Thursday, April 20th, 2017
একমাত্র মা’কেই ভালোবাসতেন হিটলার   
April 20th, 2017 at 11:07 pm
একমাত্র মা’কেই ভালোবাসতেন হিটলার   

ফারহানা করিম চৌধুরী, ডেস্ক: ১৮৮৯ সালের ২০ এপ্রিল শনিবারের শীতার্ত একটি সন্ধ্যা, সেই মুহুর্তে জার্মান সীমান্তের কাছে অস্ট্রিয়ার ছোট একটি শহরে কৃষকের এক কন্যা জন্ম দেন তার চতুর্থ সন্তানের। বাবা-মা তার নাম রাখেন অ্যাডলফ। পরবর্তীকালে এই অ্যাডলফই ইতিহাসে হিটলার নামে কুখ্যাত হয়ে আছেন।

হিটলারের মা ক্লারা হিটলার তার স্বামী অ্যালোইস এর তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন। লম্বা গড়নের স্মিত হাসির ক্লারা অনেক শান্ত এবং লাজুক ছিলেন। অপরদিকে স্থানীয় সরকারি কর্মচারী অ্যালোইস অর্থাৎ হিটলারের পিতা ছিলেন বদমেজাজী, কঠোর, কর্তৃত্বপরায়ন।

শৈশবে প্রতিদিন রাতের বেলায় হিটলারকে তার বাবা নির্মমভাবে প্রহার করতেন। আর তার মা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে নিরুপায় হয়ে তা দেখতেন। পরবর্তীকালে হিটলারের ছোট বোন পলা, মার্কিন সেনাবাহিনীর জেরার মুখে সেসব রাতের স্মৃতিচারণায় এই ঘটনার উল্লেখ করেন। মূলত হিটলারের এই রকম দানব হয়ে ওঠার রহস্য উন্মোচন করার লক্ষ্যেই মার্কিন বাহিনী তার ছোট বোনের কাছে হিটলারের শৈশবের কাহিনী জানতে চান।

পলা জানান, হিটলার দুষ্টু প্রকৃতির ছিল। তাকে কঠোরভাবে শাসন করার বিষয়ে তার পিতার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু কেবলমাত্র মা ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি তার এই অবাধ্য সন্তানকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। তার প্রতি আদর যত্নের কোন কমতি ছিল না। বাবার কাছে বেদম মার খাওয়ার পর মায়ের কাছেই পেতেন প্রশান্তির পরশ।

পলা উল্লেখ করেন তার পিতার কর্কশতার বিপরীতে মা ছিলেন অনেক নরম এবং দয়ালু স্বভাবের।

১৯০৩ সালে হিটলারের পিতার মৃত্যুর পর পুরো সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে মা ক্লারা হিটলারের ঘাড়ে। তিনি সাধ্যমতো সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন। ১৯০৫ সালে ১৬ বছর বয়সি হিটলার স্কুলে যাওয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মায়ের কাছে মিথ্যা অসুস্থতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করান। মাও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করেই সন্তানের আবদার মেনে নেন।

ঐতিহাসিক ইয়ান কারশাও তার ‘হিটলার: অ্যা বায়োগ্রাফি’ বইয়ে উল্লেখ করেন, এসময় হিটলার মায়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অলস এবং উদ্দেশ্যহীন জীবন যাপন করছিলেন। কেবল মাই নন ছোট বোন পলা এবং খালা জোহানাও কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে তার সবকিছুই করে দিতেন।

হিটলারের সংগীতজ্ঞ এবং শিল্পী হওয়ার খুব শখ ছিল। পুত্রের শখ মিটাতে অভাবের মধ্যেও তার মা পিয়ানো কিনে নিয়ে আসেন। তিনি এসময় কবিতা লিখতেন, ছবি আঁকতেন। রাতের বেলায় থিয়েটার দেখতে যেতেন। হিটলারের মা প্রতিবছর জন্মদিনের উপহার হিসেবে থিয়েটারের টিকেট কিনে দিতেন।

পরবর্তীকালে হিটলার উল্লেখ করেছিলেন, ওই দিনগুলিই ছিল তার জীবনের সেরা দিন। স্বপ্নের মত সুন্দর ছিল তা।

অবশ্য ১৯০৭ সালে হিটলারের মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়। তার চিকিৎসা করেন পারিবারিক ডাক্তার এডওয়ার্ড ব্লচ। তিনি ইহুদী ধর্মাবলম্বী ছিলেন। ডাক্তার যখন জানান, এজন্য তার স্তন অপসারণ করতে হবে তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন হিটলার।

