Thursday, April 13th, 2017
ভাঙন-ঘেঁষা ঘাসফুলে কাঁপে শব্দে
April 13th, 2017 at 9:58 am
ভাঙন-ঘেঁষা ঘাসফুলে কাঁপে শব্দে

জিনাত জাহান খান: বাগানজুড়ে সৌখিনতায় হেসে বাতাসে ঋতুফড়িংয়ের ওড়াওড়ি । প্রভাকরের চোখে চোখ রেখে আনন্দিত হও জন্ম; দ্যাখো, এটেল মাটির নাভি ফুঁড়ে বকুল বীজের উঁকি। সে মাটির প্রণয়ে মানুষের পায়ের কাছে জড়ো হতে থাকবে; প্রেমিক অতিক্রম করবে সুবাসিত দৈর্ঘ্য। সাদাপোশাক জড়িয়ে প্রেমিকা আসবে ডানাবোঝাই অতিথি পাখি উড়িয়ে। এরপর প্রেম, প্রেমিকা বা প্রেমিক আচ্ছন্ন হতে থাকবে কুয়াশায় । তিনহাত দূরে কাঁটার আঘাতে মরে যাবে বৃদ্ধ মালি, আমরা তার কিছুই টের পাবো না । শুধু জানতে থাকবো- ফুলেদের ঘামে নুন থাকে না; কর্কট ও বৃশ্চিকজুড়ে হাসতে থাকবে সরীসৃপ আর আমাদের বাগানজুড়ে ঘুরতে থাকবে শীতকাল । তারপর বসন্ত এলে জাগবে বাতাস, পূর্বের আবেশ নিয়ে। বুড়িয়ে যাওয়া বৃক্ষ, মানুষ, মাটি, জল, আলো সবখানেতেই আগুন যেন, সজ্জিত সমৃদ্ধ। দৌড়ে যাই রাজপথে। যেখানে নর্দমা থেকে উঠে আসে গরম বাতাস,ওডোনিলের গন্ধ। পথের দুপাশে চলে সুগন্ধি ফেনার ওড়াওড়ি। নষ্ট পালক নিয়ে ছুটে যাচ্ছি, আর মনে হচ্ছে স্বপ্নবোধটুকু খেয়ে খেয়ে বেড়ে যাচ্ছে জলতেষ্টা। কিছু কিছু সময়শূন্য অনুভূতি ফেরাতে পারি না, লুকিয়ে রাখা আয়নায় উচ্ছ্বসিত বনমানুষের নৃত্য। কেন এমন মনে হয় যে, শিল্পের খোঁজে ঘ্রাণের বুদ্বুদ দিয়ে ঢেকে ফেলছে নশ্বর নাভিমূলের খিদে। সময়ের কাছে টীকার জীর্ণতা মূর্ত হয়ে ওঠে…

পকেটহীন শার্টের পকেটে লুকানো ছিলো নাকি রাবারের খেলনা পুতুলগুলো, হাত দাও… পাওয়া গেলো কী কিছু…আহা এ তো দেখি একঝাঁক প্রজাপতি, ক্যামেরার মোটা লেন্স আর সার্কাস জোঁকারের ১০৫টি টুপি – যদিও ফুল কিংবা ফুলসংক্রান্ত কবিতা ছিলো কিনা মনে আসছে না ঠিক; প্রতি পূর্ণিমারাতে বুক দিয়ে আগলে রাখে যে সাপ বৃক্ষশরীরটাকে, কী নাম তার, তাও জানিনা। প্রজাপতি, ক্যামেরা কিংবা চাঁদ কী কবিতা পড়ে… চেনে কী কবিবিশেষ কাউকে? আহা কবি! কবিদের চোখে মায়া আছে, মায়ার ছায়ার ডানা আছে, উড়ে যাবে? উড়ুক। কি হবে এবার? এইযে চোখের পলকে ভরে ওঠে জল! বৃষ্টি হয়, চলছে বহুযুগ ধরে অবয়ব পালটে। পা ডোবাও, তখন অন্য দৃশ্য। ফেরিওয়ালার ক্লান্ত ডাকে সন্ধ্যা আসে। আমাকে ভালোবাসি যেমন ছুঁয়ে থাকা নিকোটিন পুড়ছে আনন্দচিত্তে। জানালায় রাতের শহর, বাবুই পাখির বাসায় ঘুমায় জল ও তৃষ্ণা। কাউকে ভালোবাসার মতো এও এক অভিজ্ঞতা—

