Saturday, April 15th, 2017
আকাশ-বিকাশ-ডনঃ ‘ক্যান্টিনে ফাও খাওয়া’ ঐতিহ্য
April 15th, 2017 at 3:32 pm
আকাশ-বিকাশ-ডনঃ ‘ক্যান্টিনে ফাও খাওয়া’ ঐতিহ্য

মাসকাওয়াথ আহসান: ক্যান্টিনে ফাও খাওয়ার শতবর্ষের ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিলো ফুড এণ্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশান (ফাও)।

স্বীকৃতি প্রদানকারী সংস্থা ফাও’ এর এক তথ্য বিবৃতিতে এই সুসংবাদ জানানো হয়। উল্লেখ করা হয়, গত প্রায় শতবর্ষে ক্যান্টিনে ফাও খাওয়ার মাধ্যমে আকাশ-বিকাশ-ডনেরা যে সুস্বাস্থ্য গঠনের ঐতিহ্য গড়েছে; তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ক্যান্টিনে ফাও খাওয়ার মাঝ দিয়েই গড়ে উঠেছে যেন সমাজ-রাজনৈতিক পরিকাঠামো।

আকাশ-বিকাশ-ডনেরা ক্যান্টিনে ফাও খাওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছিলো স্ব-উদ্যোগে। প্রথমে নিজের মাথার চুল খাবার প্লেটে ফেলে কিংবা পকেটে করে টিকটিকির ডিম এনে এঁটো খাবারে মিশিয়ে দিয়ে কিংবা ডালের বাটিতে তেলাপোকার ঠ্যাং ফেলে দিয়ে ক্যান্টিনের খাবারের দাম দিতে অস্বীকৃতি জানাতো তারা। কিন্তু এভাবে বেশীদিন ফাও খাওয়া চালিয়ে যাবে না বুঝে তারা চেহারা সারাক্ষণ রাগী করে রাখার ও ক্ষেপে গিয়ে ক্যান্টিনের গ্লাস ভাঙ্গার অভিনয় শুরু করে। এরপর আকাশ-বিকাশ-ডন লাঠি এনে ক্যান্টিনের টেবিলে বাড়ি দিয়ে চেঁচিয়ে তটস্থ করে তোলার বিনিময়ে ক্যান্টিনে ফাও খাওয়ার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে ফেলে। ফাও খাওয়ার এই যে কলাকৈবল্য এটি ধারাবাহিকভাবে অনুসৃত হওয়ায় ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশান এটিকে ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

গত ১০০ বছরে আকাশ বিকাশ ডনেরা ফিরে ফিরে এসেছে ক্যান্টিনগুলোতে এবং তারা ফাও খেয়েছে; এমন কোনো আকাশ বিকাশ ডন নাই যার নাম ক্যান্টিনের বাকির খাতায় নেই।

ক্যান্টিনের ম্যানেজার বদলেছে আকাশ-বিকাশ-ডনের বাকির ৭০-৮০ হাজার টাকা পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে; কিন্তু বদলায়নি আকাশ বিকাশ ডন। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশপ্রেমের উপসর্গ। দেশপ্রেম করার জন্য আকাশ, বিকাশ ও ডন তিনটি পৃথক ছাত্র সংগঠনে অনুপ্রবেশ করেছে। ক্যান্টিনের হিসাব খাতায় দেশপ্রেমিক আকাশ বিকাশ ডনের বাকির অংকের পাশে তাদের সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনের নামও লেখা আছে। কিন্তু বছরের বছর চলে যাওয়ায় বাকির খাতার লেখা ঝাপসা হয়ে ছাত্রের ওপরের মাত্রাটা মুছে গেছে; সেটা ছাএ পরিণত হয়েছে। কিন্তু বাকির টাকা পরিশোধ করেনি আকাশ বিকাশ ডন কেউই।

যুগের পর যুগ আকাশ বিকাশ ডনেরা বড় ঠিকাদার, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, পুলিশ আরো কত কিছু হয়েছে; কিন্তু ক্যান্টিনের বাকির টাকা পরিশোধ করার প্রয়োজন বোধ করেনি তারা। হাকিম চত্বরে খাদ্য উদোক্তা হাকিম ভাইয়ের বাকির খাতায় যাদের নাম আছে; তারা এক একজন সাফল্যের বাতিঘর আজ। সাংস্কৃতিক আকাশ বিকাশ ডনেরাও হাকিম ভাই বা মধুর ক্যান্টিনের মধুদাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে ফাও খেয়েছে। সুতরাং জীবনে সামগ্রিক সাফল্যের সঙ্গে ফাও খাওয়ার একটি কার্যকরণ সম্পর্ক রয়েছে বলেই মনে করছে ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশান।

একটি জরীপে দেখা যায় ফাও খাওয়া আকাশ-বিকাশ-ডনেরা প্রতিদিন দাম পরিশোধ করে খাওয়া তরুণদের চেয়ে জীবনের দৌড়ে অনেক এগিয়ে গেছে। কারণ আকাশ বিকাশ ডনেরা বড় হয়ে রাষ্ট্রকেই ফাও খাওয়ার ক্যান্টিন মনে করেছে। এই যে সমাজ-রাজনীতিতে আকাশ বিকাশ ডনের “ফাও খাওয়া মডেল”; এটিই সাফল্যের পূর্বশর্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