এসময় ক্লারাকে কষ্টকর সার্জারি সহ্য করতে হয়। এরপর ঘরেই তার ক্যান্সারের চিকিৎসা চলতে থাকে।  হিটলার মার পাশে থেকে তার সবধরনের সেবা যত্ন করেছেন।

পরবর্তীকালে পলা জানান, মাকে সুস্থ করে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন হিটলার। এমনকি ডাক্তার ব্লচও তার স্মৃতিকথায় মায়ের প্রতি হিটলারের এই অসাধারণ ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মায়ের প্রতি পুত্রের এধরনের ভালোবাসা আমি কখনো দেখিনি।

ক্লারা উষ্ণতার জন্য রান্নাঘরে ঘুমাতেন। হিটলারও তার রোগাক্রান্ত মায়ের পাশেই ঘুমাতেন। কিন্তু তার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৯০৭ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে মারা যান ক্লারা। পরবর্তীকালে তার সন্তান বিশ্বের জন্য কি পরিমাণ ত্রাস হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন তা অবশ্য দেখে যেতে পারেননি তিনি।

ডাক্তার ব্লচ জানান, সকালের দিকে ক্লারা মারা যান। কিছুক্ষণ পর তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন হিটলারের মুখ বেদনায় ম্লান হয়ে রয়েছে। তিনি তার ছবি আঁকার খাতায় মায়ের ছবি আঁকছেন।

১৯৩৭ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৎকালীন ফুয়েরার অর্থাৎ হিটলার ডাক্তার ব্লচের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ইহুদী হওয়া সত্ত্বেও তাকে গ্যাস চেম্বারে না ঢুকিয়ে ছেড়ে দেন। হিটলার তাকে মহৎ ইহুদী হিসেবে ডাকতেন।

হিটলার কেন পরবর্তী জীবনে দানবে পরিণত হয়ে লাখ লাখ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন তা নিয়ে অনেক রহস্য রয়েছে। কেউই সঠিকভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। তিনি কি তার বাবার কঠোর শাসনের কারণে না কি একজন ইহুদী ডাক্তার তার মায়ের জীবন বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে তার কারণে এমন অমানুষে পরিণত হয়েছেন? না কি তিনি পুরোপুরিই একজন উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন? ঐতিহাসিকেরা বার বার এই প্রশ্নগুলির মাধ্যমে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোন সদুত্তর পাননি।

তবে মায়ের প্রতি তার ভালোবাসার কোন কমতি ছিল না এই বিষয়ে সকলেই নিশ্চিত। কারশাও লিখেন, হিটলার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মায়ের ছবি নিজের সাথে রেখেছিলেন। বার্লিনে, মিউনিখে অথবা যেখানেই তিনি গেছেন সব স্থানেই তার নিজের রুমে মায়ের প্রতিকৃতি সাজিয়ে রাখতেন। সম্ভবত মা ক্লারাই একমাত্র ব্যক্তি যাকে সারাজীবন হিটলার সত্যিকার অর্থে ভালোবেসেছিলেন। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

ক্রিস গেইল ১৪৬ ঢাকা ১৪৯

ক্রিস গেইল ১৪৬ ঢাকা ১৪৯


বিপিএল দেখার সময় দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

বিপিএল দেখার সময় দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা


ফাইনাল এবং টুর্নামেন্ট সেরা গেইল

ফাইনাল এবং টুর্নামেন্ট সেরা গেইল


বিপিএলের পাতায় শুধুই মাশরাফি

বিপিএলের পাতায় শুধুই মাশরাফি


বিপিএলের শিরোপা মাশরাফির হাতেই

বিপিএলের শিরোপা মাশরাফির হাতেই


‘সুপ্ত প্রতিভার বিকাশেই দেশ এগিয়ে যাবে’

‘সুপ্ত প্রতিভার বিকাশেই দেশ এগিয়ে যাবে’


‘বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি আত্মঘাতী, অর্থহীন’

‘বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি আত্মঘাতী, অর্থহীন’


ঢাকা-প্যারিস যৌথ কমিশন গঠনে সম্মত

ঢাকা-প্যারিস যৌথ কমিশন গঠনে সম্মত


গেইলের দানবীয় শতকে ‘এক গাদা রের্কড’

গেইলের দানবীয় শতকে ‘এক গাদা রের্কড’


কালিয়াকৈরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত ১১ শ্রমিক

কালিয়াকৈরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত ১১ শ্রমিক