Friday, December 30th, 2016
দেশের সূর্যসন্তান ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে
December 30th, 2016 at 12:22 pm
দেশের সূর্যসন্তান ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

ঢাকা: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের টগবগে যুবক মনির আহমেদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শুনে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন মনির। যুদ্ধে যাবার বেলায় পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময়টুকু পর্যন্ত পাননি। দেশের এই সূর্যসন্তান দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! বিজয়ের ৪৬ বছরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির আহমেদের একমাত্র আর্তি একটু স্থান, দু’মুঠো ভাত ও জীবনের শেষ সময়ে মানুষের কাছে হাত না পেতে একটু শান্তিতে মৃত্যু।

মনির আহমেদের পিতা মৃত শ্রাবণ আলী গ্রাম পুরাগড় উপজেলা সাতকানিয়া জেলা চট্টগ্রাম। বর্তমানে তার বয়স ৭০ এর উপরে। তিনি তার মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে মো. আতাউর গনি ওসমানি সাক্ষরিত দেশ রক্ষা বিভাগের সনদ, তৎকালিন এমএনএ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মো. আবু সালেহ স্বাক্ষরিত সনদ, তার নিজ এলাকা পুরাননগড় ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. বদিউল আলম স্বাক্ষরিত সনদ রয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার স্বপক্ষে যা যা প্রযোজন তার সবই রয়েছে।

 কিন্তু দু:খের বিষয় দেশের কোন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম নেই। তিনি ভিক্ষা করে তার এবং পরিবারবর্গের জীবিকা নির্বাহ করছেন।

মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মানে সমাহিত করার চেয়ে তার কাছে এ মুহূর্তে নিয়মিত দু’মুঠো নিয়মিত খাবার জরুরি। মনির আহমেদ কান্নাবিজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘দেশ স্বাধীনতার পরপরই অনেক নেতার দ্বারস্থ হয়েছেন। একটি কাজের আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে । তার ভাগ্যে কোনো কাজ জুটেনি। তার শরীরে শক্তি নেই, দুটি চোখ উদাসভাবে তাকিয়ে থাকে। স্বপ্ন দেখে মৃত্যুর আগে একটু ভালভাবে বাঁচার।

সকল কাগজপত্র সব সময় তার সঙ্গেই থাকে। তিনি বলেন, তাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ঠাঁই দেয়ার জন্য সাতকানিয়ার একজন কমান্ডারের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুই লক্ষ টাকার দাবি মিটাতে না পারায় কিছুই হয়নি।

তিনি জানান, এই ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে বহু আবেদন নিবেদন করেছে কিন্তু গরীব মুক্তিযোদ্ধার কথা কে শোনে।

দেশমাতৃকার একজন সূর্য সন্তান ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আজ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ লজ্জা জাতীয়, এ লজ্জা  মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, এ লজ্জা আমাদের সবার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এইচ.এম. খলিলুর রহমান বলেন,  ‘এটা হলো আসল মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা আর বহাল তবিয়তে আছে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা।’

বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় গণতান্ত্রিক সরকার অধিষ্ঠিত। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মুক্তিযুযোদ্ধা ও তাদের পরিবার পরিজনদের পুনর্বাসনের জন্য অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। মনির আহমেদ তার পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও এদেশের স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন কাপ্তাইয়ের বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র আব্দুল্লাহ-আল আরিফ।

প্রতিবেদন: মিশুক মনির, সম্পাদনা: মাহতাব শফি


সর্বশেষ

আরও খবর

‘রাষ্ট্র যারা চালান তাদের স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে রাষ্ট্র’

‘রাষ্ট্র যারা চালান তাদের স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে রাষ্ট্র’


আজও সুষ্ঠু বিচারের স্বপ্ন দেখেন লিমন

আজও সুষ্ঠু বিচারের স্বপ্ন দেখেন লিমন


নেপালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশি স্পিকার

নেপালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশি স্পিকার


গোপালগঞ্জ জেলার পৌরসভায় আ’লীগের মনোনয়ন

গোপালগঞ্জ জেলার পৌরসভায় আ’লীগের মনোনয়ন


‘গাছ খেকো বাবু’র নামে মামলা

‘গাছ খেকো বাবু’র নামে মামলা


আন্তর্জাতিক সংস্থা শিক্ষা পেয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক সংস্থা শিক্ষা পেয়েছে: প্রধানমন্ত্রী


রামপুরায় শ্রমিকদের অবরোধে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৫

রামপুরায় শ্রমিকদের অবরোধে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৫


স্বাধীনতা পদক নিলেন ১৫ ব্যক্তি ও বিমান বাহিনী

স্বাধীনতা পদক নিলেন ১৫ ব্যক্তি ও বিমান বাহিনী


পানির জন্য যুদ্ধ আগামী দশকে

পানির জন্য যুদ্ধ আগামী দশকে


গণহত্যা দিবসে ঢাবির কর্মসূচি

গণহত্যা দিবসে ঢাবির কর্মসূচি