Monday, March 13th, 2017
ঐতিহ্যের নিদর্শন বৌদ্ধ তীর্থ যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র
March 13th, 2017 at 1:45 pm
ঐতিহ্যের নিদর্শন বৌদ্ধ তীর্থ যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র

রাঙ্গামাটি: সৌন্দর্য্যের লীলানিকেতন রাঙামাটির যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র। এটি একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩’শ ফুট উচু পাহাড়ে যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র নামে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় বিখ্যাত এই বিহারটি। রাঙামাটি শহরের উত্তর-পুর্ব দিকে সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নে এর অবস্থান। এই পাহাড়টির পূর্ব নাম ছিল বন্দুক কোণা মোন। দূর থেকে অনেকটা বন্দুকের মত দেখাত বলে স্থানীয়রা এর নামকরণ করেছিলেন। কিন্তু ১৯৮২ সালে যখন এখানে বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন নাম দেয়া হয় যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র। পার্বত্য চট্টগ্রামের কিংবদন্তি বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের পরামর্শ এখানে বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করেন এলাকবাসী।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় শত বছর আগে ইমিলিক্যা চাকমা যম নামে এ্ক তান্ত্রিক সাধক বসবাস করেছিলেন। তিনি চাকমা বৈদ্যদের তন্ত্র-মন্ত্র ও যোগ সাধনার মাধ্যমে হিংস্র পশুর আক্রমণ ও বিষধর সাপের দংশন থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার কৌশল জানতেন। এমনকি ভবিষ্যৎও বাণী করতেন। তিনি বেঁচে থাকার সময় বলেছিলেন, এই পাহাড়ে একদিন আনন্দ মেলা বসবে। বৌদ্ধ বিহার হবে। হাজার হাজার মানুষের সমাগম হবে ইত্যাদি। কিন্তু সেসময় তার কথাগুলোকে কেউ ভালোভাবে বিশ্বাস করত না।

উল্লেখ করার মত বিষয় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিখ্যাত নদী কর্ণফুলি ও চেঙ্গী নদীর মাঝখানে সুদীর্ঘ পাহাড়ি উপত্যকায় এই যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রটি তীর্থস্থান হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। এখানেই বনভান্তে সর্বপ্রথম তার রাজবন বিহারের শাখা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বনভান্তের শিষ্য-প্রশিষ্যরা সেখানে নিয়মিত ধ্যান-সাধনা চর্চা ও বৌদ্ধ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। প্রতিটি বৌদ্ধ পর্ব দিনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এরমধ্যে বৈশাখী পুর্ণিমা, আষাঢ়ী পুর্ণিমা, মধু পুর্ণিমা, প্রবারণা পুর্ণিমা, কঠিন চীবর দান, মাঘী পুর্ণিমা, উল্লেখযোগ্য।

এই যমচুগে উঠলেই চেঙ্গী ও কাচালং নদীর স্বচ্ছ ও নীল জলরাশি আগন্তুকদের মন কেড়ে নেয়। এছাড়া নদীতে চলমান ছোট বড় নৌযান গুলো ঢেউ তুলে নদীর বুক চিড়ে চলে যাওয়ার দৃশ্য ভাবুকের হৃদয়েও আবেগের সৃষ্টি করে। আশপাশের উচু-নীচু ছোট-বড় পাহাড় গুলোতে সবুজের সমারোহ যেন অনবরত পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকে। যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে গিয়ে একই সঙ্গে হ্রদ ও পাহাড়ের সৌন্দর্য দুটোই দেখা যায়। রাঙামাটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত হওয়ার কারণে এটি সকল মানুষের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দশর্নীয় স্থান।

