Wednesday, June 7th, 2017
ক্রেতাশূন্য মিরপুরের বেনারসি পল্লী
June 7th, 2017 at 7:14 pm
ক্রেতাশূন্য মিরপুরের বেনারসি পল্লী

এম কে রায়হান, ঢাকা: মিরপুর বেনারসি পল্লীর ২ নম্বর গেট পেরুলেই কয়েকটি ঝলমলে দোকান। প্রতিটি দোকানের সামনে জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে কিছু কিশোর চিৎকার করে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিশোররা সবাই কোনো না কোনো দোকানের সেলসম্যান।

বাহারি পণ্যের সম্ভার সাজিয়ে দোকানিরা বসে আছেন, চেয়ে আছেন ক্রেতার অপেক্ষায় তীর্থের কাকের মতো! কিন্তু ক্রেতা সমাগম নেই বললেই চলে। দেড় শতাধিক শাড়ির দোকানের এই মার্কেটের হাতেগোনা কয়েকটি দোকান ছাড়া পুরো পল্লী যেন খাঁ খাঁ করছে!

দশম রোজা পেরিয়ে গেলেও এখনো জমে ওঠেনি রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মিরপুরের বেনারসি পল্লী, আর এ নিয়ে হতাশ এখানকার ব্যবসায়ীরা। এমনকি স্বাভাবিকের তুলনায়ও কম বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন বিক্রেতারা।

অথচ এক সময় এই বেনারসি পল্লী ক্রেতার পদভারে মুখর থাকত বছরব্যাপী। আর ঈদ-উৎসবে ভিড় বাড়ত অনেক। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সেইসব অতীতের মিল নেই বললেই চলে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুপক বেনারসি হাউস এর সত্ত্বাধিকারী বাবুল আহমেদ নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘দুই বছর ধরে ঈদে বাজারের এমন অবস্থা। আর এবারের অবস্থা আরও শোচনীয়।’ ক্রেতা কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখন ভারতে যাওয়া অনেক সহজ এবং ওখান থেকে শাড়ি আনাও খুব সহজ। তাই অনেক ক্রেতা সরাসরি শাড়ি আনছেন ভারত থেকেই। আর এবার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য বেনারসি পল্লীর প্রথম সড়কটি বন্ধ করে দেয়ায় ক্রেতা আরো কমেছে।’

সিক্লসিটি বেনারসি হাউসের ম্যানেজার নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘এখানে যেহেতু বিয়ের আইটেম বেশি, তাই বিয়ের মৌসুমগুলোতেই বেশি বিক্রি হয়। যেসব মার্কেটে একসাথে সব কেনাকাটা করা যায় ঈদের সময় ওইসব মার্কেটে ভিড় বেশি হয়। তবুও প্রতিবার যা বিক্রি হয় এবার তার এক ভাগও হয়নি।’

ঈদ উপলক্ষে দোকানিরা নিজস্ব কারখানায় বেনারসি শাড়ি তৈরির পাশাপাশি মুম্বাই, দিল্লি ও দেশের বিভিন্ন এলাকার থেকে শাড়ি, কাতানের মধ্যে অপেরা, মিনা, দুলহান, সাটিং, দেশি ও ভারতীয় লেহেঙ্গা ধুপিয়ানসহ বিভিন্ন শাড়ির সমাহার ঘটিয়েছেন।

দেশি লেহেঙ্গা ৫-১০ হাজার টাকায়, ভারতীয় লেহেঙ্গা ১০-১৮ হাজার টাকায়, পিওর কাতান ১০ হাজার টাকার বেশি মূল্যে, আর্টিফিসিয়াল কাতান পনেরশ’ থেকে ১০ হাজার টাকায়, বিয়ের বেনারসি সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা থেকে প্রায় লাখ টাকার শাড়ি রয়েছে এখানে।

ক্রেতা কম প্রসঙ্গে হাজী মনসুর রহমান নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘এক সময় এখানে একটা প্রাণ ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত। ঈদের আগে রোজার মাসে পল্লীর প্রবেশপথেই ক্রেতার চাপে যানজট লেগে যেত। এখন সে অবস্থা নেই। এর জন্য এখানকার ব্যবসায়ীরাই দায়ী। কারণ অসাধু অনেক ব্যবসায়ী ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত জর্জেট, নেট ও ক্যাটালগ শাড়ি ‘দেশি শাড়ি’ বলে গছিয়ে দিত সরল ক্রেতাদের হাতে। দাম নিয়েও করত বিবিধ প্রতারণা। এসব কারণেই এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ক্রেতারা।

সম্পাদনা: জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ


স্থানীয় সাংসদের আশ্বাসে ব্যবসায়ীদের অবরোধ প্রত্যাহার

স্থানীয় সাংসদের আশ্বাসে ব্যবসায়ীদের অবরোধ প্রত্যাহার


বরিশালে সরস্বতী পূজায় নানা আয়োজন

বরিশালে সরস্বতী পূজায় নানা আয়োজন


‘নেতাকর্মীদের কারাগা‌রে রে‌খে নির্বাচন হ‌বে না’

‘নেতাকর্মীদের কারাগা‌রে রে‌খে নির্বাচন হ‌বে না’


পোশাকশিল্পে সবচেয়ে কম মজুরি পায় বাংলাদেশের শ্রমিকরা

পোশাকশিল্পে সবচেয়ে কম মজুরি পায় বাংলাদেশের শ্রমিকরা


সিলেটে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে, ইজতেমাফেরত চারজন নিহত

সিলেটে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে, ইজতেমাফেরত চারজন নিহত


ঢাবি সিনেটের ২৪ জনই আওয়ামীপন্থী

ঢাবি সিনেটের ২৪ জনই আওয়ামীপন্থী


ফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রাখলো শ্রীলংকা

ফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রাখলো শ্রীলংকা


সরস্বতী পূজা সোমবার

সরস্বতী পূজা সোমবার


মাত্রাতিরিক্ত ফেসবুক চালনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান মেননের

মাত্রাতিরিক্ত ফেসবুক চালনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান মেননের