Friday, October 20th, 2017
কঠিন মনের নারী সুমি বেগম!
October 20th, 2017 at 1:41 pm
কঠিন মনের নারী সুমি বেগম!

এম কে রায়হান, ঢাকা: কালো সালোয়ার, পায়ে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল। গলায় রংচটা গামছা। মাথায় ক্যাপ। এমন বেশভূষা নিয়েই অলিগলি পেরিয়ে যাত্রীদের পৌঁছে দিচ্ছেন গন্তব্যে। লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন কঠিন প্রতিজ্ঞায় আর রিকশার তিন চাকায়। মূলত নিজের মেয়েটাকে বড় করতেই এ পথ বেছে নিয়েছেন সুমি বেগম। সত্যিকার অর্থেই এক কঠিন মনের নারী তিনি।

বাংলার রিকশাচালকদের চিরাচরিত রূপে রাস্তায় নামেন সুমি। কি সকাল কি রাত, রিকশা চালান তিনি। এর ওর সঙ্গে মাঝে মাঝে বাক বিতণ্ডা লেগে যায়। ‘ওই মিয়া’ বলে ধমক দিতেও পিছপা হন না। কঠিন দুনিয়ায় কঠিনভাবেই তো টিকে থাকতে হবে।

রিকশা চালানোর আগে তিন বছর রাজধানীতে ভ্যান চালিয়েছেন সুমি। এরও আগে ছোটবেলায় প্রতিবন্ধী বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ভিক্ষা করতেন। বাবা মারা গেছেন। ছোট ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী। ভাই ও সুমির মেয়েকে নিয়ে মা মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। সুমির পাঠানো টাকা এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পান, তাই দিয়েই চলে সংসার।

এখন সুমি কামরাঙ্গীরচরে একা থাকেন। সকালে রিকশা নিয়ে বের হন। কাজ শেষ করে রিকশা জমা দিতে দিতে রাত ১২টা বেজে যায়। সারা দিনের খাবার খান হোটেলে। দিনে ১০ থেকে ১২টি পান আর কাজের ফাঁকে কয়েক কাপ চা খান শরীর চাঙা রাখতে।
কারখানায় কাজ করার সময় প্রেম করে বিয়ে করেন। তবে মেয়ে যখন তিন মাসের পেটে, তখন বুঝতে পারেন যে তার স্বামী নেশা করেন। স্বামীকে ছেড়ে নিজেই চলে আসেন বাবা–মায়ের কাছে। তারপর স্বামীকে তালাক দেন। মেয়ে, মা, ভাইদের কথা চিন্তা করে আর বিয়ে করেননি।

তিনি নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘জামাই নেশা করত, তাই ডিভোর্স দিয়া চলে আসছি। রোডে যখন নামি, তখন তো নিজেকে মেয়ে মনে করলে চলবে না আমার মতো অনেক মেয়ে আছে যারা বাদ হয়ে গেছে। আমি চিন্তা করি কি, আমি যদি এমন হই তো আমার মেয়েটাও বাদ হয়ে যাবে। আমি ভাঙ্গারি টোকাইসি, বাজারে ব্যাগ বিক্রি করছি। এরপর রং-মিস্ত্রিদের সাথে কাজ করছি, হরেক রকমের মাল বিক্রি করছি।’

তিনি বলেন, ‘একদিন আমার এক মামা বললেন, তুই তো ভ্যান চালানোয় এক্সপার্ট, তুই অটোগাড়ি (ইঞ্জিন চালিত রিকশা) চালানো শিখে নে। তখন দেখলাম বিভিন্ন রকম কাজের মধ্যে এটাই আমার জন্য উত্তম। আমি গাড়ি চালাইতেছি আমার বিয়ের পর থেকে। আমার বয়স এখন আনুমানিক ২৪ বছর। চার বছর ধরে রিকশা চালাই। একটা রিকশা প্রথম আলো থেকে দিয়েছিল। ওইটা চুরি হয়ে যায় বলে এখন আবার ভাড়া করা রিকশা চালাই।’

প্রথম দিনে রিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সুমি নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘প্রথম দিনে রিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল না। প্রথম দিন তো দূরে থাক প্রথম সপ্তাহেও আমি কোন প্যাসেঞ্জার পাই নি। কিছু কিছু প্যাসেঞ্জার আছে, যারা এখনও ভয়ে উঠতে চায় না। ভাবে যে, মেয়ে মানুষ, অ্যাক্সিডেন্ট করে কি না। আবার যারা জানে, তারা উঠে।’

সমাজের অন্যান্য অবহেলিত নারী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মতো অনেক মেয়েরা আছে যারা অবহেলিত। তারা যেন খারাপ পথে না যায়। তারা যেন আমার মতো কাজ করে খায়। আমি যেই কাজ করি সেই কাজ না করুক, যেন অন্য কাজ হলেও করে।’

নিজের মেয়েকে নিয়ে সুমির অনেক স্বপ্ন। তার স্বপ্ন হলো মেয়েকে ম্যাট্রিক পর্যন্ত পড়ানো। তার মেয়েটির জীবনও যাতে তার মত না হয়। আর মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকলেও নিজেকে নিয়ে কোনো স্বপ্ন নেই সুমির। তিনি বলেন, ‘আমার নিজের ভবিষ্যতের কোনো প্রয়োজন নেই। কোনো চিন্তাও নেই।’

প্রকাশ: জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 

রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 


শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সদরঘাট

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সদরঘাট


‘ছেলেরা পারলে আমরা পারবো না কেন?’

‘ছেলেরা পারলে আমরা পারবো না কেন?’


পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি

পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি


ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা

ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা


‘ভাই আমাকে মেরে ফেলেন’

‘ভাই আমাকে মেরে ফেলেন’


জনগণের কাছে পৌঁছতে ত্রাণকে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি!

জনগণের কাছে পৌঁছতে ত্রাণকে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি!


ইসি’র সংলাপে সারা দিবে ২০ দলীয় জোট

ইসি’র সংলাপে সারা দিবে ২০ দলীয় জোট


প্রস্তুত হচ্ছে গাবতলী পশুর হাট

প্রস্তুত হচ্ছে গাবতলী পশুর হাট


ডাস্টবিন নেই, পরে আছে লোহার দণ্ড

ডাস্টবিন নেই, পরে আছে লোহার দণ্ড