এখানে রয়েছে শত বছর আগে যম চাকমা রোপিত পত্র-পল্লবে সুশোভিত একটি বটগাছ বা বোধিবৃক্ষ। যার নীচে শোভা পাচ্ছে মহামতি গৌতম বুদ্ধের একটি নান্দনিক প্রতিমুর্তি। রয়েছে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য দ্বিতল বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন, নির্মাণাধীন রয়েছে তিনতলা বিশিষ্ট বুদ্ধ মন্দির। শমথ ও বিদর্শন ভাবনা অনুশীলনের জন্য রয়েছে ছোট ছোট ভাবনা কুটির ও একটি মাটির গুদাম। ভিক্ষুদের ধর্মদেশনার একটি দেশনালয় রয়েছে। কঠিন চীবর প্রস্তুত করার জন্য একটি বেইনঘর ও  ভিক্ষুদের আহারের জন্য ভোজন শালা, রয়েছে রন্ধনশালা ও অতিথিশালা।
নানা প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ ছাড়াও বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বড় অনেক বটগাছ ও নাগেশ্বর গাছ। এসব গাছের নীচে ছায়ায় বসে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা একাগ্রমনে সুত্র আবৃত্তি ও ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন এবং সুমধুর স্বরে ধর্মীয় গাথা ও বন্দনাদি আবৃত্তি করেন। রয়েছে রঙ-বেরঙের নানা প্রজাতির ফুলগাছ ও ফুলের বাগান। যেখানে আগন্তুকরা এক নজর দৃষ্টি না দিয়ে সেখান থেকে চলে যায় না। বিহারের চারিদিকে ঘোরাফেরা করার সুবিধার্থে সুন্দরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে প্রশস্ত রাস্তা।

জানা যায় যমচুগে উদপাদিত আমলকি প্রজাতিতে টক হলেও এখানের গুলো মিষ্টি। বিহারের পূর্বপাশে রয়েছে যমকুয়া বা যমপুঅ। যম চাকমা এ কুয়া থেকে পানি খেয়েছেন বলে এ নাম। এ কুয়া থেকে এখনো খাবার পানি সংগ্রহ করা হয়। কুয়ার পাশে ছড়ায় ছোট একটা ওয়াল দিয়ে অন্য একটি কুয়াও নির্মাণ করা হয়েছে। ভিক্ষু-শ্রমণ ও দায়ক দায়িকারা সেখানে স্নান কার্যাদি সম্পাদন করেন এবং এই কুয়া থেকে মেশিন দিয়ে বিহারে পানি সরবরাহ করা হয়।

যমচুগে যেভাবে যাবেন: রাঙামাটি শহর থেকে নদীপথে যমচুগে যাওয়া যায়। রাজবন বিহার ঘাট, শহরের রাজবাড়ী ঘাট, পাবলিক হেলথ ঘাট, বনরূপা সমতা ঘাট, রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে দেশীয় ট্রলার যোগে যাওয়া যাবে। এছাড়া স্পীড বোটেও যাওয়া যায়। রাঙামাটি শহর থেকে স্পীড বোটে যমচুগের ঘাটে পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ৪০ মিনিট। সাধারণ দেশীয় ট্রলারে যেতে সময় লাগে ২ ঘন্টা। ঘাট থেকে হাটা পথে যমচুগে উঠতে সময় লাগে ১ঘন্টা। ওঠার সময় রাস্তার পাশে পাহাড়িদের বাড়ীতে বিশ্রাম নেয়া যায়। রাত্রিযাপনও করা যায়। সেখানকার মানুষ গুলো খুবই অতিথি পরায়ন। তাছাড়া যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে  যাওয়া হচ্ছে জানলে কদরটা আরেকটু বেড়ে যায়।

প্রতিনিধি: জহুরুল হক, সম্পাদনা: জাবেদ


সর্বশেষ

আরও খবর

নবগঙ্গা নদীর সেই ঝিনুক এখন আর নেই!

নবগঙ্গা নদীর সেই ঝিনুক এখন আর নেই!


শুক্রবার ঝিনাইদহ মাতাতে আসছেন জেমস

শুক্রবার ঝিনাইদহ মাতাতে আসছেন জেমস


সত্যিই কি মারা যাবে শিশুটি?

সত্যিই কি মারা যাবে শিশুটি?


গাজীপুর সিটিতে মেয়র নির্বাচনের কথা এখনই শুরু

গাজীপুর সিটিতে মেয়র নির্বাচনের কথা এখনই শুরু


ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাধীনতা দিবস প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাধীনতা দিবস প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত


যুমনার চর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

যুমনার চর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার


ট্যুরিস্ট ভিসার নিয়ম শিথিল করেছে ভারত

ট্যুরিস্ট ভিসার নিয়ম শিথিল করেছে ভারত


কুসিক নির্বাচনে ২৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

কুসিক নির্বাচনে ২৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন


চুয়াডাঙ্গায় প্রকাশিত ‘দৈনিক আমাদের সংবাদের’ সম্পাদক কারাগারে

চুয়াডাঙ্গায় প্রকাশিত ‘দৈনিক আমাদের সংবাদের’ সম্পাদক কারাগারে


বরিশালে পৃথক ঘটনায় ইমাম সহ নিহত ৩

বরিশালে পৃথক ঘটনায় ইমাম সহ নিহত ৩