Wednesday, February 21st, 2018
রাজনৈতিক স্বার্থে নষ্ট হচ্ছে একুশের চেতনা
February 21st, 2018 at 12:59 pm
রাজনৈতিক স্বার্থে নষ্ট হচ্ছে একুশের চেতনা

এম কে রায়হান: রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সেদিন সালাম, বরকত, রফিক, শফিকদের কাতারে আহমদ রফিকও দাঁড়িয়ে ছিলেন। মায়ের ভাষার স্বীকৃতি ছিনিয়ে আনতে ৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারি গর্জে উঠেছিলো তার কন্ঠ। রক্তাক্ত ওই দিনের পর কেটে গেছে ৬৫ বছর। এত বছরে রক্তের দাগ তো শুকিয়েই গেছে তবু আজও ঝরে তার চোখের পানি। তাই হয়তো স্মৃতির মণিকোঠায় সযত্নে আগলে রেখেছেন সেই ভয়াল স্মৃতিকে। ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’ এই ভাষা সৈনিকের সঙ্গে কথা হয় নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র এই প্রতিবেদকের। আলোচনায় উঠে আসে রাজনৈতিক, সামাজিক, তরুণ প্রজন্মের ভাবনাসহ নানা দিক। আমাদের পাঠকদের জন্য এ আলোচনার একাংশ তুলে ধরা হলো-

৫২’র এই দিনে আপনাদের লক্ষ্য কী ছিল?

২০ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র সমাজ উত্তেজিত ছিল; যে কোনো মূল্যে ১৪৪ ধারা ভাঙতে হবে। পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারী আমতলার সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যেভাবেই হোক ১০ জন করে মিছিল করে ১৪৪ ধারা ভাঙ্গা হবে। এভাবে ১৪৪ ধারাও ভাঙ্গা হলো। শেষ পর্যন্ত বেলা ১২টার দিকে আমরা সবাই মেডিকেল কলেজের সামনে জমায়েত হই। পরিষদ ভবন ঘেরাও করে এমএলেদের কাছ থেকে কথা আদায় করা যে তারা বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার চেষ্টা করবেন। এটাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

আপনার চোখে ৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারি…

আমতলার সেই সভায় ছাত্র সহ আরো অনেকেই এসেছিলেন। মিছিলের কথা বলা হলেও সেদিন আসলে কোনো মিছিল হয়নি। অনেকেই ভুল করে মিছিলের কথা বলে থাকেন। আমরা সবাই হোস্টেল প্রাঙ্গনে জমায়েত হয়ে ছিলাম। সেই জমায়েতের মধ্যেই বেলা তিনটার দিকে গুলি চালানো হয়। বাইরে রাষ্ট্রপতির লোক লাগানো ছিল সেখানেও গুলি চালানো হয় এবং একজন মারা যান। আর হোস্টেল প্রাঙ্গনের গুলিতে রফিক উদ্দিন, রোকন শহীদ, আব্দুল জব্বার, আবুল বরকত মারা যান। তখন আব্দুস সালামের পায়ে গুলি লেগেছিল। উনি সার এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ভাষা আন্দোলনের সেই চেতনা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে?

১৯৫২ এর আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই কিন্তু রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা হয়। সেই প্রতিষ্ঠার কারণেই পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো একুশের চেতনা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মৌলিক দিক থেকে অনেক খানিক সরে গেছে। আমাদের যা লক্ষ্য ছিল তা মূলত শ্রেণিস্বার্থের প্রভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে রাজনীতির রয়েছে প্রধান ভূমিকা। জনচেতনা, সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক সচেতনা কেমন যেন ভোঁতা হয়ে গেছে। তাদের প্রাপ্য আদায়ে লড়াইয়ের ময়দানে নামার আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

একটা শ্রেণির মানুষ বাংলা ভাষাকে নিজের মতো করে ব্যবহার করছে, বিষয়টা কীভাবে দেখচ্ছেন?

