Friday, January 6th, 2017
বাণিজ্য মেলায় জনস্রোত
January 6th, 2017 at 6:56 pm
বাণিজ্য মেলায় জনস্রোত

রিজাউল করিম, ঢাকা:

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার মাস ব্যাপী বাণিজ্য মেলায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। এদিন সকাল থেকেই বিপুল জনস্রোতে নামে মেলা প্রাঙ্গনে। দুপুরের পর থেকে উড়োজাহাজ মোড়ে রোকেয়া সরণির মুখ থেকে আইডিবি ভবন পর্যন্ত পুরো সড়ক যানবাহন আর মানুষের ভিড়ে প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। মেলায় প্রবেশপথ আর টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনে ছিল দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি। বেলা যত বেড়েছে, মানুষের সমাগমও তত বেড়েছে। ছুটির দিনে বেড়াতে যাওয়ার মনোভাব নিয়ে সপরিবারে লোকজন মেলার পথ ধরেছিলেন। তাই এত ভিড়।

শুধু যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে লোকজন মেলায় এসেছেন তা নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও লোকজন এসেছেন মেলায় বেড়ানো আর কেনাকাটার জন্য। যেমন মুসলিমা আক্তার মৌ। যশোর থেকে সে ঢাকায় এসেছেন বনশ্রী নানার বাসায়। শুক্রবার সে মেলায় আসেন বন্ধু রেজা ও বড় ভাই মোয়াজ্জেম হোসাইন মঞ্জুর সঙ্গে। মেলা থেকে বের হওয়ার সময় দেখা হয় তাদের সঙ্গে। মুখে তাদের স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ। তবে ক্লন্তির ভিতরে আনন্দের প্রকাশ কম ছিল না।

জানতে চাইলে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে মুসলিমা আক্তার মৌ প্রাণ খোলা এক হাসি দিয়ে বলেন, ‘আমরা মেলায় এসেছি মুলত ঘুরতে। এখানে এসে সারাটাদিন খুবই ভাল লেগেছে। অনেক কিছুই দেখেছি। মেলায় এমন কিছু পণ্য তোলা হয়েছে যা আমি জীবনেও দেখিনি। নতুন নতুন কিছু পণ্যের সঙ্গে পরিচিত হলাম। ইচ্ছা করছে আরো একদিন আসতে। কারণ, একই ছাদের নিচে বিপুল পণ্যের সমাহার আর কোনো জায়গায় মিলবে না। কিন্তু যশোরে ফিরে যাওয়ার কারণে এবার আর মেলায় আসা হবে না। তাই একটু আফসোস নিয়েই যেতে হচ্ছে।’

এদিকে মেলায় ঘুরে দেখা গেল, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো অনেক দোকানের সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়নি। বিশেষ করে ইরান, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক এসব বিদেশি প্যাভিলিয়নে এখনো মেঝেতে টাইলস বসানো, পণ্য সাজানোর জন্য তাক করতে হাতুড়ি-পেরেকের ঠুকঠাক চলছে। বড় বড় প্যাকিং বাক্স খুলে কারুকাজখচিত আসবাব নামানো হচ্ছে এসব বিদেশি প্যাভিলিয়নে। তবে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলের সাজসজ্জা শেষ হয়েছে। লোকসমাগমও প্রচুর।

মেলার দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, নির্দিষ্ট কোনো কিছু কেনার পরিকল্পনা নিয়ে তারা আসেননি। মূল উদ্দেশ্য বেড়ানো। নতুন কী জিনিসপত্র এল, দরদাম কেমন? এসব যাচাই-বাছাই করা। পছন্দ হলে কিছু কেনাকাটা করা। এ রকমই জানালেন যাত্রাবাড়ী থেকে আসা দুই ভাই আমিনুল ও সাকিব। তাদের একটি ছোট প্যাকেজিং কারখানা আছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মেলায় এসেছেন জুমার নামাজ আদায় করে। এনামুল ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন একটি ব্লেজার। রহমান কিছু কেনেননি। পরিবারের নারীরা কিনেছেন সবজি কাটা ও মাংস কিমা করার একটি সেট। বাচ্চাদের কিনে দিয়েছেন খেলনা। মেলায় ঘুরেফিরে সন্ধ্যায় হাজির বিরিয়ানির স্বাদ নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছিলেন।

যত লোকসমাগম হয়েছে, সেই তুলনায় দেখা গেল কেনাকাটা কম। প্রতিটি স্টলেই বিশেষ মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি। ‘একটি কিনলে দশটি ফ্রি এমনও ঘোষণা আছে। মেলায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ অফার দিচ্ছে ২০৮ নম্বর স্টলটি। এমএস এন্টারপ্রাইজের ওই স্টলে লেখা আছে একটি কিনলে ১০টি ফ্রি। স্টলটি ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে একটি ননস্টিক ফোর পিস কিনলে এর সঙ্গে আরও নয়টি জিনিস দেয়া হবে। এজন্য দাম গুনতে হবে সাড়ে তিন হাজার টাকা। এছাড়া ওভেন ও ইলেকট্রিক চুলা কিনলেও এর সঙ্গে দেওয়া হবে আরও নয়টি পণ্য। প্রেসার কুকার, ব্লেন্ডার, চামুচ সেট একটি, ইগ বিটার, কফি মেকার, ফ্লাক্স, এলইডি লাইট ও রুটি মেকারসহ পছন্দের জিনিসগুলো প্যাকেজে নিতে পারবেন ক্রেতারা।

দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি রুবেল হোসেন বলেন, মানুষের কাছে নতুন পণ্যের পরিচিতি করাতে এমন অফার দেয়া হয়েছে। এতে লাভের পরিমাণ কম হলেও বিক্রি বেশি হচ্ছে। রুবেল আরও জানায়, বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে আমাদের। প্রতি প্যাকেজের দাম সাড়ে তিন হাজার থেকে ২২ হাজার পাঁচশত টাকা।

তবে মেলায় সারাক্ষণ ভিড় লেগেই আছে সবজি কাটার সামগ্রীর স্টলগুলোর সামনে। বিক্রেতারা রাশি রাশি আলু, গাজর, পেঁয়াজ, মুলা, পাতাকপি ইত্যাদি হরেক রকম আকারে কেটে ও কুচি কুচি করে দেখাচ্ছেন অতি দ্রুত কাটাকুটির কেরামতি। স্বাভাবিকভাবেই নারী দর্শকেরাই আগ্রহী বেশি। এসব কাটাকুটির সেট বিক্রি হচ্ছেও যথেষ্ট। পুরো সেটের দাম এক হাজার টাকা।

মেলার শুক্রবার ছুটির দিনে মানুষের চাপে চলাফেরা কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল। এই নিয়ে অসন্তুষ্টি জানালেন স্কুল শিক্ষক এসকেন্দার আলী। তিনিও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এসেছিলেন মেলায় মূলত বেড়ানোর উদ্দেশ্যেই। বললেন, ‘শুক্রবার ভিড় হবে ভেবেছিলাম, তবে এত লোক হবে ভাবিনি। দুই সারি দোকানের ভেতরে চলাচলের যে জায়গা রাখা হয়েছে, তা আরও বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতে মেলা কর্তৃপক্ষের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।’

ঢাকা মহানগরে জনসংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষের বিনোদনের সুযোগ-সুবিধাও এই নগরে পর্যাপ্ত নয়। বাণিজ্য মেলার মতো আয়োজনে তাই ছুটির দিনে মানুষের ঢল নামে। গদবাঁধা জীবনের একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে এসে কিছুটা অন্য রকম সময় কাটিয়ে ফেরেন তাঁরা। মেলার পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইললে বাণিজ্য মেলার সদস্যসচিব রেজাউল করিম বলেন, ‘আসলে মেলায় ধুলাবালু বন্ধে প্রতিদিনই পানির ছিটা দেয়া হয়। আজ শুক্রবারও দেয়া হয়েছে। তবে আজ দর্শনার্থীর চাপ বেশি হওয়ায় পানি অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে। তাই ধূলাবালু একচু বেশি হয়েছে। কি আর করা এখন দর্শনার্থীর ভীড়ে আবার পানি দেয়ারও তো সুযোগ নেই। সবার গায়ে পানি লেগে যাবে।’

সম্পাদনা: ইয়াসিন


সর্বশেষ

আরও খবর

শুক্রবার ঐতিহাসিক বৈঠকে কিমকে স্বাগত জানাবেন মুন    

শুক্রবার ঐতিহাসিক বৈঠকে কিমকে স্বাগত জানাবেন মুন    


ইসরায়েলি সেনার গুলিতে আহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের মৃত্যু

ইসরায়েলি সেনার গুলিতে আহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের মৃত্যু


যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে মুসলিম দেশগুলির প্রতি আহ্বান  

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে মুসলিম দেশগুলির প্রতি আহ্বান  


রাজস্ব জালে সোয়া ৫ লাখ নতুন করদাতা

রাজস্ব জালে সোয়া ৫ লাখ নতুন করদাতা


মোবাইলে মৃত্যু

মোবাইলে মৃত্যু


মৌলভীবাজারে আগুনে পুড়ে ঘুমন্ত মা-মেয়ের মৃত্যু

মৌলভীবাজারে আগুনে পুড়ে ঘুমন্ত মা-মেয়ের মৃত্যু


স্ত্রী-সন্তানের পর চলে গেলেন বাবাও

স্ত্রী-সন্তানের পর চলে গেলেন বাবাও


এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে’ ৪ কোটি টাকা জমা দেয়া দু’জনকে দুদকে তলব

এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে’ ৪ কোটি টাকা জমা দেয়া দু’জনকে দুদকে তলব


রাজধানীতে হঠাৎ ঝড়ের আঘাত, বিপাকে ঘরমুখো মানুষ

রাজধানীতে হঠাৎ ঝড়ের আঘাত, বিপাকে ঘরমুখো মানুষ


গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ফাহিম মাসরুরকে

গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ফাহিম মাসরুরকে