Thursday, December 29th, 2016
রং ফড়িং’র পাঠশালা
December 29th, 2016 at 7:00 pm
রং ফড়িং’র পাঠশালা

আসিফ ইমরুল: ‘সংষ্কৃতি, শিক্ষা আর শ্রদ্ধা’ – এবারের ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে এই তিন শুভের সম্মিলনে আয়োজন ছিল ‘রং ফড়িং এর পাঠশালা’র। ফেসবুক পেইজ ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের তিনব্যপী অনুষ্ঠানের পুরোটা জুড়েই ছিল এই তিন শুভের ছাপ।

প্রথম দিনে অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বরে ছিল সংস্কৃতি পর্ব। এ পর্বে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস ছিল বাংলা সংস্কৃতির এমন এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়কে, যা এক সময় ছিল বাংলার শৌর্যের প্রতীক – ‘রায়বেশে নৃত্য’। খুব বেশি অতীতে যেতে হবে না, সুপ্রাচীন কাল থেকে এই আঠারোশ শতক পর্যন্ত এ বাংলায় প্রচলিত ছিল রায়বেশে নৃত্য। ‘রায়’ – অর্থ রাজকীয় আর ‘বেশে’ এখানে ‘বংশীয়’ অর্থ বহন করে। এই দুইয়ের সম্মিলনে নৃত্য ‘রায়বেশে নৃত্য’। যুদ্ধের প্রস্তুতি হোক, কিংবা বাৎসরিক সমাবেশ – রায়বেশে নৃত্য ছিল তখনকার নবাব রাজা কিংবা জমিদারদের রণ সামর্থ প্রকাশের মাধ্যমের। মুক্ত কন্ঠে ফুটিয়ে তোলা রণহুংকার, সাথে শারীরিক কসরত, চারদিকে ঘিরে থাকা শত শত উৎসুক চোখ – বাংলার হারানো সেই রূপটি ধরা দিয়েছিল আবার। এই ১৪ ডিসেম্বর টিএসসির প্রাঙ্গণে। রংফড়িং এর পাঠশালার আয়জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা মূহুর্তটিকে নিয়ে গিয়েছেন পুরোনো সেই দিনে। বুদ্ধিজীবী হত্যার শোককে শক্তিতে পরিণত করে সাম্প্রতিক অসহিষ্ণুতার বিনাশ – এই ছিল এবারের মূল প্রতিপাদ্য।

উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব ছিল শিশুশিক্ষাকে ঘিরে। কথা হচ্ছিল এক পথশিশু রোকশানার সাথে। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে কাটে তার রাত দিন। দিনে ফুল বেচা, বিকালে স্কুল আর রাতে দাদীর সাথে উদ্যানের পাশেই মাথা গোজা। স্বপ্ন জিজ্ঞাসা করতেই সে বলেছিল, ‘কেমন হত যদি একটা বড় বই চলে আসত আমার থাকার জায়গায়।’ রাজধানী ঢাকার পথে পথেই চোখে পড়ে এমন সব পথশিশুদের, যাদের কারো কারো বাবা মা জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছে এখানে, কোনো কোনো শিশু নিজেই লেগে পড়েছে জীবিকার সন্ধানে। ভালো খবর হল, এ শহরে এগিয়ে এসেছে অনেক তরুণ কিংবা প্রতিষ্ঠান, যারা নিজ খরচে পথশিশুদের দিচ্ছেন জ্ঞানের আলো।

একটা অভাব সেখানেও থেকেই যাচ্ছে। প্রত্যেক শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া অনেক সময়ই অর্থাভাবে সম্ভব হচ্ছে না। তাই রোকশানাদের স্বপ্ন পূরণ করতেই ১৫ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯মিনিটে শহরের আটটা বস্তিতে নেওয়া হয়েছিল রং ফড়িং এর পাঠশালার একটা ছোট্ট উদ্যোগ – ‘স্বপ্নজয়-Phase 1’। সার্বিক সহায়তায় ছিল অদম্য আই টি। উদ্যোগের এই অংশে বাংলা ও ইংরেজী বর্ণমালার বইকে ছন্দে সাজিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে পোস্টারে। সেই পোস্টার গুলো জায়গা পেয়েছে পথশিশুদের হাতের কাছে কোনো দেয়ালে।

উৎসবের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্ববরে ছিল তৃতীয় তথা শেষ পর্ব – ‘শ্রদ্ধা পর্ব’। মুক্তিযুদ্ধকালীন শরাফত আলী ছিলেন কর্নেল তাহেরের একান্ত দেহরক্ষী। মার্চের শুরু থেকেই অংশ নিয়েছেন প্রতক্ষ সমরযুদ্ধে। যুদ্ধের পরে কাজ করেছেন রক্ষীবাহিনী ও সেনাবাহিনীতে। বয়সোর্দ্ধ এই প্রবীন বর্তমানে কর্মরত আছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে গার্ড পদবীতে। রংফড়িং এর পাঠশালার উদ্যোগে এই প্রবীন মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও সম্মাননা দেওয়া হয় একজন সফল শিক্ষক, একজন সফল উদ্যোক্তা ও একজন সফল কর্মজীবীকে।

লেখক: বুয়েট শিক্ষার্থী


সর্বশেষ

আরও খবর

হয়ত শাকিব অপুও থাকবে না

হয়ত শাকিব অপুও থাকবে না


পাঠ প্রতিক্রিয়া: ফরিদপুরে বিতর্ক চর্চা

পাঠ প্রতিক্রিয়া: ফরিদপুরে বিতর্ক চর্চা


একটি আত্মহত্যা ও কিছু প্রশ্ন

একটি আত্মহত্যা ও কিছু প্রশ্ন


অপরাজিতা মেয়ের পরাজয়ের গল্প

অপরাজিতা মেয়ের পরাজয়ের গল্প


বাঙালির দ্বি-মুখী লড়াই: হিন্দুত্বের সাথে এবং মুসলমানিত্বের সাথে

বাঙালির দ্বি-মুখী লড়াই: হিন্দুত্বের সাথে এবং মুসলমানিত্বের সাথে


দ্রোহের গুঞ্জন: সংস্কৃতি ও রাজনীতি

দ্রোহের গুঞ্জন: সংস্কৃতি ও রাজনীতি


কেউ কষ্টের কথাগুলি বলতে চায় না

কেউ কষ্টের কথাগুলি বলতে চায় না


আমগো যা কওয়ার ছিলো; তাই কইতাছে বাংলাদেশ: সাঈদী

আমগো যা কওয়ার ছিলো; তাই কইতাছে বাংলাদেশ: সাঈদী


শ্রমিক আর সংবাদকর্মী: সবাই আজ শোষিত

শ্রমিক আর সংবাদকর্মী: সবাই আজ শোষিত


বাজিলো কাহারো বীণা

বাজিলো কাহারো বীণা