Tuesday, March 21st, 2017
গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে তৎপরতা শুরু
March 21st, 2017 at 7:28 pm
গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে তৎপরতা শুরু

ঢাকা: বাঙালী জাতির ইতিহাসের নৃশংস, ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় দিন ২৫ মার্চে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ।

এরইমধ্যে এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতর ও জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পাঠানো হয়েছে। তাদের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পর সরকার এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

মঙ্গলবার কোস্টগার্ডের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘যেহেতু জাতিসংঘ ২০১৫ সাল থেকে ৯ ডিসেম্বর গণহত্যা দিবস পালন করে আসছে, তাই ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি হবে না। তবে সেই কালরাতে যে গণহত্যা হয়েছিল সে ব্যাপারে আমরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছি।’

এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জাতিসংঘে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো দেশগুলোর পার্লামেন্টের স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করবো আমরা।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সময় খুব কম, তারপরও এবার যাতে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো ২৫ মার্চকে বিশেষভাবে পালন করতে পারে সেটাকে আমরা লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছি। সেজন্য বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে গণহত্যাবিষয়ক তথ্য-উপাত্ত পাঠানো হচ্ছে। সে অনুযায়ী মিশনগুলো তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে মুক্তিযুদ্ধে যেসব দেশ আমাদের সমর্থন দিয়েছিল, সে দেশগুলোর পার্লামেন্ট বা আইনসভায় ২৫ মার্চের স্বীকৃতি আদায়। আশা করি, এসব বন্ধু দেশ আমাদের পাশে থাকবে। তাদের সমর্থন পেলে অন্য দেশগুলোকে বিষয়টি নিয়ে সংবেদনশীল করা সহজ হবে।’

শাহরিয়ার আলম আরো বলেন, ‘৪৬ বছর আগের সেই গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টাকালে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। ১৯৭১ সালে সব রাষ্ট্রের অবস্থান এখনকার মতো ছিল না। তাই এখনও কোনো কোনো রাষ্ট্র বিরোধিতা করতে পারে। তবে যত বেশি সম্ভব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ে আমরা চেষ্টা করবো।’

প্রসঙ্গত সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ২৫ মার্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। এর আগে গত ১১ মার্চ পার্লামেন্টের অধিবেশনে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণার ব্যাপারে জাসদের সাংসদ শিরিন আখতারের প্রস্তাবটি পাস হয়।

প্রস্তাবটি পাসের বিষয়ে সংসদে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বর্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হোক। আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক।

গ্রন্থনা: প্রীতম, সম্পাদনা: সজিব


সর্বশেষ

আরও খবর

জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও তার প্রেমিকারা

জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও তার প্রেমিকারা


‘ধনীরা এদেশে যুদ্ধ করেনি’

‘ধনীরা এদেশে যুদ্ধ করেনি’


স্বাধীন দেশের পূর্ণ সুফল পায়নি জনগণ

স্বাধীন দেশের পূর্ণ সুফল পায়নি জনগণ


মকবুল হোসেনের সম্মুখ যুদ্ধের যত কথা

মকবুল হোসেনের সম্মুখ যুদ্ধের যত কথা


‘প্রয়োজন হলে আবার যুদ্ধে নামবো’

‘প্রয়োজন হলে আবার যুদ্ধে নামবো’


বিভীষিকার প্রথম শিকার রাজারবাগ

বিভীষিকার প্রথম শিকার রাজারবাগ


কী ঘটেছিল সেই কালরাতে?

কী ঘটেছিল সেই কালরাতে?


যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধুকে

যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধুকে


‘গণহত্যা দিবস আরো আগেই ঘোষণা করা উচিৎ ছিল’

‘গণহত্যা দিবস আরো আগেই ঘোষণা করা উচিৎ ছিল’


ভয়াল ২৫ মার্চ: জাতীয় গণহত্যা দিবস

ভয়াল ২৫ মার্চ: জাতীয় গণহত্যা দিবস