Thursday, April 20th, 2017
পর্নো ছবিতে সয়লাব নীলফামারী
April 20th, 2017 at 1:53 pm
পর্নো ছবিতে সয়লাব নীলফামারী

সুমন মুখার্জী, নীলফামারী: নীলফামারী জেলা জুড়ে এখন রাজত্ব করছে কম্পিউটারের দোকান। হাট-বাজারের মোড়ে মোড়ে যেখানে সেখানে গড়ে ওঠা দোকানে টেবিল, চেয়ার আর একটি কম্পিউটার থাকলেই হয়ে গেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সেসব কম্পিউটার দিয়ে মোবাইল ব্যবহারকারীরা তাদের মেমোরী কার্ডে গান, ছবি, অশ্লীল পর্ণ ভিডিও ডাউনলোড বা রিফিল করেন। নামমাত্র মূল্যে বাজারে থাকা মেমোরী কার্ডের মধ্যে রয়েছে ৪ জিবি, ৮ জিবি, ১৬ জিবি, ৩২ জিবি, ৬৪ জিবি এবং সর্বোচ্চ ১২৮ জিবি পর্যন্ত।

এর মধ্যে ৪ জিবি মেমোরী লোড করা মাত্র ১০ টাকা, ৮ জিবি মেমোরী ১৫ টাকা আর ১৬ জিবি মেমোরী ২০ টাকায় লোড করা হচ্ছে। ফলে পর্নো আসক্তিতে সয়লাব হয়ে গেছে নীলফামারীর মোবাইল ব্যবহারকারীরা। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা এতে আকৃষ্ট হওয়ায় সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে। যার শিকার হচ্ছে উঠতি বয়স্ক ছেলে-মেয়েরা।

দেশে প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে ছোট-বড় সব বাজারে কম্পিউটার একটি সহজাত ব্যবসা। একটি ঝুঁপড়িতে একটি কম্পিউটার ও একজন লোকের বসার জায়গা হলেই হলো। এখানে গান ডাউন-লোড, ছবি তোলা ও ই-মেইল করা হয়; এসব সাইন বোর্ডের আড়ালে তারা মূলত পর্নো ছবির ব্যবসা করছেন।

নীলফামারী সরকারী কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অহিদুল হক নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘আগেকার দিনে গ্রামে-গঞ্জে সিনেমা হল ছিল। যেখানে ছোট ছেলে-মেয়েরা যেতে সাহস করতো না। কারণ, সিনেমা দেখতে টাকা লাগতো; আর ছিল অভিভাবকের ভয়। আর এখন প্রত্যেক ব্যক্তিই এক একটি সিনেমা হল।’

তিনি বলেন, ‘এখন ছোট-বড় সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন একটা-দুটা করে আছেই। কম্পিউটার দোকান থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে যদি সহজেই অশ্লীল ভিডিও পাওয়া যায় তবে সামাজিক অবক্ষয় তো ঘটবেই!’

সাংবাদিক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব আবদুল বারী নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘মোবাইল ফোন ব্যক্তিগত হওয়ায় কেউ কারো ফোনের খবর রাখে না। ছেলে-মেয়েরা কাকে কল করলো বা ফোনে কি দেখলো কোন অভিভাবকই তার খবর রাখেন না।’

তিনি বলেন, ‘অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। ছেলে-মেয়েরা কখন কোথায় কি করছে খেয়াল রাখতে হবে। তবেই তারা বিপথে যাবে না। তাছাড়া যেখানে সেখানে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে ওঠা কম্পিউটারের দোকানে গান ডাউনলোডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করতে হবে।’

আনোয়ার হোসেন নামে একজন অভিভাবক বলেন, ‘যেখানে সেখানে কম্পিউটারের দোকান হওয়ার ফলে টাইপিং, ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড, দেশ-বিদেশ থেকে মেইল পাঠানো খুবই সহজ সাধ্য হয়েছে। তবে গান ডাউনলোডের পাশাপাশি নীল ছবির ব্যবসাটাও সচেতন মহলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে তারা করছে। এটা প্রতিহত করা উচিত। প্রত্যেক বাজারে বাজারে যদি পুলিশের টহল টিম চেক করে তবেই এটার প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।’

কম্পিউটারের ব্যবহার প্রযুক্তির উন্নয়নের আর্শিবাদ হলেও এর খারাপ প্রভাব সামাজিক ক্ষেত্রে অভিশাপ বাড়ায়। নীলফামারী জেলায় আনুমানিক ছোট-বড় প্রায় ৫ হাজারেরও বেশী বাজার রয়েছে। এসব বাজারে কম্পিউটারে গান ডাউন-লোড, ছবি তোলা ও ই-মেইল করার নামে পর্নো ছবির হরদম ব্যবসা চলছে। এতে ছোট ছেলে-মেয়েরা আকৃষ্ট হয়ে সামাজিক অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। ফলে বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, ইভটিজিং-এর মতো নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে।

প্রকাশ: প্রীতম


সর্বশেষ

আরও খবর

‘শ্রমিক-মালিক গড়ব দেশ, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’

‘শ্রমিক-মালিক গড়ব দেশ, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’


আজও অবহেলিত শ্রমিকরা

আজও অবহেলিত শ্রমিকরা


অর্থনৈতিক দুর্বলতায় বাড়ছে শিশুশ্রম

অর্থনৈতিক দুর্বলতায় বাড়ছে শিশুশ্রম


নারীরা আজও বৈষম্যের স্বীকার

নারীরা আজও বৈষম্যের স্বীকার


শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে ইসলাম

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে ইসলাম


২৬ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা

২৬ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা


আইএসের কবল থেকে ৩৬ ইয়াজিদি মুক্ত

আইএসের কবল থেকে ৩৬ ইয়াজিদি মুক্ত


হাওরবাসীর দুর্দশা হাসিনাকে স্পর্শ করেনি: খালেদা

হাওরবাসীর দুর্দশা হাসিনাকে স্পর্শ করেনি: খালেদা


উত্তর কোরিয়ার উপর চাপ প্রয়োগ করছে চীন

উত্তর কোরিয়ার উপর চাপ প্রয়োগ করছে চীন


‘নিশ্চিত হয়নি শ্রমিকের আট ঘণ্টার অধিকার’

‘নিশ্চিত হয়নি শ্রমিকের আট ঘণ্টার অধিকার’