Monday, March 20th, 2017
তনুর পরিবারকে হুমকি, খুনিরা আড়ালে
March 20th, 2017 at 1:02 am
তনুর পরিবারকে হুমকি, খুনিরা আড়ালে

প্রীতম সাহা সুদীপ, ঢাকা: সেই হতভাগ্য ছাত্রীর কথা মনে আছে? যার লাশ পাওয়া গিয়েছিলো কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায়। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর কথাই বলছি। দেখতে দেখতে পূর্ণ হলো তনু হত্যার এক বছর। দীর্ঘ সময়ে খুনিদের গ্রেফতার তো দূরের কথা খুনের রহস্যই উদঘাটন করতে পারেনি সিআইডি।

এদিকে সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে সিআইডি’র দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন তনুর বাবা-মা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের চুপ থাকতে বলেছেন।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করলে তিনি বলেছেন আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা একটু চুপ থাকুন। এদিকে তনুর বাবাকে একটি নাম্বার থেকে ফোন করে হুমকি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে চাকরি করতে চাইলে চুপচাপ থাকার জন্য, মিডিয়ার সঙ্গে কম কথা বলার জন্য।’

খুনিদের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমার তনুর হত্যাকারীরা কি এতোটাই শক্তিশালী যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের শনাক্ত করতে পারছে না? তাদের খুঁটির জোর কোথায়? কোন শক্তি প্রয়োগ করে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে?’

তনুর মা বলেন, ‘দেশে এতো চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন হচ্ছে, এতো অপরাধের বিচার হচ্ছে। কিন্তু আমার তনুর খুনিরা কেন গ্রেফতার হচ্ছে না। কবে এরা গ্রেফতার হবে? আর কতো আশার বাণী শুনতে হবে আমাদের? যে বা যারাই এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকুক না কেন তাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘বিচারের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাই। তিনি আমাকে যে সিদ্ধান্ত জানাবেন সেটা আমি মাথা পেতে নেব। আমি আমার কন্যা তনু হত্যার বিচার চাই, তাদের ফাঁসি চাই। আমাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বার বার আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখছি না। এতে আমি ও আমার পরিবারের সঙ্গে দেশবাসীও হতাশ।’

যদিও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তনুর মায়ের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা কাজ করছি। নভেম্বর,ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেনাবাহিনীর মহড়া হয়। ওই সময় আমরা সন্দেহভাজনদের নিয়ে কাজ করতে পারিনি। ফেব্রুয়ারিতে কিছু কাজ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘তনুর লাশের পাশে পড়ে থাকা সেন্ডেল,কলম, মোবাইল ফোন ও ব্যাগসহ কয়েকটি জিনিসের ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। রিপোর্ট পেলে আরও বেশি কাজ করা যাবে। আশা করছি দ্রুত একটা রেজাল্ট দিতে পারবো।’

কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেনের কন্যা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু ২০১৬ সালের ২০ মার্চ বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরে না আসায় তার খোঁজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাত ১০টায় ইয়ার হোসেন সেনানিবাসের ভেতরে কালো পানির ট্যাঙ্ক সংলগ্ন ঝোপ থেকে উদ্ধার করেন তনুর মরদেহ। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিভিন্ন সেনা ও গোয়েন্দা ইউনিটের লোকজন। এক সময় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক আলামত নষ্ট করে ফেলা হয়। এরপর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য। সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি মীর্জাপুরে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রথমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ময়নামতি নাজিরাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির আইসি সাইফুল ইসলাম।

এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে প্রথমে ডিবি এবং পরবর্তী সময়ে ১ এপ্রিল মামলার তদন্তের দায়িত্ব আবারও পরিবর্তন করে দেয়া হয় সিআইডিকে। গাজী মো. ইব্রাহিম নামের তদন্ত কর্মকর্তা টানা ৪ মাস ২৪ দিন মামলার তদন্ত করে নিহত তনুর পিতা-মাতা, ভাই, চাচাত বোন, চাচাত ভাই ছাড়াও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক সামরিক-বেসামরিক লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি।

ঢাকা থেকে সিআইডির সিনিয়র এসপি আবদুল কাহহার আখন্দের নেতৃত্বে একাধিকবার তদন্ত সংশ্লিষ্ট দলটি কুমিল্লায় এসে যেখান থেকে তনুর লাশ উদ্ধার হয়েছে সে স্থান পরিদর্শন, নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার নামে কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ, এমনকি মাঝে-মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করে। এভাবে কিছুদিন চলার পর ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট আবারও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়।

এবার জালাল উদ্দিন আহমেদ নামের এক এএসপি পদমর্যাদার সিআইডি পুলিশ অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনিও থেমে নেই। তদন্তভার পেয়ে তিনিও নিহতের পরিবারের সদস্যদের, সেনা অফিসার, নিহতের বন্ধু-বান্ধবসহ একাধিক লোককে জিজ্ঞাসাবাদ, ঢাকায় সিআইডি অফিসে কয়েকজন সেনা অফিসারকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপরও মামলায় নেই কোনো প্রকাশ্য অগ্রগতি। আর এভাবেই গড়িয়ে গেল হত্যাকাণ্ডের একটি বছর।


সর্বশেষ

আরও খবর

ক্রিকেটেও ‘লাল কার্ড’!

ক্রিকেটেও ‘লাল কার্ড’!


তুরস্কে মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রম থেকে ডারউইনের তত্ত্ব বাদ

তুরস্কে মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রম থেকে ডারউইনের তত্ত্ব বাদ


কাতারকে কড়া হুঁশিয়ারী আরব আমিরাতের

কাতারকে কড়া হুঁশিয়ারী আরব আমিরাতের


অবশেষে লংগদুর পাহাড়িরা সরকারি ত্রাণ নিল

অবশেষে লংগদুর পাহাড়িরা সরকারি ত্রাণ নিল


‘ঈদের পর বিএনপিকে আন্দোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না’

‘ঈদের পর বিএনপিকে আন্দোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না’


সৌদি আরবে ঈদ রোববার

সৌদি আরবে ঈদ রোববার


ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৩১ প্রাণ

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৩১ প্রাণ


১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার

১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার


ফিলিপাইনে জঙ্গিদের মধ্যে ‘৩ বাংলাদেশি’

ফিলিপাইনে জঙ্গিদের মধ্যে ‘৩ বাংলাদেশি’


‘দেশে এখন বিচারের বাণী নিরবে-নিভৃতে কাঁদে’

‘দেশে এখন বিচারের বাণী নিরবে-নিভৃতে কাঁদে’