Saturday, March 25th, 2017
জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও তার প্রেমিকারা
March 25th, 2017 at 10:24 pm
জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও তার প্রেমিকারা

অম্লান দেওয়ান: পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী একদিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চালাচ্ছিল গণহত্যা, নির্যাতন, খুন, লুন্ঠন, ধর্ষণসহ পৈশাচিক বর্বরতা।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের করাচি, লাহোর, রাওয়ালপিণ্ডিতে ইয়াহিয়া বুঁদ হয়েছিলেন মদ আর নারীর নেশায়। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে ইয়াহিয়ার। ৪৬ বছর পর আজো ২৫ মার্চ কিংবা ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয় ইয়াহিয়ার অজানা অধ্যায়ের নানান কাহিনী। অসম্ভব অবিশ্বাস্য সে সব লোমহর্ষক ঘটনা। ইয়াহিয়ার বিকৃত যৌনতা যেকোনো কল্প কাহিনীকেও হার মানায়। চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান এই বর্বরদের হত্যা করতে হবে শিরোমানে বিখ্যাত চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেছিলেন। ইয়হিয়ার চরিত্রকে অবলম্বন করেই। কারণ তিনিই ছিলেন বাঙলা ও বাঙালি নিধন চক্রান্তের নাটের গুরু।

একদিকে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের উপর চলছিল বর্বর নৃশংস আক্রমন অন্যদিকে ইয়াহিয়া মদ আর নারীর নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন করাচি, লাহোর, এলাহাবাদ কিংবা রাওয়ালপিণ্ডিতে হেরেমখানায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একের পর এক পরাজয়ের খবর তাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, বিষাদ আর হতাশ করে তুলছিলো। আর এ ‘দুঃসহ’ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি জেনারেল ইয়াহিয়া দিনরাত মদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন। আর নারীতো তার মূল উপজীব্য।

যুদ্ধে পরাজয়ের কারণ উদঘাটনে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো হামুদুর রহমান কমিশন গঠন করেন। কমিশনের তৈরি করা বিস্তারিত প্রতিবেদনে ৭১ এর যুদ্ধ চলাকালে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়। এর অংশ বিশেষ বাংলায় তরজমা করলে যা দাঁড়ায় তা হলো; “… আমাদের মহামান্য সাবেক রাষ্ট্র প্রধান যে কেবল প্রকাশ্যে নারীদের সঙ্গে মেলামেশা করেই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাতেন তাই নয়, প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেই মদ্যপ অবস্থায় বুঁদ হয়ে থাকতেন দিনের বেশির ভাগ সময়।”

২০০১ সাল পর্যন্ত জনসমক্ষে আসে এ রিপোর্ট। রিপোর্টে জেনারেল ইয়াহিয়া খান এবং আকলিমা আক্তার (জেনারেল রাণীখ্যাত) এর ‘বিশেষ সম্পর্কর বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এতে ইয়াহিয়া আকলিমের সম্পর্ককে “ইতিহাসের কালো অধ্যায়” হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

এতে বলা হয়, আমাদের মহামান্য প্রেসিডেন্ট মদ আর নারীর প্রতি অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। তার বান্ধবী যারা ১৯৭১ সালের বিভিন্ন সময় তার কাছে যাওয়া আসা করতেন তাদের একটি দীর্ঘ তালিকা (প্রায় ৫০০ জনের অধিক) হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন পাকিস্তানের আইজিপি পত্নী বেগম শামীম, এ এন হোসেন, বেগম জুনাগাদ, নূরজাহান বেগম, আকলিমা আক্তার রাণী, করাচির ব্যবসায়ী মনসুর হিরজির স্ত্রী, নাজলি বেগম, ঢাকার শিল্পপতি লিলিখান, ঢাকার আরেক সুন্দরী ধনকুবের লায়লা মুজামিমল, অভিনেত্রী শবনম, অভিনেত্রী সাগুফতা, নাগিমা, তারানা এবং আরো অন্যান্যরা। উচ্চ পর্যায়ের বেশ কিছু সেনা কর্মকর্তারা তাদের সুন্দরী বান্ধবী বা স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্ট বাসভবন কিংবা রংমহলে আসতেন। মদ্যপান করতেন আর স্ত্রী কিংবা বান্ধবীকে উপটোকন হিসেবে রেখে যেতেন ইয়াহিয়ার জন্য। আর ডিনারের পরবতী অধ্যায়ের জন্য ইয়াহিয়া বেছে নিতেন তার পছন্দের কোনো এক সৌভাগ্যবতীকে। এর বিনিময়ে তাদের স্বামীরা পেতেন প্রোমোশন কিংবা বিশেষ সুবিধা। জেনারেল নাসিম, হামিদ, লতিফ, খুদাদ, শাহিদ, ইয়াকুব, রিয়াজ, পরীজাদা, মিঞা এবং আরো অনেকের স্ত্রীরা ছিলেন ইয়াহিয়ার আসরের নিয়মিত আমন্ত্রিত।