ফাওয়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, শৈশবে আকাশ বিকাশ ডন হাটে-বাজারে গিয়ে ফাও বাদাম তুলে খাওয়া, লিচু ছিঁড়ে খাওয়া, সুপারি নিয়ে খাওয়ার অনুশীলন করে। তাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে চলে আশে ক্যান্টিনে ফাও খাওয়ার পেশাদারিত্ব। এরপর সমাজ রাষ্ট্রের নানা দায়িত্বে ফাও খাওয়ার তুমুল উতকর্ষ দেখায় তারা।

আবার সাংস্কৃতিক আকাশ বিকাশ ডনের ফাও খাওয়ার অভ্যাসটা এতো প্রকট হয়ে দাঁড়ায় যে তারা বুদ্ধিজীবী হবার পর সরকারের কোনো ভুল পদক্ষেপের সমালোচনা করতে ভয় পায়; পাছে সরকারি অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পায়; ফাও খাওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যায়।

আকাশ বিকাশ ডনেরা সাধারণত ছাএ সংগঠনের ভয় বা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ক্যান্টিনে ফাও খেয়ে থাকে। তবে রঙ তুলি ক্যানভাস দেখিয়েও প্রতিবছর ৬০-৭০ হাজার টাকার খাবার ফাও খাওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করেছে এক ক্যান্টিনের ম্যানেজার। একই অভিযোগ একই ক্যান্টিনের আগের ম্যানেজারেরও। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মাহেন্দ্র ক্ষণে আকাশ বিকাশ ডন ক্যান্টিনে ৬০- ৭০-৮০ হাজার টাকার ফাও খায়। গোরুড়ের ক্ষিদে যাকে বলে। পহেলা বৈশাখ হালখাতার দিন; ঐদিন ক্যান্টিনের বাকি পরিশোধের দিন। আকাশ-বিকাশ-ডন পরপর দুজন ক্যান্টিন ম্যানেজারকে পৃথক কলাকৈবল্যে ও চারুকলায় ক্যান্টিন থেকে সরিয়ে দেয়; সঙ্গে ফাও মারধোর দিয়ে দেয়।

এইসব আকাশ বিকাশ ডনকে ফাও খাওয়ানোর পরেও কেষ্টা ব্যাটাই চোর হয়ে ঠিক কতজন ক্যান্টিন ম্যানেজার প্রত্যেক বছর ফাও মার খায় ও মূলধন হারায়; তার হিসাব করা কঠিন; তবে ব্যাপারটা একরকম “দলিত নির্যাতনে”র হাজার বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে মেলবন্ধন রচনা করেছে। যে কারণে ক্যান্টিনে ফাও খাওয়ার শতবর্ষের ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিলো না ফাও সংস্থাটির।

তাছাড়া আদিম মানুষের পশু শিকারের মাধ্যমে খাদ্য সংগ্রহের ঐতিহ্যের শিল্পিত রূপ দিয়ে ক্যান্টিনের ম্যানেজারকে শিকারের মাধ্যমে ফাও খাদ্য সংগ্রহের সুকৃতি প্রদর্শনের এই গৌরবজ্জ্বল ক্ষণে ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশান (ফাও) আকাশ-বিকাশ-ডন সম্প্রদায়কে “ফাওরত্ন” সম্মানে ভূষিত করেছে।

লেখক: ব্লগার ও প্রবাসী সাংবাদিক


সর্বশেষ

আরও খবর

নওয়াজকে অযোগ্য ঘোষণার খাঁড়াটি ঝুলে রইলো

নওয়াজকে অযোগ্য ঘোষণার খাঁড়াটি ঝুলে রইলো


সম্রাট-হাসিনা, বাঙালিত্ব ও ড. সনজীদা

সম্রাট-হাসিনা, বাঙালিত্ব ও ড. সনজীদা


জাতির আঁধারায়নের খলচরিত্র

জাতির আঁধারায়নের খলচরিত্র


কাকা বাবুর ভীষণ মন খারাপ

কাকা বাবুর ভীষণ মন খারাপ


অপুর সংকট

অপুর সংকট


ফতোয়া ও সালিশ: সুবিধাবঞ্চিত নারীর উন্নয়নের অন্তরায়

ফতোয়া ও সালিশ: সুবিধাবঞ্চিত নারীর উন্নয়নের অন্তরায়


ভারত-পাকিস্তান চইলা যাও!

ভারত-পাকিস্তান চইলা যাও!


ফেয়ারওয়েল মাই ক্যাপ্টেন!

ফেয়ারওয়েল মাই ক্যাপ্টেন!


হাসান মুকসেদ ও একজন জঙ্গি

হাসান মুকসেদ ও একজন জঙ্গি


ভালোবাসার উদাহরণ সৃষ্টি হোক

ভালোবাসার উদাহরণ সৃষ্টি হোক