Thursday, May 18th, 2017
আমগো যা কওয়ার ছিলো; তাই কইতাছে বাংলাদেশ: সাঈদী
May 18th, 2017 at 6:11 pm
আমগো যা কওয়ার ছিলো; তাই কইতাছে বাংলাদেশ: সাঈদী

মাসকাওয়াথ আহসান: এক তরুণ দেশপ্রেমিক দুঃসংবাদ নিয়ে আসে বড় দেশপ্রেমিকের কাছে।

–বড় ভাই রাজাকার সাঈদীর তো মৃত্যুদণ্ড হলো না। একটা কসাই এভাবে বেঁচে যাবে; একাত্তরের স্বজন হারানোরা বিচার পাবে না; এটা কেমন কথা!

–বিচার পাইছে তো। আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে। আর কথা বার্তা খেয়াল কইরা বলো। আদালত অবমাননা কইরো না। তাকে রাজাকার বা কসাই বলা ঠিক নয়। আদালতের বারণ আছে।

–আশ্চর্য্য কথা বলেন বড় ভাই; রাজাকারকে রাজাকার বলবো না তো কী বলবো!

–ঘ্যান ঘ্যান কইরো নাতো; তুমি আসলে একটা অকম্মা। এতো বড় একটা অকেশন গেল; দেশপ্রেম কইরা কতজনের ভাগ্য খুইলা গেলো; আর তুমি কিছুই করতে পারলানা; এর কারণ হচ্ছে তুমি হাওয়া বুইঝা পাল তুলতে পারো না। খালি “জয় বাংলা” “জয় বাংলা” কইরা গেলা; কিন্তু যতবার জয় বাংলা বলছো ঐটা গুইনা ফসল গোলায় তুলতে পারলানা। এখনও সময় আছে; ইসলামী ব্যাংকে চাকরিতে ঢুইকা পড়ো; আমি কইয়া দিতাছি।

–চিন্তা করেছেন বড় ভাই যারা সাহসী হইয়া সাক্ষী দিছিলো তারা একটা বিপদে পইড়া গেলো। সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিরে তুইলা নিয়া গিয়া হাওয়া কইরা দিলো; কেসটারে দুর্বল করার চেষ্টাতো চলতেছিলোই। একটা জলজ্যান্ত খুনী এখন আরামে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পোলাও খাইবো।

মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় সাঈদী ও তার আইনজীবীরা বেজায় খুশী। এক ভক্ত ফুলের মালা দিয়ে বলে, রাখে আল্লাহ মারে কে। আপনি না থাকলে ইসলামের হেফাজত করবো কেডা! আপনার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম তো আর নাই।

–এখন মইরা গেলেও আমার কোনো দুঃখ থাকতো না; আমগো যা কওয়ার ছিলো; তাই কইতাছে বাংলাদেশ। আমি জানতাম, এতোগুলি আলেমের আত্মদান বৃথা যাইতে পারেনা।

–সেইডা ঠিকই কইছেন হুজুর; অনুভূতির সরকার; বারবার দরকার।

–ঐ শাহবাগে কতগুলি পোলাপান আইসা বাগড়া নাদিলে; আমগো বুজুর্গগুলিও আমার মতো আরামদণ্ডে থাকতে পারতেন। কী লাভ হইলো শাহবাগীগো! ক-খ-গ-ঘ কইয়া তুই রাজাকারের শ্লোগান যে ধরছিলো তারা; এখন তো সেইগুলি আদালত অবমাননার মাঝেই পড়ে। অথচ আমাগো আদর্শের সৈনিকরা শাপলা চত্বর থিকা কী সুন্দর সারাদেশে শাপলা ফুটাইলো। পাঠ্যপুস্তকে শাপলা ফুল, আইন-কানুনে শাপলা ফুল।

–বড়ই পুলকের ব্যাপার হুজুর। লোটাস ফুল জিন্দাবাদ।

–যাউক গিয়া জেল-কর্তৃপক্ষের কাউকে বাদ মাগরিব একটু দেখা করতে বলো।

বাদ মাগরিব জেল-কর্তৃপক্ষের লোকেরা আসে।

–হুজুর আপনার খানা-খাজানায় কী কী চান একটু জানান যদি।

–বুজুর্গ গোলাম আজমরে যে মেন্যু দেয়া হইতো; ঐটাই যথেষ্ট। খালি মাঝে মাঝে একটু লইট্টা ফিশ দিয়া দিবেন। অনেক সোয়াব পাইবেন।

জেল-কর্তৃপক্ষের একজন জিজ্ঞেস করে, হুজুর আপনি কী বিচারে সন্তুষ্ট!

