Friday, April 14th, 2017
‘আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও…’
April 14th, 2017 at 9:48 am
‘আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও…’

ঢাকা: অন্ধকার আর অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রত্যয়ে রাজধানীর রমনার বটমূলে বাংলা নববর্ষকে বরণে অনুষ্ঠান করছে ছায়ানট। ঐতিহ্য অনুযায়ী আজ শুক্রবার ভোর ৬টায় ১০ মিনিটে সরোদ বাদনে শুরু হয় বর্ষরবরণের আনুষ্ঠানিকতা। সরোদে সুরের মূর্ছনা ছড়ান রাজরূপা চৌধুরী।

এরপর  ‘আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও…’ সমবেত কণ্ঠে এই গান গেয়ে পয়লা বৈশাখকে বরণ করে নিয়েছেন ছায়ানটের শিল্পীরা। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য- ‘আনন্দ, বাঙালির আত্মপরিচয়ের সন্ধান ও অসাম্প্রদায়িকতা’।

একই সঙ্গে দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট তাদের বর্ষবরণের অর্ধশতক পূর্তি পালন করছে। ৫০ বছর আগে ঠিক একই গান দিয়েই শুরু হয়েছিল ছায়ানটের বর্ষবরণের রেওয়াজ, যা আজ পয়লা বৈশাখের একটা অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি সংগীতানুষ্ঠানে বেশ কিছু নতুনত্ব আনা হয়েছে। মঞ্চ সজ্জায় পরিবর্তন এসেছে। ভোরের স্নিগ্ধতার প্রকাশ আছে সাজসজ্জায়।

শিশুদের দলসহ ১১৫ জন শিল্পী ওঠেন মঞ্চে। অতিথি শিল্পী রাজরূপা চৌধুরীর সরোদ বাদনের ভেতর দিয়ে ঠিক ভোর ৬টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপরে সম্মেলক গান ‘আলোকের এই ঝর্ণাধারায়’। এবার আনন্দ, মানবতা, দেশপ্রেম ও উদ্দীপনামূলক কালজয়ী গানগুলো দিয়ে সাজানো হয় তালিকা।

পঞ্চকবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রজনীকান্ত সেন, অতুল প্রসাদ সেন ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান ছাড়াও তালিকায় ছিল ‘টাকডুম টাকডুম বাজে’, ‘ওরে বিষম দরিয়ার ঢেউ’সহ বেশ কিছু লোকগান ও গণজাগরণমূলক গান। অনুষ্ঠান শেষ হয় ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ দিয়ে। বরাবরের রীতি অনুসারে এরপরে ছায়ানট সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন কথা বলেন।

ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রমনা বটমূল।

ছায়ানটের সহসভাপতি শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল জানান, বর্ষবরণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসচি পালন করে আসছে ছায়ানট। এবার বর্ষবরণে বিশেষ সংযোজন রয়েছে ‘দিওয়ানা মদিনা’।

সত্তরের দশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সালে প্রথমবারের মতো বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠান আয়োজন শুরু করে ছায়ানট। এরপর থেকে বাঙালি সংস্কৃতি ধারণ করে দীর্ঘ এই পথচলায় অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আলোর শিখা জ্বালিয়ে রেখেছে সংগঠনটি।সেদিনের আয়োজনের প্রথম গানটি ছিল ‘আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও…’। ওই স্মৃতিকে স্মরণ করতেই এবার প্রভাতী আয়োজনের এ গানে কণ্ঠ মিলিয়েছে ছায়ানটের ১১৫ জন শিল্পী।

সম্পাদনা: জাবেদ চৌধুরী


সর্বশেষ

আরও খবর

স্থানীয় সাংসদের আশ্বাসে ব্যবসায়ীদের অবরোধ প্রত্যাহার

স্থানীয় সাংসদের আশ্বাসে ব্যবসায়ীদের অবরোধ প্রত্যাহার


বরিশালে সরস্বতী পূজায় নানা আয়োজন

বরিশালে সরস্বতী পূজায় নানা আয়োজন


‘নেতাকর্মীদের কারাগা‌রে রে‌খে নির্বাচন হ‌বে না’

‘নেতাকর্মীদের কারাগা‌রে রে‌খে নির্বাচন হ‌বে না’


পোশাকশিল্পে সবচেয়ে কম মজুরি পায় বাংলাদেশের শ্রমিকরা

পোশাকশিল্পে সবচেয়ে কম মজুরি পায় বাংলাদেশের শ্রমিকরা


সিলেটে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে, ইজতেমাফেরত চারজন নিহত

সিলেটে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে, ইজতেমাফেরত চারজন নিহত


ঢাবি সিনেটের ২৪ জনই আওয়ামীপন্থী

ঢাবি সিনেটের ২৪ জনই আওয়ামীপন্থী


ফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রাখলো শ্রীলংকা

ফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রাখলো শ্রীলংকা


সরস্বতী পূজা সোমবার

সরস্বতী পূজা সোমবার


মাত্রাতিরিক্ত ফেসবুক চালনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান মেননের

মাত্রাতিরিক্ত ফেসবুক চালনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান মেননের


দিল্লি পৌঁছতে মরিয়া খালেদা

দিল্লি পৌঁছতে মরিয়া খালেদা