পৃথিবীতে মুখ্যার্থ হোক কাব্যাদি আর গৌণ হোক ভ্রমণসুর… সম সম কামনার উদ্দেশ্যে পাঠ শুরু হোক কবিদের আত্মকথা, তবু কেন জানিনা বর্ষা এলে ভিজে যায় সব নীল রঙের নীল। আর নতুন জলে নেচে বেড়ায় শ্বাসকষ্টে ভোগা পোয়াতি মাছ, তার লেজ থেকে নেমে যাচ্ছে, নিহতমুদ্রার গান। সমুদ্রজলে নুন থাকে, দেয়ালঘড়ির পেট বেয়ে নেমে আসা যত নুনঘাম শুষে নিচ্ছে তানপুরাটার ফোকর। টুকরোটুকরো আয়নায় নিজেদের দেখে দেখে হাসে কেন আকাশের তারাগুলি! ওস্তাদের সামনে বসে গলা সাধছে যে মিনরাশির জাতিকা, তার ঠোঁটে পদ্মপুরাণ… কবিতা হবে কী তা?

ঘুম থেকে উড়ছে ঘোড়া! হলুদ পাতারাও কখনো দূরবীন হয়ে পতন দেখে। এসব পতন-ঘনিষ্ঠ বন নিজেকে উজাড় করে ছায়া ও আলোয় গজে ওঠা অন্যকোন অবর্ণনীয় প্রার্থনায়। ভাঙন-ঘেঁষা ঘাসফুল কাঁপে শব্দে, কাম ও উৎসাহে


সর্বশেষ

আরও খবর

কবি শামসুর রাহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কবি শামসুর রাহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত


সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনকে শুদ্ধ করে: রাবি উপাচার্য

সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনকে শুদ্ধ করে: রাবি উপাচার্য


প্রায় সকল ধর্মেই ঈশ্বরের চাহিদাগুলো প্রচণ্ড রকম ডগম্যাটিক উপায়ে এসেছে: রেজওয়ান তানিম

প্রায় সকল ধর্মেই ঈশ্বরের চাহিদাগুলো প্রচণ্ড রকম ডগম্যাটিক উপায়ে এসেছে: রেজওয়ান তানিম


স্বাস্থ্যবিধি।। মোঃ কামারুজ্জামান সানিল

স্বাস্থ্যবিধি।। মোঃ কামারুজ্জামান সানিল


সম্ভবত রাজনৈতিক কবিতা।। প্রণব আচার্য্য

সম্ভবত রাজনৈতিক কবিতা।। প্রণব আচার্য্য


অ-সরল অঙ্ক।। অঞ্জন আচার্য

অ-সরল অঙ্ক।। অঞ্জন আচার্য


হুমায়ুনের সামনে কুণ্ঠিত হাসান আজিজুল হক

হুমায়ুনের সামনে কুণ্ঠিত হাসান আজিজুল হক


বশিরানন্দ দাশ ও সোমলতা সেন

বশিরানন্দ দাশ ও সোমলতা সেন


তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ জীবনভিত্তিক শক্তিশালী গল্প: তুহিন দাস

তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ জীবনভিত্তিক শক্তিশালী গল্প: তুহিন দাস


খবর চুরি।। মাসকাওয়াথ আহসান

খবর চুরি।। মাসকাওয়াথ আহসান