Saturday, October 21st, 2017
‘ছেলেরা পারলে আমরা পারবো না কেন?’
October 21st, 2017 at 5:42 pm
‘ছেলেরা পারলে আমরা পারবো না কেন?’

এম কে রায়হান, ঢাকা: বাংলাদেশি নারীরা এখন আর ঘরের পণ্য নয়। তারা এখন আর সীমাবদ্ধ নয় ঘরের কাজে। তারা শুধু ঘরের বাইরেই যায়নি, নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। আবার অনেকে সমাজে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গার্মেন্টস কর্মী হতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের একেবারে শীর্ষ পদে নারীদের অংশগ্রহণ এখন আর নতুন কিছু নয়। সবখানেই তারা দেখিয়ে দিচ্ছেন দক্ষতার দিক থেকে পুরুষের চেয়ে তারাও কোনো অংশে কম নয়।

সব কর্মক্ষেত্রে তাদের দেখা মিললেও রিকশা চালক হিসেবে তাদের নাম আগে কখনো শোনা যায়নি। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে। রিকশা চালিয়ে তারা নিজেরা নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় এসব নারী রিকশা চালকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে ইদানিং।

এমনই এক নারীর নাম ফুলেসা বেগম। জীবিকার তাগিদে গিয়েছিলেন ওমান। সেখানে ২৫ লাখ টাকাও আয় করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে এসে সব টাকা ব্যয় হয়ে যায় অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামীও মারা যায় এবং সাথে চলে যায় ফুলেসা বেগমের সর্বস্বও। চাইলেই কোনো খারাপ পথ বেছে নিতে পারতেন তিনি, কিন্তু তিনি তা করেননি। বেছে নিয়েছেন সংগ্রামের পথ, হয়েছেন রিকশাওয়ালা।

ফুলেসা বেগমের সাথে কথা হয় নিউজনেক্সটবিডির এই প্রতিবেদকের। তিনি তার জীবনের সেই দিনগুলোর কথা এবং বর্তমান অবস্থা নিয়ে নানা কথা বলেছেন যা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো।

এনএনবিডি: রিকশা চালানোকে কেন পেশা হিসেবে বেছে নিলেন?

ফুলেসা বেগম: আমি ৭ বছর বিদেশে ছিলাম। সেখান থেকে যা কামাই করেছিলাম তা সব স্বামীর চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। স্বামীও মারা যায়। অনেক খারাপ কাজের প্রস্তাব আসে আমার। কিন্তু আমি ভাঙলেও মচাকাইনি কখনও। আমাদের এখানেই আরেকটি মেয়ে আছে সুমি। তাকে দেখেই নিজেকে শক্ত করে বেছে নিয়েছি রিকশা চালানোর পথ। আর এই কামাই সম্পূর্ণ হালাল। সৎ পথ।

এনএনবিডি: রিকশা কি নিজের? নাকি ভাড়া চালান?

ফুলেসা বেগম: না ভাড়া চালাই। নিজের টাকায় রিকশা কেনার সামর্থ্য এখনও হয় নাই।

এনএনবিডি: প্রতিদিন কত টাকা জমা দেন আর কত টাকা আপনার আয় হয়?

ফুলেসা বেগম: প্রতিদিন ৩০০ টাকা জম দেয়া লাগে গ্যারেজে। আর আয় হয় একেকদিন একেক রকম। কোনদিন ৫০০ টাকা, কোনদিন ৬০০ মাঝে মাঝে ৮০০ টাকাও হয়।

এনএনবিডি: রিকশা চালানোর সময় কখনো কি মনে হয়েছে যে আপনি একজন নারী?

ফুলেসা বেগম: না, এমন মনে করলে তো হবে না। আমি যদি রোডে নামি, তাহলে আমাকে নারী বোঝা গেলে তো চলবে না। যেহেতু রিকশা চালাই তাই আমাকে পুরুষের মতই কাজ করতে হবে। আর ছেলেরা পারলে আমরা পারবো না কেন?

এনএনবিডি: রিকশা চালানোর সময় অন্যান্য রিকশাওয়ালাদের সাথে কোনো সমস্যা হয়েছে?

ফুলেসা বেগম: না, তেমন হয়না। তবে সবাই তো আর সমান না। একটু উনিশ-বিশ আছেই।

এনএনবিডি: প্রথম দিনে রিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ফুলেসা বেগম: প্রথম দিনে রিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল না। সবাই কেমন ভাবে যেন তাকাচ্ছিল। নিজের কাছেও খারাপ লাগছিল। তবে মনকে শক্ত করেছিলাম এই বলে যে আমাকে পারতেই হবে।

এনএনবিডি: সব যাত্রীরা কি উঠতে চায় আপনার রিকসায়?

ফুলেসা বেগম: কিছু কিছু প্যাসেঞ্জার আছে, ভয়ে উঠতে চায় না। ভাবে যে, মেয়ে মানুষ, অ্যাক্সিডেন্ট করে কি না। অনেকেই আবার ভয়ে ভয়ে উঠে। আর যারা জানে, তারা ঠিকই উঠে।

এনএনবিডি: রিকশা চালান তো অনেক পরিশ্রমের কাজ। আপনার কষ্ট হয়না এ কাজ করতে?

ফুলেসা বেগম: পরিশ্রম তো করতে হবেই। মাঝে মাঝে তো কষ্ট হয়ই, কিন্তু কিছু করার নাই।

এনএনবিডি: আপনি কী চান যে, আরো মেয়ে রিকশা চালাক?

ফুলেসা বেগম: যদি কেউ আমার মতো সাহসী হয়, তাহলে সে চালাতেই পারে। খারাপ কোনো কাজ করা থেকে রিকশা চালানোও অনেক ভালো।

এনএনবিডি: রিকশা চালানোর জন্য কী রকম সাহস থাকা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

ফুলেসা বেগম: রোডে নামতে হলে যতটুকু থাকা দরকার তা থাকলেই হয়।

এনএনবিডি: আপনার মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন কী?

ফুলেসা বেগম: আমার স্বপ্ন হলো আমার মেয়েকে আমি ডাক্তার বানাবো। মানুষের মত মানুষ করবো। অর সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবো।

এনএনবিডি: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ফুলেসা বেগম: আমি এখন একটা ভাড়া করা রিকশা চালাই। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে মেয়ের লেখাপড়া, খাওয়া-দাওয়া, রুম ভাড়া দিয়েই চলে যায়। নিজের একটা রিকশা থাকলে একটু ভালো ভাবে নিশ্চিন্তে চলতে পারতাম। আর মেয়েকে ডাক্তার করাই আমার একমাত্র পরিকল্পনা।

প্রকাশ: জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 

রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 


শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সদরঘাট

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সদরঘাট


কঠিন মনের নারী সুমি বেগম!

কঠিন মনের নারী সুমি বেগম!


পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি

পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি


ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা

ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা


‘ভাই আমাকে মেরে ফেলেন’

‘ভাই আমাকে মেরে ফেলেন’


জনগণের কাছে পৌঁছতে ত্রাণকে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি!

জনগণের কাছে পৌঁছতে ত্রাণকে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি!


ইসি’র সংলাপে সারা দিবে ২০ দলীয় জোট

ইসি’র সংলাপে সারা দিবে ২০ দলীয় জোট


প্রস্তুত হচ্ছে গাবতলী পশুর হাট

প্রস্তুত হচ্ছে গাবতলী পশুর হাট


ডাস্টবিন নেই, পরে আছে লোহার দণ্ড

ডাস্টবিন নেই, পরে আছে লোহার দণ্ড