তবে সবাইকে ছাপিয়ে যার নামসব জায়গায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় তোলে তিনি হলেন জেনারেল কুইনখ্যাত আকলিমা আক্তার। এই আকলিমাই ইয়াহিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের কোকিলকণ্ঠী সুন্দরী গায়িকা নূরজাহারকে। এক পর্যায়ে নূরজাহানই হয়ে অঠেন ইয়াহিয়ার পিয়ার বন্দেগীর নায়িকা।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যখন যুদ্ধের শেষ দিকে পিছু হাটতে লাগলো ইয়াহিয়া তখন প্রায়ই লাহোরে চলে যেতেন। থাকতেন গর্ভনর হাউজে। আর তাকে সঙ্গ দিতেন পাকিস্তানি সঙ্গিত শিল্পী মালিকা-ই-তারনুম নূরজাহান। দিনে তিন থেকে চারবারও গর্ভনর হাউসে আসতেন নূরজাহান। একেক বার একেক পোশাকে। ভিন্ন সাজে। নানা রঙে। রাত কাটাতেন ইয়াহিয়ার সঙ্গে একই কক্ষে।

কুদা কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, জেনারেল রাণী (কুইন) খ্যাত আকলিমা আক্তার আইজি প্রিজন হাফিজ কাশিমকে বলেন, ‘আমি নিজের চোখে দেখলাম জেলারেল ইয়াহিয়া বেগম নূরজাহান এর নগ্ন শরীরের সব স্থানে ঝর্ণার ধারার মতো মদ ঢালছেন এবং তা চেটে চেটে খাচ্ছেন।’

নূরজাহান এর কাছে পাকিস্তানি ট্যাক্স ডিপার্টেমেন্ট কয়েক হাজার রুপি ট্যাক্স আদায় করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা দিতে নারাজ ছিলেন নূরজাহান। তাই ইয়াহিয়া খানের অনুগ্রহ চেয়ে জেনারেল রাণীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন নূরজাহান।

পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রপত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী আকলিম আক্তারই ছিলেন প্রেসিডেন্টের উপর প্রভাব বিস্তারকারী নারীদের মধ্যে সর্বশীর্ষে। তার এ বিশিষ্ট ক্ষমতার জন্য তিনি দি “জেনারেল কুইন” উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালের শেষ পর্যন্ত এ আকলিম পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করেন। পাকিস্তানের সামরিক বেসামরিক আমলা থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা ইয়াহিয়া খানের করুণা লাভের আশায় আকলিমের দুয়ারে ধর্ণা দিতেন। কিন্তু কে এই আকলিমা? কি তার পরিচয়? কিভাবেইবা তার উত্থান?

নানা বইপত্র, সংবাদপত্র ঘেটে জানা যায়, পাকিস্তানের গুজরাট শহরে স্বচ্ছল কিন্তু রক্ষণশীল এক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন আকলিম। বিয়ে হয় তার দিগুণ বয়সী এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে। বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর তিনি পুলিশ কর্তার ঘরে সুগৃহীনীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ছয় সন্তানের জন্ম দেন। বিবাহিত জীবনে এই পুরো সময়ে একটিবারের জন্য বেপর্দা চলাফেরা করেনি। সব কিছু ভালোই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎই ঘটলো বিপর্যয়। ১৯৬৩ সালের কোনো এক বিকালে স্বামীর সঙ্গে ছুটিতে মুরি পর্বতে বেড়াতে যান তিনি। স্বামীর হাত ধরে পাইনগাছের নিচ দিয়ে হাটছিলেন। হঠাৎ আসা এক ঝড়ো হাওয়া উড়িয়ে নিলো আকলিমের মুখের পর্দার একটি অংশ। আর তা ভেসে যাচ্ছিলো বাতাসে। কিন্তু সেই বোরখা তিনি উড়ে যেতে দিলেন। খুব স্বাভাবিক কায়দায় শরীরের অন্যান্য অংশ থেকেও খুলে নিলেন বোরখা। স্ত্রীর অর্বাচীনের মতো আচরণে ক্ষুব্ধ হলেন পুলিশ কর্তা। উত্তরে আকলিমা বোরকা ছুড়ে দিলেন স্বামীর দিকে। বললেন, তুমিই এই বোরখা নিয়ে থাকো, আমি চললাম। ছয় সন্তান নিয়ে অজানা গন্তব্যে যাত্রা শুরু হলো আকলিমের। আকলিম শেষ আশ্রয় হিসেবে তার বাবা মার সাহায্য চাইলেন। তারা পরামর্শ দিলেন স্বামীর কাছে ফিরে যেতে। কর্পদকহীন, কর্মহীন আকলিম কিন্তু আর ফিরে গেলেন না। তিনি এক ভিন্ন পরিকল্পনা করলেন।

