Monday, March 6th, 2017
ভাস্কর্য চাই। ভাস্কর্য চাই না।
March 6th, 2017 at 2:52 pm
ভাস্কর্য চাই। ভাস্কর্য চাই না।

আবু তাহের তারেক: গান হারাম হইলেও, মৌলভীরা তাতে চড়াও না হইয়া, ভাস্কর্য বিরোধীতায় একজোট হইলেন কেন? মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে ভাস্কর্য হইতে দেওয়া যাবে না—এই বক্তব্যে সংখ্যালঘুর ইচ্ছার প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের ইনসাফের অনুপস্থিতি থাকে। এই বেইনসাফি একদিনে তইয়ার হয় নাই আলেমদের মনে।

আলেমরা যেমন জোর কইরাই মূর্তি হইতে দিবেন না। সুশীলরাও তেমন—মূর্তির যদি দরকার নাও লাগে, তাতেও মূর্তি বসাইতে মরিয়া।

কেন?

কারণ, দেশের সেক্যুলাররা ধর্মরে একে একে বিনাশ কইরা দিবার চাইতেছেন। এখন, ধর্মের জায়গা ত খালি থাকে না। এই বিনাশ করা ধর্মের জায়গায় তারা সেক্যুলারিজম নামক আরেক ধর্মরে প্রতিষ্ঠা দিতে তৎপর।

যেমন, শহীদ মিনার কেন্দ্রীক সেক্যুলার ধর্মপ্রবণতার উত্থান।

পাঠ্যপুস্তকে ইসলামি প্রসংগের অবতারণায় সেক্যুলাররা ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। সেক্যুলাররা পাঠ্যবইয়ে তাদের রাইট ইনক্লুডের দাবি না জানাইয়া, পুরা বইরেই তারার মত কইরা নিবার চাইতেছেন।

মূর্তি বিরোধীতা সেক্যুলার ক্রিয়ার বিপরীত প্রতিক্রিয়াই আসলে। আলেমরা ফিল করতেছেন, মূর্তি হইল মুসলমানি চেতনারে একঘরে করবার ছল।

হইছে কি, মাইনষের মূর্তি বানাইলেই খালি ভাস্কর্য হয় না। দেশে যত মূর্তি দেখছি, এইগুলারে বালু আর সিমেন্টের স্তূপই মনে হইছে কেবল। কিন্তু, পাবলিক স্পেইস যেমন মুসলমানের, তেমন সেক্যুলারেরও। এই স্পেইস ইউজের বেলায় জবরদস্থি চলবে না।

আমরা চাইলেই, মুসলমানের চোখে যে আর্ট উৎকট লাগে, যে আর্টে সে তার অস্তিত্ব উচ্ছেদের ডরে থাকে, সে আর্ট নাও করতে পারি।

এছাড়া, মুসলমান যেদিন সেক্যুলারদের সন্দেহ করবে না, সেদিন নিশ্চয় ভাস্কররা মানুষের মূর্তিতেও সুন্দর ফুটাইয়া তুলতে পারবে। আমেরিকায় ত এই সেদিন মুসলিমরা কয়েক মিলিয়ন ডলার দিয়া ইহুদিদের প্রার্থনালয় বানাই দিছে। আর, ইহুদিরা তাদের প্রার্থনালয়ের গেইট খুইলা দিছে বিপদগ্রস্থ মুসলিমদের নামাজ পড়ার জন্য, আমেরিকারই আরেক স্টেইটে।

পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসা থাকলে সবই হয়।

লেখক:কবি, অনুবাদক, সমালোচক।

(বানানরীতি লেখকের নিজস্ব)


সর্বশেষ

আরও খবর

একটি আত্মহত্যা ও কিছু প্রশ্ন

একটি আত্মহত্যা ও কিছু প্রশ্ন


অপরাজিতা মেয়ের পরাজয়ের গল্প

অপরাজিতা মেয়ের পরাজয়ের গল্প


বাঙালির দ্বি-মুখী লড়াই: হিন্দুত্বের সাথে এবং মুসলমানিত্বের সাথে

বাঙালির দ্বি-মুখী লড়াই: হিন্দুত্বের সাথে এবং মুসলমানিত্বের সাথে


দ্রোহের গুঞ্জন: সংস্কৃতি ও রাজনীতি

দ্রোহের গুঞ্জন: সংস্কৃতি ও রাজনীতি


কেউ কষ্টের কথাগুলি বলতে চায় না

কেউ কষ্টের কথাগুলি বলতে চায় না


আমগো যা কওয়ার ছিলো; তাই কইতাছে বাংলাদেশ: সাঈদী

আমগো যা কওয়ার ছিলো; তাই কইতাছে বাংলাদেশ: সাঈদী


শ্রমিক আর সংবাদকর্মী: সবাই আজ শোষিত

শ্রমিক আর সংবাদকর্মী: সবাই আজ শোষিত


বাজিলো কাহারো বীণা

বাজিলো কাহারো বীণা


নানীর পহেলা বৈশাখ: ভায়লেট হালদার

নানীর পহেলা বৈশাখ: ভায়লেট হালদার


‘এই পরবাস অপমানের’

‘এই পরবাস অপমানের’