Monday, March 26th, 2018
‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও দেশের এ করুণ অবস্থা দেখে ঘৃণা হয়’
March 26th, 2018 at 3:33 pm
‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও দেশের এ করুণ অবস্থা দেখে ঘৃণা হয়’

ঢাকা: কখনো কলা বিক্রেতা আবার কখনো মুচি সেজে পাকিস্তানিদের তথ্য সংগ্রহ করতেন। যুদ্ধ করেছেন অস্ত্র হাতেও। মাইন পোঁতায় তিনি ছিলেন খুবই পারদর্শী। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বানের চিঠি পৌঁছাতে গিয়ে তাদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুটি বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন। আর তাই শুধু তার নামের শেষেই প্রথম বন্ধনীতে ‘বার’ লেখা হয়। বলছি বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সীর কথা। বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা যিনি দু’বার খেতাব প্রাপ্ত হন। স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে তার সঙ্গে কথা বলেন নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র প্রতিনিধি এম কে রায়হান।

কেমন আছেন?

বয়সের ভারে শারীরিক ভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে পরেছি। আর মানুষিক ভাবেও খুব ভালো নেই। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মনকে পীড়া দেয়।

৭১’র সেই দিন গুলোর কথা যদি বলতেন …

দেশ বিভাজনের পর আমরা আর পশ্চিম পাকিস্তান যখন একসাথে ছিলাম তখন আমাদেরকে মানে পূর্ব পাকিস্তানীদের উপর অনেক বৈষম্য করা হতো। চাকরি থেকে শুরু করে পণ্যের দামে এমনকি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হতো। যখন অবস্থার খুবই অবনতি হল তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ৭ মার্চে স্বাধীনতার ডাক দিলেন। সেদিন থেকেই আসলে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়। একটা কথা বলে রাখি, বঙ্গবন্ধু ছিলেন গরীবের নেতা। এদেশে কোনো ধনীরা যুদ্ধ করেনি। করেছে গরীবরা।

মার্চের ২৫ তারিখ যখন আমাদের উপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করল পশ্চিম পাকিস্তানীরা, তখন তা রণক্ষেত্রের রুপ নিল। যুদ্ধ শুরু হবার পর আমি ভারতের মেঘালয় থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেই। আমি নারায়নগঞ্জ, গাইবান্ধা, জামালপুর ও কামালপুরে পাকিস্তানীদের সাথে বহুবার সন্মুখ যুদ্ধ করেছি। প্রায় ২০টি গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি।

৭১’র এর স্মরণীয় কোনো ঘটনা …

প্রতিটি ঘটনাই আমার কাছে স্মরণীয়। তার মধ্যে একটি হলো; নভেম্বর মাসে আমি এক ঝুড়ি কলা নিয়ে গেলাম গাইবান্ধা ট্রেজারিতে। ওখানে ছিল হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প। কলাতে ছিল বিষ মেশানো। কলা নিয়ে দাম না দিয়েই আমাকে তাড়িয়ে দেয় পাকিস্তানি সেনারা। ওই কলা খেয়ে কয়েকজন হানাদার বাহিনী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

আপনার চিঠি দিয়ে আসার ঘটনাটা যদি বলতেন …

ঘটনাটি ৯ ডিসেম্বরের। ৩১ বেলুচের প্রায় দেড় হাজার সেনা পিটিআইয়ে প্রতিরক্ষা অবস্থানে ছিল। এ অবস্থান উচ্ছেদ না করে মিত্র বাহিনীর টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকার দিকে অভিযান পরিচালনা করা অনেকটা অসম্ভব। এ অবস্থায় শত্রুপক্ষের মনোভাব জানতে মিত্র বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ক্লেয়ার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে চিঠি লেখেন পাকিস্তানি অধিনায়কের কাছে। তখন আমি ভারতের পুরাখাসিয়ায় ক্যাম্পে ছিলাম। আমি স্বেচ্ছায় রাজি হলাম চিঠি দিয়ে আসতে। ৯ ডিসেম্বর আমি সাদা পতাকা উড়িয়ে সাইকেলে চড়ে রওনা হই জামালপুরের দিকে। পিটিআই ক্যাম্পে যাওয়ার পথে পাকিস্তানি সেনারা আমাকে আটক করে চোখ ও হাত বেধে নিয়ে যায় তাদের অধিনায়কের কাছে।

চিঠি বহনের অপরাধে আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে। এসএমজির বুটের আঘাতে আমার মুখের ওপরের পাটির চারটি দাঁত ভেঙে যায়। রাইফেলের বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে আমার পা ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। একপর্যায়ে আমাকে ঝুলিয়ে কথা বের করার চেষ্টা করে। এরপর পাকিস্তানি অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার ক্লেয়ারের চিঠির জবাবে লিখেছিল ‘কলমে আপনার যে দক্ষতা রয়েছে তার পরিবর্তে আপনার হাতে স্টেনগান দেখার আশা রাখি’। এই চিঠিতে দেয়া হয়েছিল টাইম বোমা। নিশ্চত মৃত্যুর হাত থেকে বেচেঁ যাই আমি। ওই দিনই গভীর রাতে আমি পৌঁছাই মিত্র বাহিনীর ক্যাম্পে। পরদিন ১০ ডিসেম্বর ভোরে মিত্র বাহিনী জামালপুরের পাকিস্তানি ক্যাম্পে আঘাত হানে। মুক্ত হয় জামালপুর।

কেটে গেল ৪৭ বছর, যেমন দেশ চেয়েছিলেন তা কি পেয়েছেন?

না, পাইনি। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও দেশের এ করুণ অবস্থা দেখে ঘৃণা হয়। দেশে আজ যেভাবে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে তাতে মনে হয় আমরা কি তাহলে ব্যর্থ হয়েছি? কোথা থেকে এ অপশক্তি আমাদের গ্রাস করে নিল? এ শক্তি সেই শক্তি যারা স্বাধীনতার বিশ্বাসী না। যারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী না। মনে হচ্ছে দেশ আজও স্বাধীন হয়নি।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সীর পরিচিতি: জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্রাজোড় গ্রামের কৃষকের সন্তান জহুরুল হক মুন্সী। যুদ্ধের তিনি ছিল্রন ২৬ বছরের টগবগে এ তরুণ। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা যিনি ২ বার বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন। জহুরুল ১১ নং সেক্টরে গোয়েন্দা গেরিলা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ, গাইবান্দা, জামালপুর ও কামালপুরে পাকিস্তানীদের সাথে বহুবার সম্মুখ যুদ্ধে সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন। ষাটের দশক থেকে তিনি চাকরি করতেন নারায়ণগঞ্জ ডক ইয়ার্ডয়ে।


সর্বশেষ

আরও খবর

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


জেনে নিন কলার গুণাগুণ

জেনে নিন কলার গুণাগুণ


দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা

দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা


যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া

যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া


পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি

পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি


ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের

ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের


ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা


ওয়েডিং ফটোগ্রাফার এলেন খান, যার শিডিউল পাবার পর ঠিক হয় বিয়ের তারিখ

ওয়েডিং ফটোগ্রাফার এলেন খান, যার শিডিউল পাবার পর ঠিক হয় বিয়ের তারিখ


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু


কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি

কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি