Sunday, August 6th, 2017
ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়ে ব্রোঞ্জ জিতলেন বোল্ট, স্বর্ণ গ্যাটলিনের
August 6th, 2017 at 8:15 am
ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়ে ব্রোঞ্জ জিতলেন বোল্ট, স্বর্ণ গ্যাটলিনের

ডেস্ক: গতির ঝড় তুলে উসাইন বোল্ট হেসেখেলে ফিনিশিং লাইন পার হবেন, এর পর বজ্রবিদ্যুতের সেই চিরচেনা উদযাপন করবেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়ে এসে হতবাক হতে হলো স্প্রিন্ট ভক্তদের। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে সোনার পদক জিতলেন জাস্টিন গ্যাটলিন। গত ৯ বছর ধরে ১০০ মিটারে সবাইকে একের পর এক বিস্ময় উপহার দেওয়া বোল্টের একক রাজত্ব শেষ হলো তৃতীয় স্থানে থেকে।

১০০ মিটারের সেমিফাইনালেই এমন কিছুর ইঙ্গিত মিলেছিল। অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসের সেমিফাইনালে কখনও না হারা বোল্ট এদিন হেরে যান আমেরিকার ক্রিস্টিয়ান কোলম্যানের কাছে। অবশ্য ৯.৯৮ সেকেন্ডে দ্বিতীয় হওয়ার পরও ফাইনাল নিশ্চিত করেন জ্যামাইকান তারকা। তার চেয়ে দশমিক ০১ সেকেন্ড সময় বেশি নিয়ে প্রথম হন কোলম্যান (৯.৯৭)। ফাইনালেও একই সময়ের ব্যবধানে বোল্টকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।

তবে কোলম্যান স্বর্ণ জিততে পারেননি। তাকে ও বোল্টকে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছেন গ্যাটলিন। গত তিনটি বৈশ্বিক ইভেন্টের ১০০ মিটারে জ্যামাইকান স্প্রিন্টারের ছায়া হয়ে থাকা গ্যাটলিন ৯.৯২ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জিতেছেন। কোলম্যান দ্বিতীয় হয়েছেন ৯.৯৪ সেকেন্ডে, আর ৯.৯৫ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন বোল্ট।

দুই বছর পর পর হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ২০১১ সালে ১০০ মিটারে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন বোল্ট। ওই একটি হতাশার অধ্যায় ছাড়া ২০০৯ থেকে এই আসরের আগ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ্সের প্রতিটি ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪*১০০ মিটার রিলে দৌড়ে সেরা ছিলেন তিনি।

সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের মতো শেষটাও রাঙানোর প্রত্যাশায় ছিলেন ১০০ ও ২০০ মিটারের রেকর্ড টাইমিংয়ের মালিক। লক্ষ্য ছিল অ্যাথলেটিক্সের সবচেয়ে বড় এই আসরে ১০০ মিটারে চতুর্থ সোনা জয়ের; কিন্তু হলো না স্বপ্নপূরণ। এখানে তার সোনার পদক রয়ে গেল ১১টিই।

ফিটনেস ও ফর্ম নিয়ে বোল্ট এ মৌসুমে কিছুটা ভুগেছেন। তারপরও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ২০তম স্বর্ণ জয়ের জন্য ফেভারিট ছিলেন তিনি। দুই বছর আগে ২০১৫ সালে বেইজিংয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসে ফেভারিট ছিলেন গ্যাটলিন। ২৮ দৌড়ে অপরাজিত থেকে ওই আসরে অংশ নেন আমেরিকান। কিন্তু তাকে হতাশ করে স্বর্ণ জেতেন বোল্ট। এবার সেই প্রতিশোধ নিলেন গ্যাটলিন। আর ২০১২ সালের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী ভেন্যুতে বোল্ট পারলেন না তার দারুণ ক্যারিয়ারের শেষটা রঙিন করতে।

গাটলিন ডোপ নেয়ার দায়ে দুই দফা নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ৩৫ বছর বয়সে এসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতার পরও যাকে দর্শকের দুয়ো শুনতে হয়েছে। গ্যাটলিনের ভাগ্য ভালো, আজ বোল্ট ছিলেন স্টেডিয়ামে। কারণ, দুয়োধ্বনি দেয়া ব্যস্ত লোকগুলোই খানিক পর ব্যস্ত হয়ে পড়ল সর্বকালের সেরা অ্যাথলেটকে। ৬০ হাজার দর্শকের যে হঠাৎই মনে পড়ল, ‘এই শেষ! আর কখনো দেখা যাবে না এই লোকটিকে।’ যিনি অ্যাথলেটিকসকে অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল। ডোপপাপী বিধ্বস্ত হতে বসা অ্যাথলেটিকসের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছিলেন যিনি। যার বজ্র বিদ্যুৎ আলো দেখিয়েছে, মানুষকে অসম্ভবের স্বপ্ন দেখিয়েছে।

অলিম্পিকের সোনা জেতার মুহূর্তে ফিনিশিং লাইনের কাছে হেলে দুলে দৌড়ানো, একেবারে বলেকয়ে ট্র্যাকে নেমে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে দৌড় শেষ করা কিংবা দৌড়ের শেষ ভাগে টান টান উত্তেজনার মুহূর্তেও আশপাশের প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিকে তাকিয়ে হাসতে পারার ক্ষমতা—এসবই তো তাকে আলাদা করেছিল। নিজের দৌড়ের সঙ্গে দর্শকদের অংশ করে নেয়া, দৌড়ের আগে পরে আমুদে সব অঙ্গভঙ্গিতে সবাইকে মনে করিয়ে দেয়া এটা আরেকটা খেলা মাত্র, বোল্ট যে আনন্দ ফিরিয়ে এনেছিলেন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে। মুষ্টিমেয় কোনো মানুষ নয়, দৌড়ের আনন্দটা ছড়িয়ে দিয়েছেন সবার মাঝে সবখানে।

এসবই করেছেন অবিশ্বাস্য সব কীর্তি দিয়ে। ১০০ ও ২০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ড দুবার ভেঙেছেন। প্রতিবারই এমন হেলাফেলা করে দৌড়েছেন যে কারওরই সন্দেহ নেই, চাইলেই সে রেকর্ড আবারও দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারতেন। সতীর্থ নেস্টা কার্টারের ডোপ পাপে ‘ট্রিপল ট্রিপল’টি হাতছাড়া হয়ে গেছে। কিন্তু অলিম্পিকে কোনো স্প্রিন্টারের তো ‘ডাবল ডাবল’ই নেই! তবে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন সেটা। শেষ একক দৌড়ে তাই তৃতীয় হয়েও কোনো আক্ষেপ নেই তার, ‘আমি দুঃখিত যে জয় দিয়ে শেষ করতে পারলাম না। কিন্তু সবাইকে এমন সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। সব সময়ের মতো অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা ছিল এটি।’

যদিও দৌড় শেষে দুজনই একে অপরকে সম্মান দিয়েছেন। দৌড় শেষে ‘অমর বোল্টের’ সামনে নতজানু ভঙ্গিতে গ্যাটলিন জানিয়েছেন সম্মান! ২০০৪ সালে এথেন্স অলিম্পিকে দুই স্বর্ণ জেতা গ্যাটলিন বলেছেন, ‘এটা ছিল বোল্টের শেষ দৌড়। দারুণ এক উপলক্ষ। আমরা ট্র্যাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও বাইরে মজা করি, ভালো সময় কাটে। সে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং বলেছে আমার সঙ্গে দুয়ো যায় না। সে অনুপ্রেরণা সবার কাছে।’ বোল্ট কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা বললেও অভিযোগ নেই, ‘শেষদিকে আমি একটু শক্ত হয়ে গিয়েছিলাম, এটা কখনও করা উচিত হয়নি। স্বাচ্ছন্দ্যে দৌড়াতে পারিনি এখানে। কিন্তু যেটা আছে সেটা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। আমার কোনও অভিযোগ নেই। সে (গ্যাটলিন) দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বী। তার বিপক্ষে সেরাটা দিতে হয়। আমার ভালো লাগে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। সে ভালো একজন মানুষ।’

সম্পাদনা: জেডএইচ


সর্বশেষ

আরও খবর

সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে ইরাকের হামলা

সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে ইরাকের হামলা


কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ ক্যানেল

কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ ক্যানেল


প্রবাসীদের ভোটাধিকার: দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রধান সমস্যা

প্রবাসীদের ভোটাধিকার: দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রধান সমস্যা


করের আওতায় আসছে সিএনজি-থ্রি হুইলার্স

করের আওতায় আসছে সিএনজি-থ্রি হুইলার্স


লন্ডনে গুরুত্বপূর্ণ ১৩ ফাইলে প্রধানমন্ত্রীর সই

লন্ডনে গুরুত্বপূর্ণ ১৩ ফাইলে প্রধানমন্ত্রীর সই


বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা


খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাননি ফখরুলরা

খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাননি ফখরুলরা


তুরস্কে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা  

তুরস্কে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা  


কিমের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের  সাক্ষাত

কিমের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের সাক্ষাত


মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করল জাতিসংঘ

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করল জাতিসংঘ