Thursday, March 16th, 2017
নাজনীন খলিল-এর পাঁচটি কবিতা
March 16th, 2017 at 9:02 am
নাজনীন খলিল-এর পাঁচটি কবিতা

একাকীত্ব

একাকীত্ব দাঁড়িয়ে আছে ধু ধু শূন্যতার ছাইবর্ণ মাঠে।

সুনসান প্রান্তরে বেজে উঠুক কিছুতো শব্দ
তুর্যনাদে আকাশের চোখ খুলে দিয়ে
না হয় একটু কাঁদলো পৃথিবী, ‘মিয়া কি মল্লারে’।

মেঘ ঢেকে রাখে তারার আকাশ; নক্ষত্রবিহীন নিঃসঙ্গতা।
অন্ধকার ঢেউয়ের দোলনায়
জেগে থাকে প্রখর অনিদ্র রাত;
ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুমের ভেতরে স্বপ্নের লতাপাতা বেড়ে ওঠে
চৌরাশিয়ার বাঁশি কাঁদে
টুপটাপ বকুলের বিরহগান বাজে;
আর কিছু নয়
শুধু একটি রাত ঘুমোতে চেয়েছি সিডেটিভহীন,
পাপড়িপালকের উষ্ণ আদরে।

চরে শিকস্তির চিহ্ন রেখে নদী কেন সরে সরে যায়?

চাঁদের কৌটায়

ছায়াটা উড়ে যাচ্ছে স্যাঁতসেঁতে হাওয়ার ঘোরে
একটা মিশকালো দাঁড়কাকের মতো।
আর আমি
গণিতের শূন্যগুলোকে কমাতে কমাতে নিয়ে আসছি
একক সংখ্যায়।

যখনই দীর্ঘঘুমের ব্যাকুলতা
তখনই মুঠো মুঠো ঘুমের ওষুধ;
স্বপ্নহীন সিডেটিভ ঘুম।

অন্ধকার বারান্দার স্তব্ধ অনিদ্রার সাথে জেগে থাকে
সুনসান এক বিনিদ্র গলি;
লাইটপোস্টের ছেঁড়া ছেঁড়া আলোগুলো
অভয়বাণীর মতো জ্বলে থাকে সারারাত,
ঝিঁঝির গুঞ্জরণের সাথে ডানা ঝাপটায় রাতচরা পাখি।

কখন যে বুকের ভেতরে অনায়াসে ঢুকে পড়ে
একটা বিচ্ছিন্ন আকাশ—

চাঁদের রূপালি কৌটায় যে স্বপ্ন জমাই সারারাত
ভোর হলেই কোথায় যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলি !

এক টুকরো সোনালি দড়ি অথবা সুতো

কাঁচ অথবা পাথর

অদ্ভূত শিসের শব্দে শ্যাম্পেনের ছিপি খুলে গেলে
আনন্দের ঘ্রাণরং বেজে ওঠে
বাতাসের পরতে পরতে।
ক্রিস্টাল পানপাত্রে ফ্লুরোসেন্ট জ্যোৎস্না ছলকে ওঠে
মাতাল গন্ধের রেশ—

বাজপাখির ডানায় একটা আদিগন্ত মাঠ পোড়ানোর মতো
যথেষ্ট আগুন ছিল।
তবুও একটা শীতলহাত রেখেছে ঢেকে একখন্ড হরিৎ;
পথ জুড়ে তপ্ত ছাই
কাঁকরের ব্যাথা।
সবুজগুলো বারবার দ্বিখন্ডিত হচ্ছে
দ্বিধাগ্রস্থ রাতের অন্ধকারের মতো

চোখে কি মাখলে তবে ভিন্ন রংয়ের কাজল
সবুজকে দেখছো তীব্রনীল অথবা খয়েরি!

