Thursday, November 23rd, 2017
শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সদরঘাট
November 23rd, 2017 at 4:52 pm
শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সদরঘাট

এম কে রায়হান, ঢাকা: সদরঘাট বাংলাদেশের আদি ঢাকা শহরের নদীবন্দর যাকে ঘিরে উনিশ শতকে একটি ব্যবসায়িক জনপদ গড়ে ওঠে। এই নদীবন্দরটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। ১৮২০ সালের দিকে সদরঘাটের পূর্বদিকে ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টরের অফিস পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরিত হয়। এর উত্তর দিকের এলাকাগুলো নতুন নগরকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

সদরঘাট ছাড়াও বুড়িগঙ্গা তীরের আরেক ঘাট ওয়াইজঘাট থেকেও লঞ্চ-স্টিমার ছাড়ত সেই ব্রিটিশ আমলেই। একবিংশ শতকের শুরুতেও এটির গুরুত্ব অক্ষূণ্ন রয়েছে।

এর সন্নিহিত এলাকা পুরনো ঢাকা নামে প্রসিদ্ধ। এর অতি নিকটে রয়েছে পুস্তক প্রকাশনার ঘাঁটি বাংলাবাজার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বলধা গার্ডেন এবং আহসান মঞ্জিল এবং, সর্বোপরি, বিভিন্ন নদী পরিবাহিত পণ্য, বিশেষ করে মাছ ও ফলের সুবিশাল সব আড়ত। সারাদেশ, বিশেষ করে, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা শহরের নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকেন্দ্র এই সদরঘাট। অসংখ্যা লঞ্চ ঘাটে নোঙড় করে আছে। ডিঙ্গি নৌকাগুলো যাত্রী নিয়ে এপার-ওপার করছে, কুলিদের শোরগোল—সব কিছু মিলে সদরঘাট এমন একটি জায়গা যা কখনো নীরব থাকে না।

সদরঘাটের গোড়াপত্তন কবে হয়েছে তা ইতিহাসে অনির্দিষ্ট হলেও এর বয়স প্রায় হাজার বছর বলেই মনে করেন কোনো কোনো গবেষক। মূলত জনপদ, প্রাচীন সভ্যতাগুলোর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নদীকে কেন্দ্র করে এবং সভ্যতার অগ্রগতিও হয়েছে নদীর গতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে অনেক কিছু। তখন নদীর পাড়ে কোনো স্থায়ী ঘাট না থাকলেও এখন সেখানে একটি টার্মিনাল গড়ে উঠেছে। আশপাশে উঠে গেছে উঁচু উঁচু সব ভবন। ফলে নদী থেকে এখন আর আগের মতো রাস্তা দেখা যায় না। তবে আগের মতোই এখনো ব্যস্ততা আছে সদরঘাটে।

এই নদীবন্দর থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, হুলারহাট, মাদারীপুর, চাঁদপুর, খুলনা, হাতিয়া, বাগেরহাটসহ মোট ৪৫টি রুটে লঞ্চ ও স্টিমার চলাচল করে। মালামাল বহনকারী বার্জগুলোও সদরঘাটকে মাল ওঠানো-নামানোর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। পাশপাশি সরদঘাট ফলমূল, শাকসবজি ও বিবিধ সামগ্রীর একটি বৃহৎ দৈনিক বাজারে পরিণত হয়েছে। স্টিমার-লঞ্চ ছাড়াও ডিঙি নৌকাগুলো সদা ব্যস্ত যাত্রী নিয়ে এপার-ওপার খেয়া বাইতে। সব সময় লেগে থাকে কুলিদের শোরগোল।

কয়েকশ বছরের ঐতিহ্য থাকলেও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এখানে আসা যাত্রীদের প্রায়শই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর লঞ্চ টার্মিনালের মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম কুলি। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে কুলিদের দৌরাত্ম যেন অনিঃশেষ। কখনো বাড়ে কখনো কমে। কুলিদের আছে এক বড় সিন্ডিকেট। ঈদ এলে তারা রীতিমত টার্মিনালে আতঙ্কে পরিণত হয়। সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালে প্রবেশ পথগুলোর সামনে যখন কোনো যাত্রী রিকশা, ট্যাক্সি, সিএনজি অটোরিকশা বা অন্য কোনো যানবাহনে আসছেন তখনই টার্মিনালের কুলিরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তাদের ওপর। সঙ্গে থাকা ব্যাগ অন্যান্য মালামাল নিয়ে টানা-হেঁচড়া শুরু করে কুলিরা। যাত্রীর অনুমতি না নিয়েই মালামাল কাঁধে তুলে নিয়ে হাঁটা শুরু করে দেয় অনেকে। তাদের মালামাল নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া শুরু করে এসব কুলি। যাত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা মালামাল বহন করে টাকা আদায় করে। অভিযোগ রয়েছে অনেক সময় নিজের মাল নিজে বহন করেও এসব কুলিকে টাকা দিতে হয়। কোনো যাত্রী ব্যক্তিগতভাবে মালপত্র লঞ্চে নিতে চাইলে কুলিরা তাতেও বাধা দেয়। এছাড়া আগেই দরদাম ঠিক করে নিলেও লঞ্চে গিয়ে কুলিরা বেশি অর্থ দাবি করে।

এছাড়াও সদরঘাট রয়েছে ফল ব্যবসায়ীদের দখলে। পাশাপাশি ছিনতাইকারী আর পকেটমারের উপদ্রব নতুন কিছুই নয়।

প্রকাশ: জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 

রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 


‘ছেলেরা পারলে আমরা পারবো না কেন?’

‘ছেলেরা পারলে আমরা পারবো না কেন?’


কঠিন মনের নারী সুমি বেগম!

কঠিন মনের নারী সুমি বেগম!


পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি

পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি


ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা

ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা


‘ভাই আমাকে মেরে ফেলেন’

‘ভাই আমাকে মেরে ফেলেন’


জনগণের কাছে পৌঁছতে ত্রাণকে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি!

জনগণের কাছে পৌঁছতে ত্রাণকে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি!


ইসি’র সংলাপে সারা দিবে ২০ দলীয় জোট

ইসি’র সংলাপে সারা দিবে ২০ দলীয় জোট


প্রস্তুত হচ্ছে গাবতলী পশুর হাট

প্রস্তুত হচ্ছে গাবতলী পশুর হাট


ডাস্টবিন নেই, পরে আছে লোহার দণ্ড

ডাস্টবিন নেই, পরে আছে লোহার দণ্ড