেজমিনে মেলা পরিদর্শনে জানা যায়, মেলায় খুব কম সংখ্যক প্রতিষ্টান তাদের প্রস্তুতির কাজ শেষ করতে পেরেছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি প্যাভিলিয়ন ছাড়া অনেকটাই আছে অপ্রস্তুত। আর ছোট ছোট স্টলগুলোর অনেকটায় এখনও বাঁশখুটি ও  মাটি ভরাটের মতো কাজ চলছে। তবে এতো অপ্রস্তুতের ভিতরেও মেলাতে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ক্রেতা দর্শনার্থীর আগমন। আগন্তুকদের অনেকেই বিভিন্ন স্টল ও প্যাভেলিয়ন ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কম সংখ্যক আগন্তুকই এখন পণ্য কিনছেন। তাদের মতে, মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলায় কেনার এখনও অনেক সময় আছে। ভিড় কম, তাই বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। এখন দেখে রাখছে মেলার শেষ দিকে তারা পছন্দের পণ্য কিনবেন।

মেলায় মিরপুর থেকে আসা হাবিবুর রহমান নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে বলেন, ‘টেলিভিশনে দেখলাম গতকাল রোববার মেলা শুরু হয়েছে। তাই আজ একটু ঘুরে ফিরে দেখতে এলাম। কিন্তু এসে দেখি মেলা শুরু হয়েছে ঠিকই, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভাল লাগার পর্যায়ে এখনও যায়নি। কারণ, এখনো পুরোপুরি প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়নি। চারোদিকে শুধু ঠুকঠাক শব্দ। কান জ্বালা-পালা হয়ে আসছে। পুরো পরিবেশটাই বিরক্তিকর লাগছে।’

মেলায় গুলশান এলাকার বাসিন্দা পারভেজ হাসান বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই ঢাকঢোল পিটিয়ে মেলার আয়োজন হলেও তার প্রস্তুতি এখনও শেষ হয়নি। এই ধরণের অব্যবস্থাপনা ইপিবির কাছ থেকে কাম্য নয়।’ সরকারি চাকরিজীবি ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এই অব্যবস্থাপনার জন্য মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবিই দায়ী। প্রতিষ্ঠান দুটির সংশ্লিষ্টদের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই আজ আমাদের শব্দ দূষণের শিকার হতে হচ্ছে।’

মেলা প্রস্তুতি শেষ করতে না পারার কারণ জানতে চাইলে অংশগ্রহণকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে বিলম্ব হয়েছে, আবার কেউ বলছেন শ্রমিক সংকটের কথা। পুরোপুরি কাজ শেষ হতে আরও চার থেকে পাঁচদিন সময় লেগে যেতে পারে।

আবুল খায়ের গ্রুপের প্রোডাক্ট প্রমোশন অফিসার ফাতিম বলেন, ‘আমাদের কাজ শুরু করতেই একটু দেরি হয়েছিল। মঙ্গলবার থেকে হয়ত মালামাল ডিসপ্লে শুরু করবো। তবে প্যাভিলিয়নের পুরো কাজ শেষ করতে দু-তিনদিন সময় লাগবে।’

একইভবে মেলায় পিপি-৫৩ নং থাইল্যান্ড প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ চলছে এখনো। মেলা শুরুর পরও প্রস্তুতি শেষ না হওয়ার কারণ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা শুভ জানান, এতদিন বিদ্যুতের সংযোগ ছিলনা। গতকালই বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছি। ফলে কাজ করতে দেরি হয়েছে। মেলায় একইভাবে অপ্রস্তুত রয়েছে, ইনসুন ফুডস, রাঁধুনীর প্যাভেলিয়ন, নাইমস এবং চিফ স্ট্রিট বিভিন্ন প্যাভেলিয়ন ও স্টলের।

অপ্রস্তুতির বিষয়ে বাণিজ্য মেলার সদস্যসচিব রেজাউল করিম নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে বলেন, ‘মেলার ভেতরে মালবাহী ট্রাক ঢোকার কারণে কিছু জায়গার উচু-নিচু হয়েছে। যেগুলোর এখনও কিছু রয়ে গেছে। খুব দ্রুতই তা ঠিক করা হবে। এ ছাড়া প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যা আগামী এক-দুদিনের মধ্যে শেষ হবে।’

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যমেলাকে বিশ্বব্যাপী ভার্চুয়ালি উপস্থাপন করা হচ্ছে। পুরো বাণিজ্যমেলার ভেন্যুকে ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল করা হচ্ছে। মেলা মাঠের আয়তন ৩১ দশমিক ৫৩ একর। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এবারের মেলায় প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে (পূর্ববর্তী ৩ বছরের মতো) প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য জন প্রতি ২০ টাকা। ভিআইপি গেইটে গাড়ি আগমন ও নির্গমনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল-প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৮০টি। মেলা মাঠে ১টি ই-শপ, ২টি শিশু পার্ক, ৩টি রক্তসংগ্রহ কেন্দ্র, ৩টি মা ও শিশু কেন্দ্র এবং ১টি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন স্পটে বাগান তৈরি করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার জন্য ১টি মসজিদ এবং আনসার ও বেসরকারি সিকিউরিটি ফোর্স সদস্যদের জন্য ২টি ডরমেটোরি স্থাপন করা হয়েছে।

এ বছর ২১টি দেশ (বাংলাদেশসহ) মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় বাংলাদেশ ছাড়া যে সকল দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহ অংশগ্রহণ করছে সেগুলো হলো-ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরস্ত্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মরিশাস, নেপাল, হংকং, জাপান, ভূটান, বাহরাইন, ভিয়েতনাম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বাণিজ্যমেলায় ২০১০ সালে ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার, ২০১১ সালে ২৫ কোটি টাকার, ২০১২ সালে ৪৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার, ২০১৩ সালে ১৫৭ কোটি টাকার, ২০১৪ সালে ৮০ কোটি টাকার, ২০১৫ সালে ৮৫ কোটি টাকার এবং ২০১৬ সালে ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার রফতানি আদেশ পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালের বাণিজ্যমেলায় আরও বেশি আদেশ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি, র‌্যাব, আনসার এবং বেসরকারি সিকিউরিটি ফোর্স মোতায়েন থাকবে। তাদের কাজে সহায়তা করার জন্য মেলা প্রাঙ্গনে ওয়াচ টাওয়ার, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর, আন্ডার ভিহিকল মিরর ব্যবহার করা হবে। মেলার নিরাপত্তা কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য গত বছরের মেলার মতো এবারও মেলায় ১৪০টি সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে।

সম্পাদনা: ইয়াসিন


সর্বশেষ

আরও খবর

সন্দেহভাজন প্যারিস হামলাকারীর ২০ বছর কারাদণ্ড     

সন্দেহভাজন প্যারিস হামলাকারীর ২০ বছর কারাদণ্ড     


বিক্ষোভের মুখে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

বিক্ষোভের মুখে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ


তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেন কেট মিডলটন

তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেন কেট মিডলটন


বিশ্ব একাদশে সাকিব-তামিম

বিশ্ব একাদশে সাকিব-তামিম


১৯ ক্যাটাগরির কর্মী যাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে

১৯ ক্যাটাগরির কর্মী যাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তারেকের উকিল নোটিশ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তারেকের উকিল নোটিশ


দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী


গাজীপুরে বিলু হত্যায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

গাজীপুরে বিলু হত্যায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ


কাল দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কাল দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্টে নগ্ন হামলাকারীর গুলিতে নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্টে নগ্ন হামলাকারীর গুলিতে নিহত ৩