Thursday, February 8th, 2018
বোলারদের সাফল্য ম্লান করে দিলো ব্যাটসম্যানরা
February 8th, 2018 at 6:22 pm
বোলারদের সাফল্য ম্লান করে দিলো ব্যাটসম্যানরা

ঢাকা: বাঁ-হাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ও তাইজুলের ঘুর্ণিতে পড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২২২ রানে অলআউট হয়েছে শ্রীলংকা। রাজ্জাক-তাইজুল ৪টি করে উইকেট নেন। রাজ্জাক-তাইজুলের অসাধারণ নৈপুণ্যের দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে পারলো না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দিন শেষে স্কোর বোর্ডে ৫৬ রান উঠতেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন বাংলাদেশের চার ব্যাটসম্যান। তাই ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ১৬৬ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্বান্ত নেয় শ্রীলংকা। দুটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে তারা। দুটি পরিবর্তন ছিলো বাংলাদেশেরও। চট্টগ্রাম টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়েন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সানজামুল ইসলাম। তাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ ঘটে সাব্বির রহমান ও অভিজ্ঞ আব্দুর রাজ্জাকের। চার বছর পর আবারো টেস্ট খেলার সুযোগ পেলেন রাজ্জাক।

দীর্ঘদিন পর সুযোগ পেয়েই দ্বিতীয় বোলার হিসেবে আক্রমণে রাজ্জাক। ইনিংসের শুরুটা করেছিলেন অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম ৩ ওভারে ৯ রান দেন তিনি। আর নিজের প্রথম ২ ওভারে ৫ রান দেন রাজ্জাক। তবে দীর্ঘদিন পর ফিরে আসাটাকে বড়সড়ভাবে উদযাপন করতে সময়ক্ষেপন করেননি রাজ্জাক।

নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট পেয়ে যান রাজ্জাক। শ্রীলংকার ওপেনার দিমুথ করুনারত্নকে ঘুর্ণির ফাঁদে ফেলে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান রাজ্জাক। উইকেটের পেছনে স্ট্যাম্প হবার আগে ৩ রান করেন করুনারত্নে।

দ্রুতই শ্রীলংকার প্রথম উইকেট তুলে নেয়া বাংলাদেশকে পরবর্তীতে ঝেঁকে বসতে দেননি সফরকারীদের দুই ব্যাটসম্যান ওপেনার কুশল মেন্ডিস ও ধনানঞ্জয়া ডি সিলভা। পাল্টা আক্রমন করে বসেন মেন্ডিস-ডি সিলভা। তাদের পরিকল্পনা কাজে দেয়, তাতেই লাইন-লেন্থহীন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের বোলিং। এই সুযোগে দলের স্কোর ৫০ পার করিয়ে বড় করতে থাকেন মেন্ডিস-ডি সিলভা। এমন সময় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্রু এনে দেন তাইজুল। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩০ বলে ১৯ রান করা ডি সিলভাকে থামান তাইজুল। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ বলে ৪৭ রান করেন মেন্ডিস-ডি সিলভা জুটি।

৬১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর আবারো বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করে শ্রীলংকা। এবার ক্রিজে মেন্ডিসের সঙ্গী দানুস্কা গুনাথিলাকা। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি তারা। রাজ্জাকের দ্বিতীয় আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান মেন্ডিস-গুনাথিলাকা। ১৩ রান করেন গুনাথিলাকা।

এরপর ক্রিজে আসেন শ্রীলংকার অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল। লংকান অধিনায়ককে প্রথম ডেলিভারিতেই বোকা বানিয়ে দেন রাজ্জাক। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে চান্ডিমালের উইকেট উপড়ে ফেলেন রাজ্জাক। তাই ১ বল মোকাবেলা করে শূন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন লংকান দলপতি। এতে হ্যাট্টিকের সম্ভাবনা জাগে রাজ্জাকের। কিন্তু হ্যাট্টিকের স্বাদ নিতে পারেননি তিনি।

তবে তৃতীয় উইকেট শিকারের কিছুক্ষণ পর শ্রীলংকার শিবিরে আবারো আঘাত হানেন রাজ্জাক। উইকেটে সেট হয়ে স্বাচ্ছেন্দ্যে ব্যাট করা ওপেনার মেন্ডিসকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে থামিয়ে দেন রাজ্জাক। চান্ডিমালের মত মেন্ডিসকেও বোল্ড করেন রাজ্জাক। টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ফিরেন তিনি। ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় ৯৮ বলে ৬৮ রান করেন মেন্ডিস।

