Tuesday, October 11th, 2016
‘দুর্গা দেবীকে শেষ দেখা দেখে গেলাম’
October 11th, 2016 at 9:24 pm
‘দুর্গা দেবীকে শেষ দেখা দেখে গেলাম’

মিশুক মনির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: লাল আভা ছড়িয়ে সুর্য হেলে পড়েছে পশ্চিম আকাশে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। মা দেবীকে শেষ দেখা দেখে বেরিয়ে আসছে হাজার হাজার মানুষ। রাজধানীর জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে মা দূর্গার বিদায়ের ঢাকের আওয়াজের সঙ্গে বাঁশির সুর মিলিয়ে যেন একটা বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে বিষাদ ছাপিয়ে তরুন-তরুনীদের মাঝে উচ্ছ্বলতাও লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে দেবী দুর্গার বেশে সেজে এসেছেন। প্রিয়জনদেরকে সঙ্গে নিয়ে দেবী দুর্গার সঙ্গে সেলফি তুলে স্মৃতির এলবামে জমিয়ে রাখছেন শেষদিনটিকে।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকায় দেখা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন মন্দির থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্ধারিত সময়ে সেখানে সবাই জমায়েত হওয়ার পর বুড়িগঙ্গার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। এই পাঁচ দিন সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে লালবাগ পুলিশ বিভাগ।

মন্দিরে ঢোকেই চোখে পড়ল কয়েকজন শিশু হাতে সিঁধুরের কৌটা নিয়ে আগত লোকজনদের গালে ও কপালে সিঁধুরের আঁচড় দিয়ে দিচ্ছেন। শিশু নূরামিন ও আল-আমিন জানালেন, সিঁধুরের আঁচড় কেটে তারা দুজন প্রতিদিন দুইশ টাকা করে আয় করেছেন।

durga-pujaa

অসংখ্য তরুণী দেবী দূর্গার মত করে নাকে টায়রা, কানে দুল, চোখে গাঢ় কাজল, কপালে লালটিপের সঙ্গে সিঁধুর, লাল-সাদা ও লাল-সবুজের সম্মিলনে শাড়ি পড়ে এসেছে। অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা হাতে হাত ধরে মন্দিরে ঢুকছে। এরপর প্রার্থনা শেষ করে দেবীর সঙ্গে শেষেদিনের স্মৃতিটুকু জমিয়ে রাখছে সেলফিতে। প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধবসহ সপরিবার এসে বিদায়দিনে মা দেবীকে শেষ প্রণাম জানিয়ে যাচ্ছে।

বছর ঘুরে উৎযাপিত হয় শারদীয় দূর্গা পূজা। পাঁচ দিনের আরাধনা শেষে মা দেবীর প্রতি মনের কোণে ভালবাসার স্ফুরণ ঘটে। বিসর্জনের সময় ঘনিয়ে এলে অনেকের প্রচন্ড মন খারাপ হয়ে যায় আবার কেউ কেউ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। ঢাকার আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী তপণ রবি দাস বলেন, ‘আজ শেষ দিন, মাকে শেষ দেখা দেখে গেলাম। এখন বাসায় চলে যাচ্ছি। মাকে বিসর্জন দিতে হবে এজন্য খুব খারাপ লাগছে।’

কয়েকজন বন্ধুসহ শেষ প্রণাম জানাতে এসেছেন জয়ন্ত বোস। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের মাঝে মুসলিমও আছে। তারা আমার সঙ্গে দেখতে এসেছে। সত্যি বলতে কি কি ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’ তিনি জানান, দেশ,জাতি ও সমাজের মঙ্গল কামনায় মা দূর্গার কাছে প্রার্থণা করলাম।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।এরপর মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে আজ মঙ্গলবার এ আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো। এই কয়দিন হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশু থেকে শুরু করে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করেন।

ঢাকার এক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধানব পাল বলেন, ‘আমি দূর্গা পূজা পছন্দ করি, মা দূর্গা আমার হৃদস্পন্দন, মা দূর্গা আমার শেষ আশ্রয়স্থল, আমার ভালবাসা। পূজা মন্ডপে গিয়ে মা দূর্গাকে প্রণাম করার অনুরোধ জানাই।’

তাঁতী বাজার থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সপরিবারে এসেছেন ব্যবসায়ী সঞ্জয় দে। তিনি বলেন, ‘মাকে প্রণাম করে চরণামৃত প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এই কয়দিন খুব আনন্দ করলাম ।আজকে শেষদিন মা দেবী আমাদের ছেড়ে স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন। এখন খুব খারাপ লাগছে।’

সেঁজুতি দেবনাথ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আবার মা আসবে এক বছর পর। তখন আমরা কে কোথায় থাকব জানিনা।আমরা আশায় আছি মা আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। আবার মাকে বরণ করে নিব।’

প্রকাশ: তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিজিটাল যুগে রাজধানীতে ঘোড়ার বাহন

ডিজিটাল যুগে রাজধানীতে ঘোড়ার বাহন


লাল-সবুজের ফেরিওয়ালাদের গল্প

লাল-সবুজের ফেরিওয়ালাদের গল্প


রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 

রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 


শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সদরঘাট

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সদরঘাট


নবান্ন উৎসবে লোকজ সংস্কৃতির আবহ

নবান্ন উৎসবে লোকজ সংস্কৃতির আবহ


‘ছেলেরা পারলে আমরা পারবো না কেন?’

‘ছেলেরা পারলে আমরা পারবো না কেন?’


কঠিন মনের নারী সুমি বেগম!

কঠিন মনের নারী সুমি বেগম!


সম্মিলনী পূজা কমিটির ৬৮তম দুর্গাপূজা

সম্মিলনী পূজা কমিটির ৬৮তম দুর্গাপূজা


ঢাকা মহানগরে ২৩১টি মঠ-মন্ডপে পূজা

ঢাকা মহানগরে ২৩১টি মঠ-মন্ডপে পূজা


পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি

পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি