Thursday, April 6th, 2017
দেখে আসুন মিরপুরের টাকার গাছ
April 6th, 2017 at 2:33 pm
দেখে আসুন মিরপুরের টাকার গাছ

এম কে রায়হান: টাকা নাকি গাছে ধরে না, কথাটি ভুল। মিরপুরেই আছে টাকার গাছ। মিরপুরের টাকা জাদুঘরের প্রবেশপথের দেয়ালেই রয়েছে সেই টাকার গাছ। যেখানে রয়েছে প্রাচীনকালের সব মুদ্রা থেকে শুরু করে বর্তমানে প্রচলিত মুদ্রা ও কাগুজে নোটের রেপ্লিকা।

“অর্থ-ই সকল অনর্থের মূল” মীর মশাররফ হোসেনের এই তত্ত্বে যারা বিশ্বাসী তাদের টাকা জাদুঘরে না যাওয়াই ভালো। যারা টাকা-পয়সা ভালোবাসেন, অন্ততপক্ষে ‘পাতকী’ মনে করেন না, তারা ঘুরতে যেতেই পারেন। এখানে রয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ শতাব্দী থেকে একদম হালনাগাদ মুদ্রার প্রদর্শন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মুদ্রার সমৃদ্ধ উপস্থাপনা। সোনা, রুপা, তামা, কড়ি থেকে কাগজের মুদ্রার বিশ্ব মানের প্রদর্শনী। বিস্ময়কর দক্ষতায় প্রাচীন ধাতব মুদ্রায় কারুকার্য ও লেটারিং মুগ্ধ করে। মোঘল আমলের মুদ্রার আধিক্য যেন একটু বেশিই।

জাদুঘরের কিউরেটর মো. রেজাউল করিম নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, “এখানে সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত বিভিন্ন মুদ্রা, কয়েন, নোটের কিছু দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ ও কেনা হয়েছে। বাকিটা পাওয়া গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংগ্রহাগার ও বিভিন্ন জনের ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা থেকে। কারো কাছে প্রাচীন বা দুর্লভ মুদ্রা থাকলে তা জমা দেয়ার সুযোগও রয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “এখানে স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েসহ পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকে ঘুরতে আসেন। এখানে দেখার মত অনেক কিছুই আছে।”

ঘুরতে আসা এক কলেজ শিক্ষার্থী নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, “এখানে এসে আমি অনেক দেশের টাকা দেখেছি। স্বর্ণমুদ্রা দেখেছি, ধাতব মুদ্রা দেখেছি। আমরা সব বন্ধুরা এসেছি। জায়গাটি চমৎকার। মনে হয় টাকার রাজ্যে প্রবেশ করেছি।”

টাকা জাদুঘরে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩ হাজার পুরাতন মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়েছে। পুরাতন মুদ্রা সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। টাকা জাদুঘরে দুটি গ্যালারি আছে।

গ্যালারি-১ এ উপমহাদেশের বিভিন্ন শাসনামলে প্রচলিত মুদ্রা প্রদর্শিত করা হয়। আর গ্যালারি-২ তে প্রদর্শিত হচ্ছে বর্তমান সময়ের সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, স্পেন, আর্জেন্টিনা, নিউজিল্যান্ড, নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশসহ প্রায় সব দেশের মুদ্রা। মুদ্রার পাশাপাশি এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে প্রাচীন মুদ্রা দ্বারা নির্মিত অলঙ্কার, মুদ্রা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কাঠের বাক্স, লোহার তৈরি কয়েন ব্যাংক, লোহার সিন্ধুক প্রভৃতি। এ ছাড়া, শস্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত মাটির মটকাও প্রদর্শিত হচ্ছে এই জাদুঘরে।

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, দিবস এবং কালজয়ী ব্যক্তিদের স্মরণে এ পর্যন্ত ১১টি স্মারক মুদ্রা এবং ৩টি স্মারক নোট মুদ্রিত হয়েছে। এগুলো টাকা জাদুঘরে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে।

প্রায় সাড়ে চার হাজার মুদ্রা ও নোট দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেলে বিশ্রাম আর অল্পস্বল্প খাওয়াদাওয়ার জন্য চালু হয়েছে ‘কয়েন ক্যাফে’। ব্যস্ত জীবন থেকে ক্ষণিকের জন্য বেরিয়ে ইতিহাসের সঙ্গী হতে চাইলে ঢাকা জাদুঘর যে অনন্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বৃহস্পতিবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া শনি থেকে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই টাকা জাদুঘর। এখানে প্রবেশ করতে কোন টাকা লাগে না।


সর্বশেষ

আরও খবর

ড্যান্ডির নেশায় নষ্ট হচ্ছে হাজারো পথশিশুর জীবন

ড্যান্ডির নেশায় নষ্ট হচ্ছে হাজারো পথশিশুর জীবন


দুস্থদের মাঝে ইফতার বিতরণ করবে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন

দুস্থদের মাঝে ইফতার বিতরণ করবে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন


নারীদের জন্য বিপদজনক বিশ্বের সাতটি শহর

নারীদের জন্য বিপদজনক বিশ্বের সাতটি শহর


ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন কী?

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন কী?


জেনে নিন বিশ্বের দামী ১০টি গাড়ির নাম ও তার দাম

জেনে নিন বিশ্বের দামী ১০টি গাড়ির নাম ও তার দাম


সুখী হতে চাইলে মানুন এই ২০টি জিনিস

সুখী হতে চাইলে মানুন এই ২০টি জিনিস


যেভাবে হয়েছিল বিশ্বের প্রথম পারমানবিক বোমার পরীক্ষা

যেভাবে হয়েছিল বিশ্বের প্রথম পারমানবিক বোমার পরীক্ষা


রাজধানীতে সবজি চাষ

রাজধানীতে সবজি চাষ


সেলফি তুলছেন? সাবধান!

সেলফি তুলছেন? সাবধান!


অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের অনন্য উদ্যোগ

অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের অনন্য উদ্যোগ