Tuesday, March 21st, 2017
কে পূরণ করবে রোহিঙ্গা শিশুদের অধিকার?
March 21st, 2017 at 8:14 am
কে পূরণ করবে রোহিঙ্গা শিশুদের অধিকার?

(টেকনাফ থেকে ফিরে) এম কে রায়হানঃ যে বয়সে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে যাওয়ার কথা স্কুলে সেই বয়সে প্রাণ বাঁচাতে হতে হয়েছে দেশান্তর। যেই বয়সটা বাবা মার সাথে সুন্দর একটি সময় কাটানোর কথা সেই বয়সে চোখের সামনে বাবা মাকে খুন হতে দেখেছে। বলছি মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের কথা।

২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মায়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ৯পুলিশ সহ ১৮ জন নিহত হয়। এ ঘটনার পর রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে সেনাবাহিনী। যার ফলে গৃহহীন হাজার হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিশুরাও। তাই প্রাণ ভয়ে অনেক শিশুরাও পালিয়ে এসেছে অন্য কারো সাথে।

তেমনই এক শিশুর নাম মোহাম্মদ ইলিয়াস। গত বছরের অক্টোবর মাসে মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। চোখের সামনে খুন হতে দেখেছে বাবা আর মাকে। কিভাবে বাংলাদেশে এসেছে জিজ্ঞেস করায় সে নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলে, ‘হঠাৎ করে আমাদের গ্রামে গোলাগুলি শুরু হলে যে যার মত পালাতে শুরু করে। পালাতে না পেরে আমার সামনে আমার মা আর বাবাকে গুলি করে বার্মিজ সেনাবাহিনী। আমি পাটির নিচে লুকিয়ে ছিলাম, তাই প্রাণে বেঁচে যাই। পরে আমাদের গ্রামের অন্য লোকদের সাথে আমি এখানে চলে আসি। আমার ছোট একটা বোন ছিল, যখন সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে তখন ও কোথায় চলে যাই আমি আর জানিনা।’

এমনই আরেকটি ১০ বছর বয়সী এক কিশোরী, নাম জুলেখা। ছোট বেলায় তার মা মারা যায়। বাবাকে মিলিটারিরা গুলি করে হত্যা করে। তার বড় একটা বোন আছে। বোন মায়ানমারেই রয়ে গেছে। কোন উপায় না পেয়ে অন্য রোহিঙ্গাদের সাথে রাতের অন্ধকারে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে এসেছে সে।

প্রতিটি শিশুর সঠিক পরিচর্যা ও নিরাপত্তা পাবার অধিকার আছে। তার জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং রাষ্ট্র তার জন্য বয়স ও সময়োপযোগী আইন করবে যাতে তার কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্য সে অনুপযুক্ত সাজা না পায়। কিন্তু রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য এসব ভাবাটাও যেন মহাপাপ। দু’বেলা যার মুখে ভাত জোটে না তার জন্য এসব অধিকারের কথা যেন শোভাই পায় না।

এখানে ইলিয়াস আর জুলেখার মত এমন অনেক শিশু আছে যারা জানেই না যে তাদের ভবিষ্যৎ কি। কোথায় তাদের বাবা, কোথায় মা। একটা শিশু হিসেবে যেই মৌলিক অধিকার গুলো পাওয়ার কথা সেগুলি তাদের কাছে মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই না।

শিশুদের অধিকারগুলি আসলে কি? একটি শিশুকে কোনভাবে শারিরীক, মানসিক বা অন্য কোন রকম নিবর্তন বা নির্যাতনের শিকার হতে দেয়া যাবে না এবং তাকে স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে বড় হতে দিতে হবে। তার জন্ম নিবন্ধন, মা বাবার সাথে থাকবার সুব্যবস্থা, নিজ ধর্ম বেছে নেয়ার স্বাধীনতা সহ নানা রকম বিষয়াবলী আছে যা শিশুর অধিকারের অন্তর্গত।  অথছ আজ তারা রোহিঙ্গা বলে এসব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য বসে থাকতে দেখা যায়। যার একটা বিরাট অংশ হল শিশু। বেশিরভাগ শিশুর পরনে মলিন পোষাক, চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। বেঁচে থাকার করুণ আর্তি নিয়ে বসে থাকা এই শিশুদের চাহনির দিকে তাকালে স্তম্ভিত হয়ে যাবে যে কেউ। সব কিছু দেখেও দেখার যেন কেউ নেই। আর তাই একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, কে পূরণ করবে এই অসহায় শিশুদের অধিকার?

সম্পাদনা: জাবেদ চৌধুরী


সর্বশেষ

আরও খবর

নানা-নানীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত রাজীব

নানা-নানীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত রাজীব


খালেদা জিয়া ভালো আছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খালেদা জিয়া ভালো আছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


শেষ বিকেলে কালবৈশাখীর হানা

শেষ বিকেলে কালবৈশাখীর হানা


সিরিয়ায় একযোগে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্সের হামলা

সিরিয়ায় একযোগে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্সের হামলা


এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ছাত্রলীগের

এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ছাত্রলীগের


পহেলা বৈশাখে যেসব রাস্তা বন্ধ থাকবে ঢাকায়

পহেলা বৈশাখে যেসব রাস্তা বন্ধ থাকবে ঢাকায়


মা হারানো ফখরুলকে ওবায়দুল কাদেরের টেলিফোন

মা হারানো ফখরুলকে ওবায়দুল কাদেরের টেলিফোন


আন্দোলনকারীদের মতামত বৃহস্পতিবার

আন্দোলনকারীদের মতামত বৃহস্পতিবার


রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যার দায়ে মিয়ানমারের ৭ সেনার ১০ বছর কারাদণ্ড

রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যার দায়ে মিয়ানমারের ৭ সেনার ১০ বছর কারাদণ্ড


কুমিল্লায় খালেদার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর

কুমিল্লায় খালেদার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর