Tuesday, January 2nd, 2018
ফিরে ফিরে আসার গল্প
January 2nd, 2018 at 9:47 pm
ফিরে ফিরে আসার গল্প

মাসকাওয়াথ আহসান: মোম্বাসার আচার্য পুরবাসীর সামনে সুসংবাদ দেন, সুদিন এসেছে, কংকাবতী নদীতে খুশীজলের প্লাবন ডেকেছে।

খবরটা শুনেই পুরবাসী কংকাবতী নদীর দিকে ছুটে যায়; আঁজলা ভরা অবাক খুশীজল পান করে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে সবাই।

আচার্য তার দ্রোণাচার্যকে ডেকে শুধান, সান্ত্রী মশাই এখন নিশ্চয়ই পুরবাসী খুশী। আপনি একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন; প্রতিটি ঘরে আনন্দের বান ডাকছে কীনা!

সান্ত্রী মশাই বলেন, খুশী মানে! পুরবাসী সাংঘাতিক খুশী আচার্য মহোদয়। অনেকে ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে মহার্ঘ্য পেঁয়াজ নিবেদন করছে রাজ্যের কোষাগারে।

আচার্য হেসে বলেন, চলতি বাজার দরে স্বর্ণের চেয়ে পেঁয়াজ অধিক বিলাসী সামগ্রী। তার মানে রাজ্যের মানুষের উপার্জন বেড়েছে। পরিসংখ্যানবিদদের লাগিয়ে দিন, রাজ্যের গড় আয়ের হিসাবটা কষে ফেলুন। আর ইতিহাসবিদকে খবর দিন। ঐতিহাসিক সাফল্য লিপিবদ্ধ করুক।

সান্ত্রী মশাই কাঁচুমাঁচু করেন, আচার্য মহোদয়, ইতিহাসবিদ ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসায় মনোযোগী হয়েছেন আজকাল। ইতিহাস চর্চার সময় কী তিনি পাবেন!

–তাহলে লেখকদের বলুন তারা লিখুক।

–লেখকেরা ব্যস্ত তাদের সুরম্য গৃহ নির্মাণ নিয়ে; তারা ভূমি অধিগ্রহণাদি নিয়ে দৌড়ঝাঁপের মাঝে আছে।

আচার্য মহোদয় বলেন, এখন দেখছি মোম্বাসায় ধুলিমুঠিও সোনামুঠি হচ্ছে। আমরা এমন সকালই তো চেয়েছিলাম দুপুরের চেয়ে রৌদ্র করোজ্জ্বল।

অকস্মাত দুঃসংবাদ নিয়ে হাজির হয় মানবতার দূত। অস্থিরভাবে কী যেন বলতে চায়।

আচার্য মহোদয় জিজ্ঞেস করেন, কিছু কি বলবে মানবতা দূত!

মানবতা দূত সান্ত্রী মশাইয়ের কানে কানে কী যেন বলে।

দূত ফিরে গেলে সান্ত্রী মশাই বলেন, আচার্য মহোদয় কংকাবতীর খুশীজল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কিছু পুরবাসী। তাদের স্বজনেরা নাকি হারিয়ে গেছে; তারা বলছে, ঘরে ঘরে এমন মৃত্যুশোক; আমরা খুশীজল গ্রহণ করি কোনমুখে।

–কিছু একটা করুন সান্ত্রী মশাই; আমি সব পুরবাসীকে সুখী দেখতে চাই।

সান্ত্রী মশাই বলেন, দেখি আচার্য মহোদয়; কী করতে পারি!

আচার্য মহোদয় দপ্তরে ফিরেই মোম্বাসার গোরখোদক ও মর্গ ব্যবস্থাপকদের বৈঠক ডাকেন। নির্দেশ দেন, শোকাহত পরিবারগুলোকে খুশীজল পান করানোর ব্যবস্থা করুন। নইলে রাজ্যের অমঙ্গল হবে।

গোরখোদকেরা একটা তালিকা নিয়ে মৃতদের খোঁজখবর শুরু করে। মর্গেও শুরু হয় তল্লাশী। তালিকা আর ছবির সঙ্গে মিলিয়ে শুরু হয় অনুসন্ধান। একজন গোরখোদক একটি কবর খুঁজে তার সামনে দাঁড়িয়ে বলে, জেগে নাকি ঘুমিয়ে মহাত্মন! একটু কথা শুনবেন!

কবরের মাঝ থেকে উত্তর আসে, দিলেন তো সকাল বেলার ঘুমটা ভাঙ্গিয়ে; কেন বিরক্ত করছেন!

–আচার্য মহোদয়ের অনুরোধে আপনাকে আবার জীবনে ফিরতে হবে; আপনার স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন।

–না না; আছি বেশী সুখেই; আর ফিরতে চাইনা জটিলতায়।

–সেকথা বললে হবে না। কংকাবতীতে খুশীজলের বান ডেকেছে। সমস্ত লোকালয় আনন্দে উন্মত্ত। বাদ সাধছে শুধু আপনাদের অনুপস্থিতি।

–বিধাতার লীলা বুঝি না; কেনই তবে জীবন কেড়ে নেয়া; আবার জীবনে ফিরতে বলা।

মর্গের একটা লোহার দেরাজ খুলে ঘুমিয়ে থাকা লোকটাকে মর্গ ব্যবস্থাপক জিজ্ঞেস করে, অবনী বাড়ী আছো! কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘাবড়ে যায় মর্গ ব্যবস্থাপক।

সান্ত্রী মশাইকে জানায় সমস্যার কথা। সান্ত্রী মশাই বলেন, এটা কোন সমস্যা নয়। মর্ফিয়ুসের কাছে ফোন করুন। সে যেহেতু মরফিন দিয়ে ঘুম পাড়াতে পারে; নিশ্চয়ই জাগাতেও জানে।

অর্ধ ঘুমে অর্ধ জাগরণে চলে যাওয়া মানুষদের মর্ফিয়ুসের স্বাস্থ্যসদনে জড়ো করা হয়। মর্ফিয়ুস নির্দেশ দেয়, কিছু গল্পকারকে খবর দিন। প্রত্যেকটি মানুষের জন্য একটা করে ফিরে আসার গল্প চাই। কেউ আসবে নদী সাঁতরে, কেউ আসবে পাহাড় পেরিয়ে, কেউ বা আসবে হলুদ সর্ষে ক্ষেতের আল ধরে, কেউ বা আসবে মেঘে ভেসে ভেসে।

প্রবাসী সাংবাদিক, সাংবাদিকতা শিক্ষক


সর্বশেষ

আরও খবর

যে শহর শূ্ন্যতার

যে শহর শূ্ন্যতার


ঠিকাদারি!

ঠিকাদারি!


বুড়ো সেলিব্রেটির ঘাড়ে মিউজ

বুড়ো সেলিব্রেটির ঘাড়ে মিউজ


মধু-ফাঁদের খোয়ারি

মধু-ফাঁদের খোয়ারি


যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন মশা থাকবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন মশা থাকবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


কাক সরিয়ে মহানগরীর দখল নিয়েছে মশা

কাক সরিয়ে মহানগরীর দখল নিয়েছে মশা


কথাসাহিত্যিক শওকত আলী আর নেই

কথাসাহিত্যিক শওকত আলী আর নেই


‘জসীম উদ্দীন’ পুরস্কার দেবে বাংলা একাডেমি

‘জসীম উদ্দীন’ পুরস্কার দেবে বাংলা একাডেমি


কবি শামসুর রাহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কবি শামসুর রাহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত


সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনকে শুদ্ধ করে: রাবি উপাচার্য

সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনকে শুদ্ধ করে: রাবি উপাচার্য