–আমার কোনো আক্ষেপ নাই। কয়েকজনের আত্মত্যাগে যদি আমগো দর্শন জনপ্রিয় হয়; তাইলে তার চাইতে বড় বিজয় তো আর নাই। বাকি জীবন জেলখানার কয়েদিদের একটু গাস্ত শুনাইতে পারি; জীবনের আলো দিতে পারি মন্দ কী। জেলখানা থেকেই তো নেতৃত্ব তৈরি হয়।

শাহবাগের কয়েকজন তরুণ সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় প্রতিবাদ কর্মসুচি দেয়। কিন্তু গণজাগরণের সময় যারা মাথায় পতাকা বেঁধে সেলফি তুলতো; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোকজনকে দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট দিতো; সেই সার্টিফিকেট বেচে এতো তেল-চর্বি জমেছে তাদের গতরে যে আর প্রতিবাদে আসার জন্য শরীর নড়ে না। বরং আদালত প্রাঙ্গনের ভাস্কর্যটি দেখতে একদম সুন্দর নয়; ওটা সরিয়ে ফেলা দরকার; এই আলোচনার মধ্যে তারা প্রবল আনন্দ লাভ করে।

শাহবাগের এক তরুণ ফোন করে এক বিরাট দেশ প্রেম করে খাওয়া ভাইকে শাহবাগে প্রতিবাদে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানায়।

ভাই বলে, ফিজিক্যালি আসতে পারতেছিনা; তবে তোমাগো সঙ্গে আছি। আমার তো একটা প্রজেক্ট মিটিং পইড়া গেছে।

এরমধ্যে খবর আসে, মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় সাঈদীর বুজরুকির ব্যাপারটা একটা নতুন কিংবদন্তীর জন্ম দিয়েছে। ফলে গ্রামের মানুষ আবার চাঁদের মধ্যে সাঈদীকে দেখতে পাচ্ছে।

দেশপ্রেম করা বড় ভাই খুব গম্ভীর হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়, অন্য কেউ ক্ষমতায় আইলেই কইলাম সাঈদীরে জেলখানা থিকা মুক্তি দিয়া দিবো। তাই আস্থা রাখুন; আমাদের ক্ষমতায় রাখুন।

অমনি বড় ভাইয়ের ভক্তরা এসে ভুত-প্রেতের গল্প শোনার জন্য তার পোস্টের চারপাশে গোল হয়ে বসে।

লেখক: ব্লগার ও প্রবাসী সাংবাদিক


সর্বশেষ

আরও খবর

হয়ত শাকিব অপুও থাকবে না

হয়ত শাকিব অপুও থাকবে না


পাঠ প্রতিক্রিয়া: ফরিদপুরে বিতর্ক চর্চা

পাঠ প্রতিক্রিয়া: ফরিদপুরে বিতর্ক চর্চা


একটি আত্মহত্যা ও কিছু প্রশ্ন

একটি আত্মহত্যা ও কিছু প্রশ্ন


অপরাজিতা মেয়ের পরাজয়ের গল্প

অপরাজিতা মেয়ের পরাজয়ের গল্প


বাঙালির দ্বি-মুখী লড়াই: হিন্দুত্বের সাথে এবং মুসলমানিত্বের সাথে

বাঙালির দ্বি-মুখী লড়াই: হিন্দুত্বের সাথে এবং মুসলমানিত্বের সাথে


দ্রোহের গুঞ্জন: সংস্কৃতি ও রাজনীতি

দ্রোহের গুঞ্জন: সংস্কৃতি ও রাজনীতি


কেউ কষ্টের কথাগুলি বলতে চায় না

কেউ কষ্টের কথাগুলি বলতে চায় না


শ্রমিক আর সংবাদকর্মী: সবাই আজ শোষিত

শ্রমিক আর সংবাদকর্মী: সবাই আজ শোষিত


বাজিলো কাহারো বীণা

বাজিলো কাহারো বীণা


নানীর পহেলা বৈশাখ: ভায়লেট হালদার

নানীর পহেলা বৈশাখ: ভায়লেট হালদার