বাংলা ভাষা সম্পর্কে আগ্রহের অভাব, উচ্চারণে বা বলায় বিকৃতি নিয়ে প্রতিবাদে কারো আগ্রহ নেই। ইংরেজি মাধ্যম জীবিকার সঙ্গে যুক্ত থাকায় শিক্ষায় বা বিচার বিভাগে বাংলার অভাব নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। দিনকে দিন নানা নয়া ব্যবস্থায় ইংরেজি মাধ্যমের প্রসার ঘটায় বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। সুবিধাবাদী, সুবিধাভোগী শ্রেণি বিশেষের আধিপত্যের কারণে এমন অবস্থা তৈরি হচ্ছে।

বর্তমান বাংলাদেশ নিয়ে আপনি কতটা খুশি?

একুশের চেতনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থায় খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তা প্রধানত উচ্চ ও মধ্যশ্রেণির মানুষ ভোগ করছে। মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের অনেক অভাব। গুম, খুম, সন্ত্রাস নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে সমাজে প্রতিবাদ, প্রতিকারের চেষ্টা নেই বললেই চলে।

সেই সময়ে যেই আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন আপনার বা আপনাদের সেই স্বপ্ন কতোটা বাস্তবায়িত হয়েছে?

আসলে যদি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাকাই তবে বলব, শুধু রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতি ছাড়া চেতনার সামান্যই বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে সাহিত্য-সংস্কৃতির বৈপ্লবিক ও গুণগত পরিবর্তন ঘটেছে। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হওয়া উচিত ছিল। জাতীয় জীবনের সবক্ষেত্রে ভালো বাংলা, শুদ্ধ বাংলার ব্যবহার হোক এই আমার চাওয়া। এই যে সাইনবোর্ড, ব্যানার, বিলবোর্ড, দাপ্তরিক কাজগপত্রে ভুল বাংলা, বাংলার সঙ্গে ইংরেজির মিশ্রণ ঘটানো দোআঁশলা বাংলা- এসব একুশের চেতনার পরিপন্থী। এর দায়-দায়িত্ব শিক্ষা-সংস্কৃতি বিভাগ ও সর্বপরি সরকারের। সরকারকেই উদ্যোগী হয়ে সর্বস্তরে বাংলা চালু করতে হবে ও দোঁআশলা বাংলার ব্যবহার পরিহারে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সমাজের সচেতন অংশ যারা, তাদেরও দায় আছে। তাদের এই দোআঁশলা বাংলা ও ইংরেজি ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে।

ভাষা সৈনিক হিসেবে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে …

তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সমাজের কথা ভাবতে আগ্রহী নয়। এটা সময়ের পরিবর্তন, পরিবেশ ও রাজনীতির ধারার কারণেই হয়েছে। বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় সে পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অথচ এক সময় তারুণ্যই দেশের কথা দশের কথা ভেবে প্রাণ দিয়েছে, কষ্ট নির্যাতন ভোগ করেছে। লক্ষ্য কখনো অর্জিত হয়েছে, কখনো হয়নি; তবু তারা পিছিয়ে পড়েনি। আমি একালেও তেমন তারুণ্যকে দেখতে চাই। সমাজ সচেতন, নিঃস্বার্থ, মানবিক মূল্যবোধে ঋদ্ধ, প্রতিবাদী ও সংগ্রামী তারুণ্যকে দেখতে চাই। দেখতে চাই উদার- আর্দশবাদী তারুণ্যকে যারা সমাজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে অঘটন ঘটাতে সক্ষম।

সম্পাদনা: এম কে আর


সর্বশেষ

আরও খবর

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


জেনে নিন কলার গুণাগুণ

জেনে নিন কলার গুণাগুণ


দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা

দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা


যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া

যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া


পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি

পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি


ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের

ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের


ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা


ওয়েডিং ফটোগ্রাফার এলেন খান, যার শিডিউল পাবার পর ঠিক হয় বিয়ের তারিখ

ওয়েডিং ফটোগ্রাফার এলেন খান, যার শিডিউল পাবার পর ঠিক হয় বিয়ের তারিখ


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু


কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি

কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি