Thursday, April 13th, 2017
ইলিশের কমতি নেই কিন্তু দাম চড়া
April 13th, 2017 at 5:27 pm
ইলিশের কমতি নেই কিন্তু দাম চড়া

শেখ রিয়াল, ঢাকা: চাঁদপুরের পদ্ম-মেঘলা নদীর অভায়শ্রমে সব ধরনের মাছধরা নিষিদ্ধ করা হলেও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশ মাছের কমতি নেই বাজারে। তবে দাম অনেক চড়া। আইনের তোয়াক্কা না করেই প্রতিনিয়ত ধরা হচ্ছে এসব মা ইলিশ।

তবে এ বিষয়ে মৎস্য অধিদফতর থেকে বলা হয়, মা ইলিশ ধরা নিষেধ এবং জাটকা নিধন ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার সব রকমের প্রস্তুতি নিয়েছে তার পরেও মা ইলিশ এবং জাটকা ধরা কমানো যাচ্ছে না। যারা ইলিশ ধরে তারা আইন না মেনেই এই কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

জাটকা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে চাঁদপুরের পদ্ম-মেঘলা নদীর অভায়শ্রমে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত ১শ’কিলোমিটার এলাকায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। একই সময়ের জন্য অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাছ কেনা-বেচা, মজুত ও পরিবহনও নিষিদ্ধ। মৎস্যসংরক্ষণ আইন-১৯৫০-এর ১৩ ধারাঅনুযায়ী মৎস্য অধিদফতর ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত ইলিশ অভয়াশ্রমগুলো হলো চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেক্সান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার, ভোলার মদনপুর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০কিলোমিটার এবং ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকা।

জেলেদের জাটকা এবং মা ইলিশ ধরা নিয়ে এ বিষয়ে জাটকা সংরক্ষণ, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং গবেষণা প্রকল্প পরিচালক এ বি এম জাহিদ হাবিব নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, যারা জাটকা বা মা ইলিশ ধরে তারা অশিক্ষিত এবং ভূমিহীন। তারা মাছের বৃদ্ধি বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন না। সাময়িক কিছু টাকার জন্য আইন না মেনেই প্রতিনিয়ত ইলিশ মাছ ধরে যাচ্ছে। যারা ইলিশ ধরছে তাদের বিরুদ্ধে আইননানুক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে একই সঙ্গে জেল জরিমানাও করা হচ্ছে কিন্তু পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালির পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কম থাকায় জেলেরা মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

রাজধানী ঢাকাতে যারা এই সময়টাতে ইলিশ মাছ বিক্রয় করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইননানুক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।তবে আগামীতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারেও জানান সরকারের এই মৎস্য কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, মার্চ এপ্রিল মাসে ইলিশ বেঁচাকেনা বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।

মৎস্য কর্মকর্তা আরো বলেন, বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে ইলিশের যে মূল খাবার বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে যদি ইলিশ মাছ না ধরতে জেলেদের প্রলুব্ধ না করি তবে ইলিশে বাজার ছেয়ে যাবে। মানুষ সাধ্যের মধ্যে তাদের প্রিয় জাতীয় মাছ ইলিশ কিনে খেতে পারবে।

জাটকা নিধন রোধ এবং ইলিশ রক্ষায় সরকারের প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে এই মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, আমরা সরকারের কাছে এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প সাবমিট করেছি। যে সব নদীতে ইলিশ হয় সেসব নদীতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলেদের নিয়ে কাজ করবো। এতে করে আমাদের দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। আমাদের আশা আছে ২৫ হাজার কোটি টাকার ইলিশ রফতানি করতে পারবো।

পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার প্রচলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশ খেতে হবে এটি একটি অপসংস্কৃতি। এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের পাতে ইলিশ তুলে দেবার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেও পহেলা বৈশাখে খাবারের তালিকা থেকে পান্তা ইলিশ মেনু বাদ রেখেছে। যারা এই পান্তা ইলিশ খাওয়ার প্রচলণ করেছে তারও এক প্রকারের রাজাকার বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।

অপরদিকে ইলিশ ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার মা ইলিশ এবং ঝাটকা নিধনের জন্য যে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে তার বাইরে গিয়ে জেলেরা ইলিশ ধরছে।

ইলিশ ধরা এবং বাজারে বিক্রয় নিয়ে কারওয়ান বাজার পাঁচ তারা সমবায় মৎস্য আড়ৎ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশাররফ হোসেন নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, মৎস্য অধিদফতর কর্তৃক ঘোষিত কয়েকটি পয়েন্টে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে। যা সর্বত্র এলাকায় নয়। যে সব এলাকায় মা ইলিশ ডিম দিবে বা বড় হবে সেগুলোকে চিহ্নিত করে মাছ ধরা বন্ধ রাখছে। আর বাকি সব জায়গায় অহরহ ধরা হচ্ছে। এই সব জায়গা থেকে মাছ আসছে। আবার একই সঙ্গে গত বছর যারা কম দামে মাছ কিনে রেখে দিয়েছে সেগুলো এই সময়ে লাভের আশার বিক্রয় করে। এবারের বৈশাখকে কেন্দ্র করে ছয় থেকে সাত কোটি টাকার ইলিশের ব্যবসা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তবে হিমাগারে বেশিদিন রাখা ইলিশ খাওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষক ও পুষ্টিবিদ ডা. তাহমিদ আহমেদ নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে বা গ্রীষ্মকালে ইলিশ খাওয়া অস্বাস্থ্যকর নয়। তবে এটি ইলিশের প্রজনন মৌসুম। প্রকৃত মৎস্য শিকারি বা জেলে সম্প্রদায় এ সময় মাছ ধরা এড়িয়ে চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনেক আগে থেকে হিমাগারে সংরক্ষণ করা বড় ইলিশ এ সময় বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি করা হয়। রাসায়নিক উপাদান মেশানো দীর্ঘদিন হিমাগারে থাকা এসব ইলিশ মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।’

বাঙালির কাছে ইলিশের গুণকীর্তন নতুন কিছু নেই। নতুন হলো, বৈশাখ বরণ উপলক্ষে চারপাশে যে সাজ সাজ রব, তার সঙ্গে ইলিশের যোগ। সে কারণেই হিমাগারে কাটিয়ে বাজারে আসা বরফচাপা ইলিশের দর এখন চৈত্রের খরতাপের চেয়েও চড়া। সাধারণ লোকের পক্ষে তার গায়ে হাত দেয়া অসম্ভব। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে তিন হাজার টাকায়। ওজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দামও। দুই কেজি ওজনের ইলিশ ঘরে আনতে হলে গুণতে হবে ন্যুনতম ছয় হাজার টাকা। তবে তেমন ক্রেতারও অভাব নেই। দরদাম যা-ই হোক, ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রচুর।

সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আংশিক অনুমোদন

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আংশিক অনুমোদন


বশিরানন্দ দাশ ও সোমলতা সেন

বশিরানন্দ দাশ ও সোমলতা সেন


ঈদের নৈশভোজ রীতি বাতিল ট্রাম্পের

ঈদের নৈশভোজ রীতি বাতিল ট্রাম্পের


রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারা ফেরানোর আহ্বান কাদেরের

রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারা ফেরানোর আহ্বান কাদেরের


ঈদ শান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলে: রাষ্ট্রপতি

ঈদ শান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলে: রাষ্ট্রপতি


লামায় ঈদের দিনে দুর্ঘটনায় ৩ কিশোরের মৃত্যু

লামায় ঈদের দিনে দুর্ঘটনায় ৩ কিশোরের মৃত্যু


অনেক করেছেন গুম-খুন-দুর্নীতি, এবার থামেন: খালেদা

অনেক করেছেন গুম-খুন-দুর্নীতি, এবার থামেন: খালেদা


শান্তিপূর্ণ ভাবে ঈদ উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীর স্বস্তি

শান্তিপূর্ণ ভাবে ঈদ উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীর স্বস্তি


রাজপরিবার ছাড়তে চেয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি

রাজপরিবার ছাড়তে চেয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি


শাহজালালে ২৩৫ কার্টুন বিদেশি সিগারেট জব্দ

শাহজালালে ২৩৫ কার্টুন বিদেশি সিগারেট জব্দ