Tuesday, December 20th, 2016
কেমন আছেন ‘ওরা ১১ জন’?
December 20th, 2016 at 10:58 pm
কেমন আছেন ‘ওরা ১১ জন’?

নাহিদ ন্যাস, ঢাকা:

সত্যিই তো কেমন আছেন ‘ওরা ১১ জন’? দেখতে দেখতে স্বাধীন বাংলার বয়স দাঁড়ালো ৪৬’এ। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী এতোটা সময় পরও কি মনে পরে তাদের? সময়ের এমন সব জিজ্ঞেসাকে মাথায় রেখেই তাদের খোঁজ শুরু করে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র প্রতিনিধি দল। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা তাদেরই একজন কামরুল আলম খান খসরুর সঙ্গে কথা হয় ভিনদেশ থেকে।

তিনি ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভুমিতে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছেন তা নয়। রণাঙ্গনেও পাকিস্থানি হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়েছেন প্রাণপনে। মহান বিজয়ের এই মাসে তার সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের নানা কথা। সঙ্গে খসরুর বরাদ দিয়ে কিছু তথ্য জানান তার ভাগ্নী অভিলাষ খান।


ষাটের দশকের শুরুতেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তারপর ধীরে ধীরে শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য হয়ে উঠেছিলেন। তবে ছাত্রলীগের আন্দোলন সংগ্রামের নেপথ্যের নায়ক খসরু এখন অনেকটা নীরবে নিভৃতে একাকী দিনযাপন করছেন। অথচ তার পরিচালিত বাহিনীর অনেকেই বীরউত্তম, বীরবিক্রম বা বীরপ্রতী খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। আর অন্যদিকে খসরু রয়ে গেছেন সবার অগোচরে।

বর্তমানে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন খসরু। সেখানেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানতে যাওয়া হয়, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী আপনার ভাবনা? জবাবে ধরিয়ে দেন আরো বেশ কিছু প্রশ্ন। তিনি বলেন, ‘এখনকার ভাবনা জেনে কি করবেন? আমার যে দেশ আমাকে কোনো স্বীকৃতিই দিল না, সে দেশে আমার ভাবনারা কি স্বাধীন দেবে? স্বাধীনতার পর আমার বীরত্বপূর্ণ কাজের কি কোনো মূল্যায়ন হয়েছে? স্বাধীনতার পর আমার দলের মুক্তিযোদ্ধাদের দুঃসাহসিক অভিযানের কোনো মূল্যায়ন হয়েছে?

প্রশ্নগুলো যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তা অনেকটাই পরিষ্কার। এরপর নিজ থেকেই বললেন, আমার আন্দোলন আর বিপ্লবের কয়েকটি কথা আপনাদের জানাচ্ছি; তখন আমার বয়স ১৪ বছর হবে। দাদার (সিরাজুল আলম খান) ইচ্ছায় আমি তার নেতৃত্বাধীন ‘নিউক্লিয়াসের’ গোপন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই। ফলে তার একান্ত বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে পরিণত হই। রাজ্জাক ভাই ও আরেফ ভাইকে নিয়ে তিনি ‘নিউক্লিয়াসের’ যে গোপন কাঠামো তৈরি করেন আমিও এক পর্যায়ে এর সদস্য হয়ে যাই। এই সুবাদে রাজ্জাক ভাই ও আরেফ ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ হয়। দাদা তখন আমাকে অনেক কাজ করতে দিতেন। আর কাজ করার এক পর্যায়ে তারা আমাকে একটি ‘সেল’ গঠন করার নির্দেশ দেন। আমরা তাদের সংবাদ বাহক (কুরিয়ার) এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতাম।

এই সেল গঠনের জন্য আমি, মন্টু, মহিউদ্দিন এবং ফিরুকে নিয়ে সর্বোচ্চ সেল গঠনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হই। ৬৯ এবং ৭০’র আন্দোলন সংগ্রামের সময় পতাকা তৈরির পরিকল্পনায় আমার ভূমিকাটি দেড়িতে হলেও আজ তা স্বীকৃতি পাচ্ছে। ১৯৭১ সালের দুই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনের সময় আ স ম আবদুর রবকে আমি সাহায্য করি। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আহুত জয় বাংলা বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে রাইফেলে একবার ফাঁকা আওয়াজ করে স্বাধীনতার এক দফাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করি। স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ যে অনিবার্য তারই ঘোষণা ছিল রাইফেলে একবার ফাঁকা আওয়াজে।

কুজকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে মার্চ পাস্ট করে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়ে পতাকা লাগিয়ে দেই। আ স ম আবদুর রব স্যালুট করে বঙ্গবন্ধুর হাতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেন। এসবই ঘটেছিল নিউক্লিয়াসের পরিকল্পনায়। জয় বাংলা বাহিনী গঠনের ঘটনা, যুদ্ধ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আমার উপর অর্পিত ছিলো। আমি জয় বাংলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ছিলাম যার প্রধান ছিলেন আ স ম আবদুর রব। অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আমার উপর ছিল। ঢাকা শহরের সব বন্দুকের দোকান থেকে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ৯০০ বন্দুক এবং ছোট ছোট আগ্নেয়াস্থ সংগ্রহ করি।

ইকবাল হল (বর্তমানে জহুরুল হক হল) এর অডিটোরিয়ামের সাজঘরে এ অস্ত্র জমা থাকত। ট্রেনিংয়ের জন্য আমরা পাঁচটি কেন্দ্র খুলেছিলাম। বিস্ফোরক দ্রব্য তৈরি এবং ব্যবহারের স্থান ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি। আর এর দায়িত্বে ছিলেন শরীফ নুরুল আম্বিয়া।

মার্চের দিনগুলোর আন্দোলনের সময় ঢাকা শহরের ৪২টি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে অস্ত্র ট্রেনিং দেয়ার দায়িত্ব ছিলো আমাদের কয়েক জনের উপর। কোনো কারণে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে তিনি আমাদের ঘাড়ে হাত রেখে কাজ কর্ম কেমন হচ্ছে তা জিজ্ঞেস করতেন। এটি ছিল এক ধরনের জন নায়কোচিত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। এসব আমাদের কাজ কর্মে গতি আনতো। তিনি প্রায় বলতেন, ‘তোরা এক সময় আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ হবি।’

মার্চের দিনগুলোতে অসহযোগ আন্দোলনকে সফল করতে ‘নিউক্লিয়াস’ ও ‘বিএলএফ’র তত্ত্বাবধায়নে গঠিত ছাত্র-যুব ব্রিগেড, নারী ব্রিগেড, শ্রমিক ব্রিগেড, জয় বাংলা বাহিনী, সার্জেন্ট জহুর বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মূল দায়িত্ব পালন করতো। আমাদের সঙ্গে এসব বাহিনীর সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়ায় ‘নিউক্লিয়াস’ ও ‘বিএলএফ’র প্রধান ট্রেনিং কেন্দ্র হিসেবে রতন-গগনদের বাড়ি ব্যবহার হতো। আমাদের শীর্ষ নেতারা (সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, কাজী আরেফ আহমেদ, শেখ ফজলুল হক মণি, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আবদুর রব, শাজাহান সিরাজ প্রমুখ) প্রায়ই সেখানে গোপনে মিটিংয়ে বসতেন। আমাদের দায়িত্ব ছিলো তাদের নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং বিভিন্ন বাহিনী গড়ে তোলা। ঢাকা শহরে আরেকটি দুর্ধর্ষ বাহিনী গড়ে তোলা হয়। যার নেতৃত্বে ছিলাম আমি, মন্টু, মহিউদ্দীন, সেলিমসহ অনেকে।

মার্চের তিন তারিখ রাত ১১/১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিএলএফ’র চার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ৭ মার্চের ভাষণের বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগের একটি ‘হাইকমান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন বিএলএফ’র চার ছাত্র নেতা।

বঙ্গবন্ধু বললেন, তিনি নিজেও এই রকমই ভেবেছেন। এরপর ৭১’র সাত মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধুকে কঠোর নিরাপত্তার দিয়ে বাসভবন থেকে জনসভায় আনা নেয়ার কাজটি আমরা বিএলএফ এর কর্মীরা সম্পন্ন করি। শুধু তাই নয়, ৭২ এর ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসলে আমরা একইভাবে নিচ্ছদ্র নিরাপত্তা দিয়ে তাকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রমনা রেসকোর্স ময়দানে নিয়ে আসি। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাত মার্চের ভাষণের পর আমরা রাগঢাক ছাড়াই মন্ত্রী এমপির জন্য সশস্ত্র প্রস্ততি নেই।

ইকবাল হলের (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) মাঠে এবং জগন্নাথ হলের মাঠে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ চলতে থাকে। মেয়েরাও সব সশস্ত্র যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেয়। সেই সময়ে আমার পরিচিত বহু বাঙালি আর্মি অফিসারকে রিভোল্ট করে আমাদের সঙ্গে  যোগ দিতে বলি, কিন্তু তারা আমাদের আবেদনে কান দেয়নি। ২৫ মার্চ কালোরাতে  সেনানিবাসে বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র না করলে, কিংবা তাদের ওপর হামলা না হলে তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতো কিনা আমার সন্দেহ আছে?

মূলত ৭১’র সশস্ত্র যুদ্ধে কেউ সত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণ করে যুদ্ধ করেছেন, আবার কেউ যুদ্ধে গেছেন দায়ে পড়ে। যাক সে কথা, এ বিষয়ে আমি কোনো উদ্দেশ্যমূলক মন্তব্য করতে চাই না। সেদিন আমরা অসংখ্য তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি সুদক্ষ গেরিলা বাহিনী গঠন করি যা প্রথমে বিএলএফ এবং পরে মুজিব বাহিনী নামে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করে।

অতঃপর শুরু হলো সশস্ত্র যুদ্ধের ৯ মাসের পর্ব। ভারতে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা বাংলাদেশ শক্রমুক্ত করার জন্য পাকিস্তানি সৈন্যদের সঙ্গে সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হই গেরিলা কায়দায়। সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনার জন্য আমাকে এবং মন্টুকে ঢাকা শহরের দায়িত্ব দেয়া হয়। বিএলএফ’র চার প্রধানের অধীনে আমরাই এ দায়িত্ব পালন করি। সশস্ত্র যুদ্ধের সময় নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জসহ ঢাকা শহরের আশপাশে যে কয়েকটি পাকিস্তানি সৈন্যের বিরুদ্ধে গোপন এবং প্রকাশ্যে অপারেশন হয় আমরাই তা পরিচালনা করি।

আমার বাহিনীর (মুজিব বাহিনী) সেক্টর কমান্ডার ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। তিনি নিউক্লিয়াস সদস্য। তিনি আমাকে ঢাকা সিটি গেরিলা কমান্ডার নিযুক্ত করে শীতলক্ষ্মা নদীর অপর পাড়ে ঘাটি বানিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে গেরিলা কায়দায় মোকাবেলা করার জন্য নির্দেশ দেন। আমি মাত্র ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে ডেমরার সাদিপুরে ঘাঁটি স্থাপন করে পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত লড়াই চালিয়ে যাই। ১১ জন গেরিলাকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সেখানে প্রশিক্ষণ দিয়ে দুই হাজার ৭০০ মুক্তিযোদ্ধার এক বিশাল বাহিনী গড়ে তুলি। এই দুধর্ষ দলটিকে আমি ব্যবহার করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের যানমালের বিপুল পরিমাণে ক্ষতি সাধন করি। ফলে তাদের মনোবলে চিড় ধরে।

একই সঙ্গে আমরা ডেমরা, রূপসী, সাদিপুর, তারাবো ইত্যাদি এলাকায় পাকিস্তানি সৈন্যদের উপর হামলা চালাতে থাকি। এভাবে আমরা অগণিত অপারেশন চালিয়েছি। আমরা এক্সক্লুসিভ ব্যবহার করে রূপসী থেকে যে রাস্তাটি নরসিংদী পর্যন্ত চলে গেছে, সে রাস্তার সবগুলো ব্রীজ উড়িয়ে দেই যাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা পেছন দিক দিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা চালাতে না পারে। আর এসব অভিযানের প্রত্যেকটিই ছিলো অত্যন্ত দুঃসাহসিক ও লোকমর্ষক। ১৬ ডিসেম্বর ভোর পাঁচটায় অন্য যেকোন বাহিনীর আগে আমরা ঢাকায় প্রবেশ করি।

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ   


সর্বশেষ

আরও খবর

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা

দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা


যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া

যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া


পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি

পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি


ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের

ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের


ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু


কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি

কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি


মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের ৭ বছর কারাদণ্ড

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের ৭ বছর কারাদণ্ড


সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩

সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