সখ্যতা গড়ে তুললেন ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে। করাচী, রাওয়ালপিন্ডি আর লাহোরের নাইট ক্লাবে যাতায়াত শুরু করলেন। যেসব ক্লাবেই যাতায়াত রাজনৈতিক, সেনাকর্মকর্তা এবং ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের। স্ত্রীদের সঙ্গে বনিবনা নেই এমন সব ব্যক্তিদের টার্গেট করলেন। তাদের জন্য আয়োজন করতে লাগলেন ‘ড্যান্স পার্টির’। আর সেসব পার্টিতে নিয়ে আসলেন পাকিস্তানের সুন্দরী তরুণীদের, যারা অর্থাভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, অর্থাভাবে জর্জরিত। তাদের কাজ ছিল পাকিস্তানি সামরিক-বেসামরিক আমলাদের মনোরঞ্জন।

পাকিস্তানের বিখ্যাত দুই রেড লাইট জোন করাচির নেপিয়ার রোড এবং লাহোরের হিরা মন্ডিতে এ ব্যবসা চালু থাকলেও তিনি রাওয়ালপিন্ডির একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার ব্যবসা শুরু করেন। এখানেই পাকিস্তানের ভবিষ্যত একনায়ক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেখা হয়। পরবর্তীতে তার সঙ্গে অত্যান্ত ঘনিষ্ট হয়ে ওঠেন আকলিম।

একজন নিয়মিত মদ্যপায়ী এবং নারীপ্রেমী ইয়াহিয়া ১৯৬৭ সালের কোনো এক সময় আকলিমের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু ইয়াহিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও আকলিম তার বন্ধুদের বলে বেড়াতেন তারা কেবলই বন্ধু। ১৯৬৮ এবং ১৯৬৯ সালে বামপন্থী আন্দোলনের মুখে জেনারেল আইয়ুব খান রাষ্ট্র প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি ইয়াহিয়া খানকে দেশের নতুন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে নিয়োগ দেন। এ সময় আকলিম ‘জেনারেল রানী’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন গণমাধ্যমে। ধারণা করা হয়, ইয়াহিয়ার নারী এবং অন্যান্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আকলিম তাকে বিভিন্ন নীতিগত ও রাজনৈতিক বিষয়ে পরামর্শ দিতে শুরু করেন। ওই সময় যারা তার সঙ্গে দেখা করেছেন তারা বলেছেন তিনি রাজনৈতিক বিষয়ে ইয়াহিয়ার চাইতে বেশি আপডেট ছিলেন। এর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আমলা এবং সেনাবাহিনীর জেনারেল তার কাছে আসতেন, কেউ তাদের পক্ষে পার্টির আয়োজন করতে বলতেন অথবা জেনারেলের সঙ্গে দেখা করানোর অনুরোধ করতেন অথবা তাদের কোনো কাজ করে দিতে বলতেন। তার ক্লায়েন্টদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের অবিসংবাদিত গায়িকা এবং অভিনেত্রী নূরজাহান। কর বিভাগ তার কাছে কয়েক হাজার রুপি ট্যাক্স দাবি করে। নূরজাহান আকলিমকে অনুরোধ করেন যাতে ইয়াহিয়া এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়। আকলিম তাই করেন। জেনারেল ইনকাম ট্যাক্স বিভাগকে এ দাবি থেকে সরে আসতে বলেন এবং নূরজাহানের সঙ্গে গোপন অভিসার শুরু করেন।

