Thursday, April 13th, 2017
বর্ষশুরুর কবিতা
April 13th, 2017 at 9:31 am
বর্ষশুরুর কবিতা

মুক্তি মণ্ডল

অঙ্গুরি

ঘুমহীন মানুষের বিষণ্ন মুখোশে
যে প্রহর জাগে
তার গহীন প্রান্তরে
সুবাসনায় জেগে আছে স্মৃতিফলক

কফিনবাহকদের মৃদু পদশব্দে
জেগে উঠছে
সন্ধ্যার উপড়ানো খুলি

বন্ধুর মুখের মত
বৃষ্টির ভিতর
দ্বিধার মাস্তুলে স্মৃতির রাতড্রাগন
খুলে দেখছে
সবুজ ঘাসের অঙ্গুরি

নাজনীন খলিল

এবং দ্বিতীয় আমি

ম্যাজিক মিরর।
এপাশেও প্রতিচ্ছবি। ওপাশেও।
তোমাকে দেখছি আমি। তুমিও কি দেখছো আমাকে?

জেনে নাও
আমরা কোনদিন হাত ধরাধরি করে হাঁটবো না
রোমান্টিক কাপলের মতো।
মাঝখানে অভঙ্গুর কাচের দেয়াল;
তবু অলৌকিক স্পর্শ ছুঁয়ে যাবে, যাচ্ছে।
অহোর্নিশ অন্তর্গত যুদ্ধ হবে। সমঝোতা হবে।
মাঝেমাঝে,—‘তোমার তুমিকে বড়ো ভালোবাসি’ বলে ফেলবে বেখেয়ালে।
আমিও তোমাকে এমন কিছু…

আমরা আজীবন সমান্তর দূরত্বে।
আমরা আজীবন পাশাপাশি।

আমরা এক নই।
অবিচ্ছিন্ন নই।
তবু আমাদের বিচ্ছেদ হবে না।
পৃথিবীর নিক্তির মাপে দুজন একত্র।
কিন্তু আমরাতো এক নই—দুজনেই জানি। আমরা দুজন।
শুধুমাত্র অন্যোন্য।
আমরা পৃথক নই তবু আমৃত্যু বিভেদদহন বয়ে চলি।

আমি
এবং
দ্বিতীয় আমি।

দীপন চক্রবর্তী

মনলগ

তোমাদের ঋতুতে শুধু শিহরণ শুধু স্পন্দন
সারাবেলা ধরে ঝরে প্রাচীন উইলো
ভোর পূর্ব সূর্যের ভ্রূণ থেকে ভেসে আসে পিতার অমৃত গান
তোমাদের শিশুদের ডাক নাম—হাসি,
মেয়েদের চোখ সব অমর ইশারা …
এইসব দেখি আর রক্তজবার ছায়ার নিচে
রক্তজবার মতো আমি ঘুমোই।
চোখ বুজলেই তালার আর্তনাদ অকাল মৃতের সুপ্ত হাড়
পিয়ানোর বুক ভেঙে পর্দা নামে শাদা পর্দা কালো পর্দা
বেন্ডেল চার্চ থেকে এখন এই সন্ধেবেলা ভেসে আসে
যুগ যুগ আগেকার ঝিম ধরা ভেসপারস
মনোহীনতার শোকগন্ধ নিতে নিতে মনে হয়
পৃথিবীর সকল অভিজ্ঞতা নিয়ে পড়ে আছে যে অন্ধকার পাথর
তার ওপর অনুপম বসে থাকা ভালো
বলা ভালো—‘তোমাদের কিছুদিন ভালো লেগেছিল।’

 

হাবীব ইমন

মহাশয়া বেয়াদবি নিও না

তোমাকে আমার ভালোবাসার কথা না। ছিলও না। আজকাল অনেক কিছুই হওয়ার কথা থাকে না। তবুও হয়ে যায়। যেমন শীতকালে ঠাণ্ড হাওয়া বয়ে যায় না। এ ভালোবাসাও সে রকম। প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, মনে আছে নিশ্চয়। স্মৃতিতে তখন তপ্ত বৈশাখ। টিএসসিতে রোদ্দুর করোটিতে তুমি এসেছিলে। চুলে চুলে খোঁপায় উজ্জ্বল হয়েছিলে। প্রথম দেখায় নাকি ভালোবাসা হয়। আমার কিন্তু তা হয়নি। সেদিন তোমাকে ভালোবাসবো বিলকুলি ভাবিনি। আমার চোখে তুমি ছিলে শুধু উচ্ছ্বাস। কেবলই বালিকা। তাতে প্রেম ছিল না শুধু। ছোটবেলায় তোমাকে এক-আধবার দেখেছি। হয়তো সেসময় তোমার সাথে কানামাছি ভোঁ ভোঁ-ও খেলেছি।

শৈশবের হারিয়ে যাওয়া কমলালেবু আমি খুঁজিনি। অকূলপ্লাবী জলমগ্ন যাপিত স্থল আমি ভেসে বেড়াইনি। শৈশব পেরিয়ে যেতে যেতে ঘুমিয়ে পড়েছি চলন্ত বাসে। ঘুম ভাঙতে প্রণীত যাপনে বেলা অনেক গড়িয়ে গ্যাছে।

সামনে ভেসে ওঠা হঠাৎ এক ফালি চাঁদ। দ্যাখতে দ্যাখতে উজ্জ্বল সূর্যকে যেন গ্রাস করলো গ্রহণ। পোড়া সিগারেটের মতো সূর্য প্রতিদিন কালো হয়ে যায়। চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসে। দুষ্ট বালকের স্ট্রিট লাইট ভাঙার মতো। তোমাকে ভালো বেসেই ফেললাম। ‘মহাশয়া, বেয়াদবি নিও না’। এক পোড় খাওয়া যুবকের ভালোবাসা কি তোমার মনে ধরে না। তুমি কেবল নারী! নাকি মায়াবিনীও। বলেছিলে, আমি তোমার ছোট। ছোটদের ভালোবাসতে নেই। স্নেহ করা যায়। ভালোবাসার ইতিহাস কি তাই বলে! জ্বলন্ত আগুনে তুমি ঝাঁপ দিও না, কিন্তু মিনতি রইলো, ব্যর্থ হতে যাওয়া যুবকের ঝড় নিভিয়ে দাও একটুখানি। মনে রেখো বারুদের আগুন এটা। জীবনবাবুকে কিন্তু নাটোরের বনলতা দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিল।

একদা আমিও বেসেছিলাম ভালো কারোর দিকে। কেবল অর্থহীন ছিল সেটি। যে ভালোবাসা আমায় পারেনি ওকে ধরে রাখতে। তারাভরা আকাশ আর নেই পাশে। এই তো সব দূরে।

তুমিও কি তাহলে ঐশ্বর্যের চুম্বনে ফিরিয়ে দিবে আমায়!! এটি কোন মাতালের মধ্যরাতের বুকপকেট নয়। পরাজিত অসম প্রেমের এক রত্তি চিহ্ন।

অরবিন্দ চক্রবর্তী

সমঝোতা চুক্তি

সকল চ বর্ণের গায়ে পলাশ শিমুল ঢেলে বসন্তের গাছসম্প্রদায় খেলছে আগুন আগুন।
কিছু দূরে লেখা হচ্ছে তরমুজ গোত্রের গোটা গোটা লাল। ফায়ার সার্ভিসের ঋতুতে
প্রকল্পের দুপুরে নেমে কেউ চাইছে আস্ত পুকুর, কেউ চায় বরফখণ্ড জল। আমি সকল পঙ্গুমানবের
হাঁটুভাঙা ইমেজ কপি করে তাকে দিই কাটাফাটা দৃশ্যের পাশে কবরভ্রমণের নির্দেশ, অমরতার
হাশিখুশি প্রণোদনা।

অ বর্ণের পক্ষ নিয়ে ব্যঞ্জনবর্ণের সেনাপতি কোকিলের সঙ্গে করি দক্ষিণদ্বার ওপেন সিক্রেট,
বৈঠকে জানায় সে আমাকে দেবে দুপুর-ভৈরবী। আমি চাই, নীরব দেশলাই, নরম সকালিয়া।
কারণ, আমিই জানি, জলকে পোড়াতে আগুনের প্রয়োজন, আগুনকে পোড়াতে আমি।

তুমি নিশ্চয় জানো না, দেশলাই আমার বারুদ বহন করে, আর আমি করি চৈত্রের সাগরেদগিরি।

 

বিধান সাহা

সম্প্রীতি

নদীর নামে তোমার দিকে তাকিয়ে ছিলাম একা
তখনই ঠিক বৃক্ষ হলাম সহস্র প্রশাখা!