যে কথাগুলো কেবল উথালপাতাল ঘুরে
জলের ভেতর মাছের মতো
ঘূর্ণির মতো

সেসব অর্থহীন—নিয়েছি মেনে।

দেয়াল তো দেয়ালই
কাঁচ
অথবা
পাথর—

চোখগুলো বেঁচে উঠুক

এমন নয় যে
চাঁদে হাত রাখলেই দুই হাত সোনালি হয়ে যাবে;
বরং জ্যোৎস্নার তপ্ত আগুনে পুড়ে যেতেও পারে।

সূর্যালোকে দাঁড়ালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে
রাতের আঁচড়ের দাগগুলো।
যখন
হাসির আড়ালে মানুষ লুকিয়ে ফেলছে কান্নার চিহ্নগুলো;
তখন
আমি বলছি—এটা হয়তো মৃতদের কোন শহর।

কখনো কখনো
মানুষের চোখগুলো মাছেদের মতো নিষ্প্রাণ হয়ে যায়।
যেসব চোখের দিকে তাকালেই শবদেহের কথা মনে পড়ে
কতটুকু বেঁচে আছে তারা?

একটি কালো দাঁড়কাক টেলিফোনের তারে
একবার ডেকে উঠতেই কে যেন বললো,
—আজ কেউ আসতে পারে।
উত্তরকোণে কাক ডাকলে অতিথি আসে।

এমনধারা কাকতত্ত্বে বিশ্বাসী নই।
তবু—অপেক্ষায় থাকি—কেউ আসুক।
আসুক।
আর উন্মত্তমৃদঙ্গের তালে জাগিয়ে তুলুক এই প্রাণহীন নগরীকে।
নিস্পন্দ চোখগুলোতে একইসাথে ফিরুক
নোনাজল আর অক্ষরের কারুকাজ।

উজানের দূরত্ব

সব খেলায় একজন রেফারি থাকবে এমন কোন কথা নেই;
অথবা রেফারির হুইসেল।
জলক্রীড়ায় তো নয়ই।
যেমন—নৌকাবাইচ।

কখনো নামিনি জলে;
ভয় ছিল খুব।

আর এখন—
ট্রফি শুধু জলশাসনের দক্ষবিজেতার;
জেনেও
উড়িয়ে দিয়েছি সাদা পাল
আর এক অলৌকিক বৈঠায় রেখেছি হাত।
জানি না জল কেটে কতদূর যেতে পারি—

এই যে হুট করে নদীতে নেমে যাওয়া
এও তো এক ব্যাখ্যাতীত প্রবলঘোরের খেলা

জিতি
অথবা
ডুবি
এভাবেই ভেসে যাবো যতদূর—

একবার ভাটিতে না গেলে, জানা হবে না
মাঝনদীর ঢেউয়ের সাথে উজানের দুরত্ব কতটুকু।


সর্বশেষ

আরও খবর

কবি শামসুর রাহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কবি শামসুর রাহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত


সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনকে শুদ্ধ করে: রাবি উপাচার্য

সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনকে শুদ্ধ করে: রাবি উপাচার্য


প্রায় সকল ধর্মেই ঈশ্বরের চাহিদাগুলো প্রচণ্ড রকম ডগম্যাটিক উপায়ে এসেছে: রেজওয়ান তানিম

প্রায় সকল ধর্মেই ঈশ্বরের চাহিদাগুলো প্রচণ্ড রকম ডগম্যাটিক উপায়ে এসেছে: রেজওয়ান তানিম


স্বাস্থ্যবিধি।। মোঃ কামারুজ্জামান সানিল

স্বাস্থ্যবিধি।। মোঃ কামারুজ্জামান সানিল


সম্ভবত রাজনৈতিক কবিতা।। প্রণব আচার্য্য

সম্ভবত রাজনৈতিক কবিতা।। প্রণব আচার্য্য


অ-সরল অঙ্ক।। অঞ্জন আচার্য

অ-সরল অঙ্ক।। অঞ্জন আচার্য


হুমায়ুনের সামনে কুণ্ঠিত হাসান আজিজুল হক

হুমায়ুনের সামনে কুণ্ঠিত হাসান আজিজুল হক


বশিরানন্দ দাশ ও সোমলতা সেন

বশিরানন্দ দাশ ও সোমলতা সেন


তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ জীবনভিত্তিক শক্তিশালী গল্প: তুহিন দাস

তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ জীবনভিত্তিক শক্তিশালী গল্প: তুহিন দাস


খবর চুরি।। মাসকাওয়াথ আহসান

খবর চুরি।। মাসকাওয়াথ আহসান