Saturday, April 8th, 2017
কমছে না শিশুশ্রম
April 8th, 2017 at 12:16 pm
কমছে না শিশুশ্রম

এম কে রায়হান: রাশেদ, অনেক আশা আর স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল ঢাকায়। ভেবেছিল শহেরর মানুষের হৃদয় ও মন শহরের ভবনের মতই বড়। কিন্তু এখন এসব কিছুই তার কাছে মূল্যহীন। এখন সে কাজ করে হাজারিবাগ ট্যানারিতে। প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করে। ইচ্ছা ছিল বড় অফিসার হবে।

রাশেদ বলে, “আমার পাঁচ বছরের সময় আমার মা মারা যান। মাত্র তিন মাস পরে আমার বাবা বিয়ে করেন। তারপর থেকেই আমার কষ্ট শুরু হয়ে যায়। তাই ঢাকায় চলে আসি একা একা।”

সাগর, বয়স দশ। ঢাকাতেই জন্ম। বাবা মা মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। তার বাবা লেগুনা চালাতো, বাবা মারা যাওয়ার পর সে লুগুনার হেলপারি করে। সে জানায়, “একবার লেগুনা থেকে পরে আমার পা ভেঙে যায়। এরপর আমি কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। তার কয়কদিন পর থেকেই আমি আবার আমার কাজ শুরু কারণ, আমি কাজ না করলে আমাকে দেখবে কে? খাওয়াবে কে? আমি সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হেলপারি করি।”

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩৪ এর ১ এ বলা হয়েছে, কোন পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে কোন শিশুকে নিয়োগ করা যাবে না বা কাজ করতে দেয়া যাবে না। ৩৯ এর ১ এ বলা হয়েছে, “সরকার সময় সময়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঝুকিপূর্ণ কাজের তালিকা ঘোষণা করিবে” আর ২ এ বলা হয়েছে, “সরকার কর্তৃক ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কোন কিশোরকে নিয়োগ করা যাবে না।” ৪১ এর ১ এ বলা হয়েছে, “কোন কিশোরকে কোন কারখানা বা খনিতে দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার অধিক এবং সপ্তাহে ত্রিশ ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করতে দেয়া হবে না।” ২ এ বলা আছে “কোন কিশোরকে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে দৈনিক সাত ঘণ্টার অধিক এবং সপ্তাহে বিয়াল্লিশ ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করতে দেয়া যাবে না।” আর ৩ এ বলা আছে “কোন কিশোরকে কোন প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা ৭-০০ টা থেকে সকাল ৭-০০ টার মধ্যবর্তী সময়ে কোন কাজ করতে দেয়া যাবে না।”

শিশুবান্ধব আইন থাকলেও বাংলাদেশে শিশুশ্রমের সংখ্যাটা রীতিমত উদ্বেগের। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬,৯৮,৮৯৪ জন শিশু শ্রমিক আছে যার মধ্যে ১২,৮০,১৯৫ জন্য বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম করছে।

শিশু হেল্প লাইন এর প্রকল্প সমন্বয়কারী চৌধুরী মোঃ মোনায়েম নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, “সরকার অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছে শিশুশ্রম প্রতিরোধের জন্য কিন্তু এটাও সত্য যে এ সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। যারা এই শিশুদের কাজ দেন তারা শিশুদের দিয়ে অল্প টাকায় শ্রম কিনতে পারছে, আর যেসকল শিশুরা কাজ করছে তারাও হতদরিদ্র পরিবারের, তাই তারাও অনেকটা বাধ্য হয়েই বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে।”

অপরাজেয় বাংলাদেশ এর সহকারী পরিচালক মুস্তাফা রহমান নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, “যদিও আমাদের দেশে শিশুশ্রম এর জন্য আইন আছে কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ নেই বলেই এই শ্রম বাড়ছে। দেখবেন শিশুশ্রম যারা করছে তাদের বেশিরভাগই মাইগ্রেশন করে এসেছে। তারা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঢাকায় চলে এসেছে, এখানে যে যা পাচ্ছে তাই করছে। আর কোনটা ঝুঁকিপূর্ণ আর কোনটা ঝুঁকি ছাড়া সেটা তারা বুঝে ওঠার আগেই তারা বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পরছে। আরেকটা বড় অংশ আছে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে যারা পরিবার থেকে আলাদা। হয় বাবা মারা গেছে মা অন্য কাউকে বিয়ে করে চলে গেছে অথবা মা মারা গেছে বাবা অন্য কাউকে বিয়ে করেছে। বর্তমানে যেই হারে শিশুশ্রম বাড়ছে তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এ নিয়ে সরকারের আরও মনোযোগী হওয়া উচিৎ, আইনের যথার্থ ব্যাবহার করা উচিৎ।”


সর্বশেষ

আরও খবর

ফুটওভার ব্রিজ ফাঁকা, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

ফুটওভার ব্রিজ ফাঁকা, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার


বাজারে ফরমালিন আমের ছড়াছড়ি, খেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে

বাজারে ফরমালিন আমের ছড়াছড়ি, খেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে


পর্নো ছবিতে সয়লাব নীলফামারী

পর্নো ছবিতে সয়লাব নীলফামারী


হিজড়াদের উৎপাতে নাকাল নগরবাসী

হিজড়াদের উৎপাতে নাকাল নগরবাসী


নিষিদ্ধের প্রক্রিয়ায় নব্য জেএমবি

নিষিদ্ধের প্রক্রিয়ায় নব্য জেএমবি


অভিযোগ, সমালোচনা পিছু ছাড়ছেনা র‌্যাবের

অভিযোগ, সমালোচনা পিছু ছাড়ছেনা র‌্যাবের


সুফল পেতে হলে দায়িত্ব দিতে হবে সিটি মেয়রকে

সুফল পেতে হলে দায়িত্ব দিতে হবে সিটি মেয়রকে


জঙ্গি তৎপরতা: ৯ মাসে ১০ অভিযান

জঙ্গি তৎপরতা: ৯ মাসে ১০ অভিযান


আমাদের এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে

আমাদের এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে


জঙ্গি বিরোধী অভিযান: ১৬ দিনে নিহত ২৯

জঙ্গি বিরোধী অভিযান: ১৬ দিনে নিহত ২৯