নদী কোথায়? ঘুমের ভেতর তুমিও জলভীতি
তুচ্ছ আমার বচন-বাচন বিষণ্ন সম্প্রীতি

তবু যদি নদীর কথায় হারিয়ে ফেলি বাঁক
ডালভাঙা এক শিমুল গাছে মৌন পাখির ঝাঁক—
তখন তুমি ঘুমের ঘোরে আসবে কি আর কাছে?

ঘর বেঁধেছে রাঘব বোয়াল সুন্দরী বৌ-মাছে!

আলীম হায়দার

পান্তা ইলিশ

উজান দ্যাশের জাউলা হামি পুটি মারি ভাই
ঘাঘট নদী শুকি গেছে—ধরলাটা আর নাই
পদ্মাটা তো অনেক দূরে, ইলিশ কোনটে পাই?
করতোয়ার ওই চিকন আ’লে দারকি ফেলি তাই।
মাগন তুলি—বাগুন তুলি— আলুর ডালই খাই
সলোক হতেই শিথান ছাড়ি, পৈতানে তুই নাই,
কই গেলি গো সবুজ জালি? কোনটে তোরে পাই?
তুইতো এখন হারমোনিকা, মোর বাঁশের বাঁশি চাই।
মঙ্গা দ্যাশের বঙ্গা যে মুই, তমোন পইড়া যাই—
পান্তা-পিয়াজ ন্যাতায় দিলো তোর ওই গরম মাই!
সকাল বেলায় রমনাতে তোর শুধুই ইলিশ চাই!!

 

প্রলয় সাহা

অস্ট্রিক-২

আমি বিগ্রহ পোড়া গন্ধ পেয়েছি
দেখেছি অবাক চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টি
বৃষ্টি ঝরেনি, কষ্ট দৌঁড়াচ্ছে
সব পিছিয়ে পড়েছে, তবুও শূন্য জীবন।

আমি মসজিদের ভাঙন দেখেছি
অভ্যন্তর কাতারে ডোবা অগনিত প্রশ্ন
উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না পূর্ব-পশ্চিম দিক
এর মাঝেই ঘুমিয়ে পড়েছে অবুঝ শিশুটি।।

অলঙ্করণ: সকাল রয়

ভাঙন-ঘেঁষা ঘাসফুলে কাঁপে শব্দে: জিনাত জাহান খান

যাদের ঘরে ঈশ্বর খেলেন ঘুড়ি উড়াবার খেলা: সকাল রয়

তেলাপোকা: সুপ্তা সাবিত্রী


সর্বশেষ

আরও খবর

কবি শামসুর রাহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কবি শামসুর রাহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত


সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনকে শুদ্ধ করে: রাবি উপাচার্য

সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনকে শুদ্ধ করে: রাবি উপাচার্য


প্রায় সকল ধর্মেই ঈশ্বরের চাহিদাগুলো প্রচণ্ড রকম ডগম্যাটিক উপায়ে এসেছে: রেজওয়ান তানিম

প্রায় সকল ধর্মেই ঈশ্বরের চাহিদাগুলো প্রচণ্ড রকম ডগম্যাটিক উপায়ে এসেছে: রেজওয়ান তানিম


স্বাস্থ্যবিধি।। মোঃ কামারুজ্জামান সানিল

স্বাস্থ্যবিধি।। মোঃ কামারুজ্জামান সানিল


সম্ভবত রাজনৈতিক কবিতা।। প্রণব আচার্য্য

সম্ভবত রাজনৈতিক কবিতা।। প্রণব আচার্য্য


অ-সরল অঙ্ক।। অঞ্জন আচার্য

অ-সরল অঙ্ক।। অঞ্জন আচার্য


হুমায়ুনের সামনে কুণ্ঠিত হাসান আজিজুল হক

হুমায়ুনের সামনে কুণ্ঠিত হাসান আজিজুল হক


বশিরানন্দ দাশ ও সোমলতা সেন

বশিরানন্দ দাশ ও সোমলতা সেন


তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ জীবনভিত্তিক শক্তিশালী গল্প: তুহিন দাস

তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ জীবনভিত্তিক শক্তিশালী গল্প: তুহিন দাস


খবর চুরি।। মাসকাওয়াথ আহসান

খবর চুরি।। মাসকাওয়াথ আহসান