রাজ্জাকের সাথে তাল মিলিয়ে অপর প্রান্ত দিয়ে পরের ওভারেই শ্রীলংকার আরও একটি উইকেট তুলে নেন তাইজুল। ১ রান করা শ্রীলংকার উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলাকে বোল্ড করেন তাইজুলও। ফলে দলীয় ১১০ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় শ্রীলংকা।

এ অবস্থায় শ্রীলংকার হাল ধরেন রোশেন ডি সিলভা-দিলরুয়ান পেরেরা ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আকিলা ধনানঞ্জয়া। তিনজন মিলে কঠিন সময়ে শ্রীলংকাকে ৯৫ রান এনে দেন। সপ্তম উইকেটে পেরেরার সাথে ৫২ ও অস্টম উইকেটে ধনানঞ্জয়ার সাথে ৪৩ রান যোগ করেন রোশেন।

পেরেরাকে ফিরিয়ে সপ্তম উইকেটের জুটি ভাঙ্গেন তাইজুল। আর ধনানঞ্জয়াকে শিকার করে অষ্টম উইকেট জুটি ভাঙ্গেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। পেরেরা ৩১ ও ধনানঞ্জয়া ২০ রান করেন। এই দু’জন যখন বিদায় নেন তখন দলের স্কোর ৮ উইকেটে ২০৫ রান।

এরপর দুই টেল-এন্ডারকে নিয়ে দলের স্কোর এগিয়ে নিতে থাকেন দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া রোশেন। কিন্তু দলকে ২২২ রানের বেশি এনে দিতে পারেননি রোশেন। তাইজুলের শিকার হয়ে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হবার আগে ১২৪ বলে ৫৬ রান করেন রোশেন। তার ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। বাংলাদেশের রাজ্জাক ও তাইজুল ৪টি করে এবং মুস্তাফিজুর ২টি উইকেট নেন।

শ্রীলংকাকে অলআউট করে দিয়ে নিজেদের ইনিংসের শুরু করে মহাবিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ৯ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তখন দলের রান ৪। বাউন্ডারিতে নিজের ও দলের রানের খাতা খোলা ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল থামেন ৪ রানে।

চট্টগ্রামের টেস্টের হিরো মোমিনুল হক রানের খাতাই খুলতে পারেননি। নিজের খামখেয়ালিপনায় রান আউটে নিজের ইনিংসের ইতি টানেন ৩ বল খেলা মোমিনুল। এমন চাপে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব পান ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন মুশি।

ইনিংসের নবম ওভারে শ্রীলংকার পেসার সুরাঙ্গা লাকমলের অফ-স্ট্যাম্পের দুটি দুর্দান্ত ডেলিভারি ছেড়ে দেন। দুটিই ডেলিভারিই স্ট্যাম্প ঘেষে চলে যায়। বলাবাহুল্য, ভাগ্যের জোড়ে দুবার বেঁচেই যান মুশফিকুর। একইভাবে ওই ওভারের শেষ বলটিও ছেড়ে দেন মুশফিকুর। কিন্তু এবার আর ভাগ্য সহায় হয়নি তার। বল গিয়ে আঘাত হানে অফ-স্ট্যাম্পে। তাই ২২ বলে ১ রান করে ফিরেন মুশি।

১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে সাহস যোগানোর চেষ্টা করেন ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস। রান তোলায় মনোযোগি হয়ে উঠেন তারা। তবে ইমরুলের বিদায়ে একসাথে দিন শেষ করা হয়নি লিটনের। ৩টি চারে ৫৫ বলে ১৯ রান করে দিনের খেলা শেষ হবার ১৩ বল আগে বিদায় নেন ইমরুল।

তবে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা মিরাজকে নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেন লিটন। ৩টি চারে ৪৩ বলে ২৪ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন লিটন। ৫ রানে অপরাজিত মিরাজ। শ্রীলংকার লাকমল ২টি ও পেরেরা ১টি উইকেট নিয়েছেন।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

খালেদা জিয়াকে হত্যার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়াকে হত্যার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল


শ্রীনগরে পুলিশের ‘চেকপোস্টে হামলা’, ২ জন নিহত

শ্রীনগরে পুলিশের ‘চেকপোস্টে হামলা’, ২ জন নিহত


আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচারের পথ খুলল

আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচারের পথ খুলল


আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


জেনে নিন কলার গুণাগুণ

জেনে নিন কলার গুণাগুণ


দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা

দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা


যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া

যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া


পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি

পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি


ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের

ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের


ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা