Saturday, May 20th, 2017
কেউ কষ্টের কথাগুলি বলতে চায় না
May 20th, 2017 at 10:13 am
কেউ কষ্টের কথাগুলি বলতে চায় না

মাহমুদুল হক মুন্সী: ১৫ দিন শরনার্থী ক্যাম্পবাসের অভিজ্ঞতা আমি কোনদিন ভুলবো না। ১২ দিনের মাথায় প্যানিক এটাক হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছিলো।

আমি সৌভাগ্যবান আমার পেছনে একটি শক্তিশালী সংগঠন ও কিছু ভালো মানুষ ছিলেন, যারা আমাকে ক্যাম্প থেকে বের করে নিয়ে এসে এক রাজপ্রাসাদে থাকার ব্যাবস্থা করে দেন। ছয়মাস থাকার কথা ছিলো, থাকলাম আটমাস। বাসাটা ছেড়ে যেতে মন কাঁদছে। কিন্তু মানুষের সাহায্য নিয়ে আর কতদিন? ক্যাম্পে ফিরতে হবে না, কিন্তু যেতে হবে হাইমে। ক্যাম্প থেকে কিছুটা উন্নত। আজ দেখে এলাম।

পনেরো স্কয়ার মিটারের একটা ঘর। দুইটা খাট, একটা টেবিল, দুইটা চেয়ার আর তিনটা লকার। সাথে নতুন একটা পিচ্চি ফ্রিজ দিয়েছে। রান্নাঘর আর বাথরুম কমন। শেয়ার করতে হবে এক সিরিয়ান ও এক বসনিয়ান ফ্যামিলির সাথে। মজার ব্যাপার হইলো তিন ফ্যামিলি কেউ কারো ভাষা বুঝি না।

এসাইলাম ইন্টারভিউ হয়ে গেছে গত মাসে। জানি না কবে ডিসিশন দেবে। এক বাঙালিরে জিজ্ঞাসা করলাম, সে বললো তার ইন্টারভিউ হবার আট মাস পর ডিসিশন এসেছে, তাও নেগেটিভ। উনি বাংলাদেশ থেকে হেঁটে এসেছেন, নেগেটিভ আসাই স্বাভাবিক।

হ্যাঁ, বাংলাদেশ থেকে মানুষ হেঁটে জার্মানি আসে। তাও দশ বিশ লাখ টাকা খরচ করে। সে এক মর্মান্তিক ইতিহাস। আরেকদিন বলবো।

এখন তাকিয়ে আছি বাগানের দিকে, সামারে তিন গাছে তিন রকমের ফুল ফুটেছে। ভাবছি, মানুষ ভাবে কত মধুর এই ইউরোপিয়ান ড্রিম। কিন্তু কেউ কষ্টের কথাগুলি বলতে চায় না। বিশেষ করে ব্লগার আমরা যারা এসেছি, আমরা দেখাতে চাই আমরা একেকজন রাজা বাদশা স্টাইলে চলি। এতে সবার মনে ভুল ধারনার সৃষ্টি হয়। এতে হয় কী জানেন, যার বিপদ নেই, সমস্যা নেই, সেও ইনবক্সে এসে অনুনয় বিনয় করতে থাকে জার্মানি নিয়ে আসবার জন্য। শরণার্থী জীবনটা যে কত কষ্টের, কত অপমানের সেটা কেউ বুঝতে চায় না।

বাঙালির আয় ইনকাম কম, গরীব। পরিশ্রম করতে চায় না। ভাবে বিদেশ মানেই টাকার কাড়ি। বিদেশ এসে কুত্তার মতো খাটে। এই খাটনিটা ইজিলি দেশে দিলে আরো ভালো থাকতে পারতো। কেউ তো দেখছে না, এটাই তার সান্তনা।

তাই কেউ কেউ ভাবে বিদেশে যারা গেছে, তারা বুঝি টাকার লোভেই গেছে। পাকা পায়খানার লোভে। ব্যাপারটা আসলে চিন্তার দৈন্যতা নয়। ব্যাপারটা তার সামাজিক অবস্থানের জন্য চিন্তার সীমাবদ্ধতা। এই লেভেলের উপরে ভাবার সক্ষমতাই তার তৈরী হয়নি।

সবাই বিদেশ যেতে চায় না। সুযোগ থাকলেও না। সমাজে তাদের বোকা বলে। গাধা বলে। এরা দেশকে ভালোবেসে, মাটিকে ভা্লোবেসে বিদেশের মাটি ভেজায় চোখের জলে। এইসব আবেগপ্রবন মানুষের কাছে চিরকালই বিদেশ মানে যেখানে দেহ থাকে, প্রাণ থাকে না।

লেখক: সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ।


সর্বশেষ

আরও খবর

হয়ত শাকিব অপুও থাকবে না

হয়ত শাকিব অপুও থাকবে না


পাঠ প্রতিক্রিয়া: ফরিদপুরে বিতর্ক চর্চা

পাঠ প্রতিক্রিয়া: ফরিদপুরে বিতর্ক চর্চা


একটি আত্মহত্যা ও কিছু প্রশ্ন

একটি আত্মহত্যা ও কিছু প্রশ্ন


অপরাজিতা মেয়ের পরাজয়ের গল্প

অপরাজিতা মেয়ের পরাজয়ের গল্প


বাঙালির দ্বি-মুখী লড়াই: হিন্দুত্বের সাথে এবং মুসলমানিত্বের সাথে

বাঙালির দ্বি-মুখী লড়াই: হিন্দুত্বের সাথে এবং মুসলমানিত্বের সাথে


দ্রোহের গুঞ্জন: সংস্কৃতি ও রাজনীতি

দ্রোহের গুঞ্জন: সংস্কৃতি ও রাজনীতি


আমগো যা কওয়ার ছিলো; তাই কইতাছে বাংলাদেশ: সাঈদী

আমগো যা কওয়ার ছিলো; তাই কইতাছে বাংলাদেশ: সাঈদী


শ্রমিক আর সংবাদকর্মী: সবাই আজ শোষিত

শ্রমিক আর সংবাদকর্মী: সবাই আজ শোষিত


বাজিলো কাহারো বীণা

বাজিলো কাহারো বীণা


নানীর পহেলা বৈশাখ: ভায়লেট হালদার

নানীর পহেলা বৈশাখ: ভায়লেট হালদার