জুলফিকার আলী ভট্টোর নেতৃত্বে পাকিস্তান পিপলস পার্টি ক্ষমতায় এসেই সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, আমলা এবং রাজনৈতিক নেতা যারা আইয়ুব খান এবং ইয়াহিয়ার স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন করেছিল তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করলেন। যদিও এটাই প্রচলিত যে, ভুট্টো আকলিমের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন।

ভুট্টোর শাসনকালে (১৯৭২-৭৭) আকলিম হাউজ অ্যারেস্ট এবং কারাগার এ দুয়ের মধ্যেই দিনযাপন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে আকলিমার পক্ষে বিখ্যাত আইনজীবী এস এম জাফর লড়তেন। শেষ পর্যন্ত তিনি গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্ত হলেন।

১৯৭৭ সালের জুলাই মাসে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে জেনারেল জিয়াউল হক ক্ষমতা দখলের পর আকলিম অবশেষে গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্ত হলো। কিন্তু এরই মধ্যে অর্থবৈভবের বেশিভাগই হারিয়ে ফেলেছেন আকলিমা।

আবারো কর্মফলশূন্য অবস্থায় তিনি। জানা যায় ১৯৮০’র দশকের শুরুতে কেউ একজন তাকে মাদক ব্যবসার প্রতি উৎসাহী করেন। পরে তিনি মাদক চোরাচালানের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে জেল খাটেন। কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতায় তিনি জেল থেকে মুক্ত হন এবং জিয়ার শাসনামলের শেষের দিকে ১৯৮৮ সালে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোও বাতিল করে দেয়া হয়। যদিও এরই মধ্যে তার সব ছেলে মেয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন এবং যার যার মতো জীবনযাপন করছিলেন। তবে আকলিম হয়ে পড়েন নিঃসঙ্গ, একাকী জীবনের হতাশ এক যাত্রী। ছেলেমেয়েদের আপত্তির কারণে মিডিয়া অথবা সরকারের বাইরের কারো সঙ্গে কথা বলাও ছিল নিষেধ। তিনি বন্ধুদের ত্যাগ করলেন। যদিও এটা ছিল শূন্যতা, একাকীত্ব আর নিঃসঙ্গতায় ভরা। জীবনের শেষ পর্যায়ে মরনব্যাধী ক্যান্সার বাসা বাঁধে তার শরীরে।

২০০২ সালে ৭০ বছর বয়সে নীরবে নিভৃতে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান রহস্যময়ী আকলিম।

আকলিম এবং ইয়াহিয়ার গভীর প্রনয়ের গল্প সে সময় পাকিস্তান, লন্ডনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এ প্রকাশিত হতো নিয়মিত। জুলফিকার আলী ভুট্টোর শাসনামলে তিনি সংবাদ মাধ্যমের তোপের মুখে পড়েন। বিশেষ করে পাকিস্তান পিপলস পার্টির মুখপাত্র উর্দু দৈনিক মুসাওয়াত এর। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইয়াহিয়ার সঙ্গে তাকেও অভিযুক্ত করা হয়। জুলফিকার আলী ভট্টোকে সরিয়ে ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়াউল হক ক্ষমতায় আসেন। অবশেষে আকলিম এর কঠিন অবস্থার অবসান হয়।

আকলিম আক্তার মাদক ব্যবসায় জড়িত হওয়ার অভিযোগে আবারো সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হতে শুরু করলেন। যদিও অন্যান্য মামলার মতো এ মামলাগুলোতেও তিনি নির্দোষ প্রমানিত হয়।

জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে কাজ করেছেন এমন অনেক সেনাকর্মকর্তা আর আমলাদের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থে জেনারেল রানী বা আকলিমের নাম উঠে এসেছে।

তার চরিত্র নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যবসা সফল পাঞ্জাবি চলচ্চিত্র। ‘মাদাম রানী’ নামে এ চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রে অভিনয় করেন পাঞ্জাবের সুপারহিট অভিনেত্রী আঞ্জুমান।

লেখক: অম্লান দেওয়ান, ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক


সর্বশেষ

আরও খবর

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


জেনে নিন কলার গুণাগুণ

জেনে নিন কলার গুণাগুণ


দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা

দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা


যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া

যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া


পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি

পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি


ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের

ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের


ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা


ওয়েডিং ফটোগ্রাফার এলেন খান, যার শিডিউল পাবার পর ঠিক হয় বিয়ের তারিখ

ওয়েডিং ফটোগ্রাফার এলেন খান, যার শিডিউল পাবার পর ঠিক হয় বিয়ের তারিখ


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু


কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি

কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি