Friday, March 17th, 2017
ধর্মে কোনো ম্যানেজার প্রয়োজন নেই
March 17th, 2017 at 11:27 am
ধর্মে কোনো ম্যানেজার প্রয়োজন নেই

মাসকাওয়াথ আহসান: মানুষ মূলত একা; এই একাকীত্বে সে দিগন্ত রেখায় সৃষ্টিকর্তার ছায়া খোঁজে। ধর্মকে সব সময়ই আমার কাছে মানুষের একান্ত চর্চার বিষয় বলে মনে হয়েছে। সব-গুলো ধর্ম দর্শন পাঠ করে সত্য-সুন্দর-মঙ্গলকে এর মূল সুর বলে বোধ হয়েছে। আর প্রতিটি ধর্মের যে উতসব তা নানা-ধর্মের মানুষের মাঝে সত্য-সুন্দর-মঙ্গলের বার্তা আনন্দের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেবার সুযোগ বলে মনে হয়। ব্যাপারটা খুব সহজ; নানা ধর্মের-বিশ্বাসের-অবিশ্বাসের মানুষ ধরিত্রীর বাগানে নানারকম ফুলের মত। এই সৌন্দর্য্যের বৈচিত্র্যই সমাজকে সুন্দর করেছে।

আর ধর্ম ব্যাপারটা আন্তর্জাতিক; সংস্কৃতি ব্যাপারটা আঞ্চলিক। ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করতে গিয়ে একজন ভারতবর্ষের বা দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানের সৌদি সংস্কৃতি অনুকরণ অপ্রয়োজনীয়। আবার খ্রিস্ট ধর্ম পালন করতে গিয়ে জেরুজালেমের সংস্কৃতি অনুসরণ অপ্রয়োজনীয়। অনেক আগে থেকে যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসবাস করেন, তারা ভারত-বর্ষের সংস্কৃতি অনুকরণ করেন না। কারণ সংস্কৃতি ভূমি-সঞ্জাত বিষয়।

আমাদের দুর্ভাগ্য ইসলাম ধর্মের বেশ কিছু ম্যানেজার তৈরী হয়েছে; যারা ধর্মের ও অনুভূতির অজুহাতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান-আদিবাসীদের উচ্ছেদের ঘটনাটি ঘটিয়ে চলেছে। আর মিশর-আরবের মুসলমানদের অনুকরণে কী পয়লা বৈশাখ; কী দোল উতসব; সেখানে তাহরুশ খেলার চেষ্টা করছে। কোন ধর্মেই ম্যানেজারের কোন ভূমিকা নেই। ধর্ম হচ্ছে মানুষের সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার সরাসরি সম্পর্কের বিষয়।

সুতরাং সচেতন সমাজকে এই অযাচিত সামাজিক পুলিশী করা ও বর্বর আচরণে অভ্যস্ত ধর্মের ম্যানেজারদের প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতা আর নানা ধর্ম-বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মানুষের উপস্থিতি ছাড়া সমাজ রচিত হয়না এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে শিখতে হবে। সে জন্য জরুরী মানুষ আত্মপরিচয়ের উদঘাটন। বিভাজন আর হিংস্রতা নেহাতই উপমানবীয় আচরণ এটা কট্টরপন্থীদের বোঝানো শান্তিপ্রিয় মানুষের কর্তব্য বলেই মনে করি।

ধর্ম পার্থিব চাওয়ার বাইরে সত্য-সুন্দর-মঙ্গলের কাছে আত্মসমর্পণের বিষয়। সুতরাং ধর্মকে ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের লক্ষ্যে যে কোন ভাবে ব্যবহার করা; সৃষ্টিকর্তা ও মানুষের পারস্পরিক ভালবাসার মধ্যে পার্থিব লোভ-প্রতিহিংসা নিয়ে আসার কালো আয়োজন। সেটি নিঃসন্দেহে ধর্মের শূচিতাকে ক্ষুণ্ণ করে। যে সৃষ্টিকর্তার ভালবাসার সওদা করে ধর্মব্যবসা করে; তার চেয়ে ধর্মের বড় অবমাননাকারী আর কেউ নয়।

সৃষ্টি ও সৃষ্টিশীলতা যেহেতু ইতিবাচক বিষয়; তাই সৃষ্টিকর্তা নিঃসন্দেহে শুভ ও ইতিবাচকতার সমার্থক। যে কোন ধরণের নেতিবাচকতা অশুভ ও সৃষ্টিকর্তার বিপরীতার্থক আচরণ। সুতরাং মানবতার জন্য ক্ষতিকর যে কোন নেতিবাচক কাজে জড়িত মানুষদের নিজেকে ধার্মিক দাবী করা অর্থহীন। যে ইতিবাচকতা চর্চা করতে শেখেনি সে আসলে পরিপূর্ণ মানুষ বা সৃষ্টির সেরা জীব হতে পারেনি। তার মানবাকৃতিটি সত্য-সুন্দর-মঙ্গল চর্চার অনুপস্থিতির কারণে একটি দানব হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: তুহিন


সর্বশেষ

আরও খবর

রাইফেল রোটি আওরাত

রাইফেল রোটি আওরাত


মৃত্যুমুখী নগর বাঁচাতে জীবন দিলেন যিনি

মৃত্যুমুখী নগর বাঁচাতে জীবন দিলেন যিনি


প্রশ্নফাঁসঃ নৈতিকতার জনহত্যা

প্রশ্নফাঁসঃ নৈতিকতার জনহত্যা


পণ্যমূল্যের উলম্ফন: বিপর্যস্ত জনগণ

পণ্যমূল্যের উলম্ফন: বিপর্যস্ত জনগণ


স্বপ্নভঙ্গের রঙ কী আলাদা হয়! সন্ত্রাসের রং-ই কী আলাদা হয়!

স্বপ্নভঙ্গের রঙ কী আলাদা হয়! সন্ত্রাসের রং-ই কী আলাদা হয়!


‘খেলা- মেলা’ বনাম ‘জঙ্গি-মাদক’

‘খেলা- মেলা’ বনাম ‘জঙ্গি-মাদক’


সহনশীল হওয়ার জন্য সহনশীলতার চর্চা জরুরি

সহনশীল হওয়ার জন্য সহনশীলতার চর্চা জরুরি


কিশোর সাগরের নির্যাতনকারীদের রুখবে কে?

কিশোর সাগরের নির্যাতনকারীদের রুখবে কে?


শারদীয় দুর্গোৎসব: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার

শারদীয় দুর্গোৎসব: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার


এ সংকট থেকে বের হয়ে আসতেই হবে

এ সংকট থেকে বের হয়ে আসতেই হবে