Sunday, May 20th, 2018
স্মরণ: সাংবাদিক আহমেদুর রহমান
May 20th, 2018 at 12:28 pm
স্মরণ: সাংবাদিক আহমেদুর রহমান

 অধিপ রহমান সৌম্য :

এটি আমার লেখার কথা ছিলো না, ছিলো আম্মার কিন্তু তিন বছর লেখার সমস্ত প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকার প্রভাব কাটানো বেশ কষ্টসাধ্য। আমাকে লিখতে বলা হয়েছে এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে- ২০ মে, ২০১৮ যাঁর ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী, যিনি এক অর্থে আমার আপন নানা কিন্তু তাঁকে আমি কখনো দেখিনি- কায়রোর মরুভূমিতে এয়ারপ্লেন ক্রাশে তাঁর মৃত্যু হয়েছিলো; তাঁর ও ওই বিমানের আরো ২১ জন যাত্রীর দেহাবশেষ কখনো খুঁজে পাওয়া যায় নি; আমার আম্মাও তাঁকে কখনো দেখেনি।

যাঁকে নানাভাই  হিশেবে জেনেছি শৈশব থেকে, তিনি – সাংবাদিক ও ইত্তেফাকের সাবেক উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন – পৃথিবীনামী আবর্জনাস্তুপে ঘ্রাণ নেয়ার দুর্ভাগ্য থেকে মুক্ত আজ তিনবছর; ছোটোকালে একটার পর একটা সিগারেট আর নিউজপ্রিন্টজুড়ে লেখার দৃশ্য দেখে দেখে বেড়ে উঠেছি, এর একরকম প্রভাব আমার মধ্যে রয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের পারিবারিক রক্তের (এবং আমার) গভীরে এই আরো একজনের প্রবাহ আছে সেটা আমি জানতে পারি যখন আমার বয়স ১৪-১৫।

তখনও আমি বিষয়টা বুঝে উঠতাম না ভালো, অনেক পরে তাঁকে নিয়ে লেখা একটা বই আমার মানসে এমন এক ঝড় তুলে যায়…..সারাজীবন এই দুলুনি থেকে যাবার কথা। কাজল ব্যানার্জি নামে একজন (ইনাকেও আমি কখনো দেখিনি) তাঁকে নিয়ে এই বই লিখেছিলেন (“আহমেদুর রহমান” শিরোনামে, ১৯৯০ সালে বাঙলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত)। আমার এই নানা- আহমেদুর রহমান বা ৬০’ এর দশকের কিংবদন্তিতুল্য “ভীমরুল” (কিংবদন্তি শব্দটা ব্যবহার করতে হচ্ছে; সাংবাদিকপরিবৃতাবস্থায় বড়ো হওয়ায় প্রবীন-বিখ্যাত-নবীণ-উদীয়মান অনেককে দেখেছি কাছে-দূরে থেকে- খুব বেশি দূর অবশ্য নয়। ভীমরুলের সম্পর্কে- যারা তাঁকে জানতেন- তাঁদের এমনভাবে বলতে শুনতাম যেনো তাঁরা সামনে কোনো কিংবদন্তির চরিত্রকে নেমে আসতে দেখেছিলেন। এখনকার তরুণ সাংবাদিক- যাদের মাঝেমাঝে সরলীকরণ করে বলে ফেলি “সঙবাদিক”- তাঁরা অবশ্য এসবের বাইরে…), যাঁর সাপ্তাহিক কলাম পাঠের জন্য শুনেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পত্রিকা সাটানো দেয়ালের সামনে প্রতিযোগ হতো, ইনি এখনো কেমন “এনিগমা”। ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের যে ছবিগুলো ওই ভবনে টাঙানো আছে, এর মধ্যে ভীমরুলের ছবিটি দেখলে একরকম অপার্থিব বোধ হয়- বিচ্ছিন্ন, এনিগমাটিক।
আমাদের নানা ও নানীর পারিবারিক উৎস পারস্যে- শুনেছি; আঠারো শতকে এঁরা এদেশে এসেছিলেন ধর্মপ্রচারণার উদ্দেশ্যে- যদিও উদ্দেশ্যের সত্য-মিথ্যা জানি না। ৪০’ এর দশকে জমিদারি ও সম্পত্তি দখলজনিত সংঘর্ষকেন্দ্রিক গ্রাম্য রাজনীতির ফাঁদে পড়ে আহমেদুর রহমান ও তাঁর ছোটোভাই- বা আমার নানাভাই- কে প্রায় শূন্যাবস্থায় পিতৃভিটা ছাড়তে হয় যখন আহমেদুর রহমানের বয়স ১৫ বা ১৬। ঢাকায় বোধহয় ১৯৫২’র শীতকালের এক বিকেলে তাঁকে দৈনিক মিল্লাতের বার্তাকক্ষে নিয়ে আসেন ওই পত্রিকার প্রধান সহকারি সম্পাদক। রেডিওতে কাজ করতেন এর আগে আহমেদুর। বার্তাকক্ষে এর পরের বিশ মিনিটের অভিজ্ঞতা এভাবে স্মৃতিচারণ করেছেন নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী… “জটিল ধরনের একটি বিদেশি সংবাদ শিরোনামসহ তাকে তৈরি করতে বলেছিলাম। স্থান, তারিখ লেখার কায়দা, প্রকাশভঙ্গি কোনো কিছুই বলা হয়নি।…বিশ মিনিট পরেই আহমেদ উঠে এসে লেখাটা আমার হাতে দেয়…অভিধানটিও সে একবার খুলে দেখেনি।…সংবাদটি একদমে আগাগোড়া পড়ে গেলুম। শব্দ-চয়ন, প্রকাশভঙ্গি, সাবলীল গতি- বিশ্বাসই হতে চায় না কেবল প্রবেশিকা পাশ হতচ্ছাড়া গোছের এই ছেলেটিই সেটা তৈরি করেছে এবং তা-ও এতটা অনায়াসে।”

প্রবেশিকা-উত্তীর্ণ আহমেদুরের নিবন্ধ-সম্পাদকীয়- বইটিতে পড়া- তৎকালীন অভিজ্ঞ রাজনীতিক মোহন মিয়াঁও নাকি গদগদ হয়ে পড়তেন। এমন অনেক বিক্ষিপ্ত কথা, কিংবদন্তি পরিচিতদের কাছে, প্রবীণ সাংবাদিকদের কাছে মাঝেমাঝে শুনি। ইত্তেফাকে যোগদানের পূর্বে তিনি তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে একটি শর্ত দিয়েছিলেন, “আমাকে একটি কলম দিবেন, আমি স্বাধীনভাবে লিখবো।” ইত্তেফাকে যোগদান করে পুনর্জন্ম নেন “ভীমরুল” হয়ে।

এর আগে তিনি লিখতেন “কালকেউটে”, “স্পষ্টভাষী” এমন সব ছদ্মনামে। নামগুলো লক্ষণীয়- সাপের ছোবল বা ভীমরুলের যন্ত্রণাদায়ক কামড়… তাঁর উপসম্পাদকীয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিলো হাস্যরস, তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ আর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি। ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য- এই বিদ্যে তিনি উপসম্পাদকীয়তে ব্যবহার করতেন এবং একে এমন শিল্পের পর্যায়ে নিয়েছিলেন যে কারণে শুনেছি তাঁর কলামগুলো তুমুল জনপ্রিয় ছিলো। স্যাটায়ার বা আয়রনি সফলভাবে নিজের লেখায় প্রয়োগ করা – নিজের অভিজ্ঞতা ও পঠন থেকে শেখা- উচ্চমানের শিল্প এবং সেটি আমার এই নানার লেখায় লক্ষণীয়।  দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে- সাধারণত বাঙলাদেশের উপসম্পাদকীয়তে এর অভাব; ব্যক্তি দার্শনিক না হলে এই অভাব দেখা দেয়। আমার এই নানা দার্শনিক ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালেয় ছাত্রাবস্থায় তাঁর রচনাসমগ্রের লেখাগুলো পড়ে পরে এটা আমি বোধ করেছি। তাঁর রচনাবলি আমাদের বাড়িতে অনেকবছর বইপুস্তকের আড়ালে পড়ে ছিলো এবং সেই বইটি আমি হাতে পাই যখন আমার বয়স ১৯-২০ বছর। রচনাবলির যে বইটি হাতে পেয়েছি (“আহমেদুর রহমান রচনাবলি”) সেটিতে তাঁর “মিঠেকড়া”র প্রবন্ধ বা উপসম্পাদকীয়গুলোর প্রায় কিছু নেই (প্রকাশক বইটিতে উল্লেখ করেছিলেন যে তখনো আরো দুটি পান্ডুলিপি তাঁর কাছে ছিলো, এবং সেগুলো প্রকাশের ইচ্ছা তিনি পোষণ করেছিলেন; আমি জানি না পরবর্তী পর্যায়ে তা আর হয়ে উঠেছিলো কি-না, আর প্রকাশিত না হয়ে থাকলে সে পান্ডুলিপিগুলো এখন কোথায়…)।

এই বইটির প্রবন্ধগুলো দর্শননির্ভর। এবং সৃষ্টিনির্ভর – যদিও বইটির ভূমিকায় সনজীদা খাতুন একটি বিষয় উল্লেখ করেছেন, এবং আমিও স্বীকার করবো, যে তাঁর সৃষ্টিশীল রচনাগুলো খানিকটা ভাবপ্রবণ। তবে আমার উল্লসিত হবার বিষয় ছিলো অন্য। যখন বইটি পড়ি, তাঁর আগে পরে আমি নিটশে’তে, নির্দিষ্টভাবে বললে যরথুস্ত্রর স্বগতোক্তিসমূহ, নিবিষ্ট ছিলাম। এবং বইটির প্রথম প্রবন্ধেই (“লৌহ-স্বর্ণ সমাচার”) নিটশে’র “সুপারম্যান থিওরি” বিষয়ক আলোচনা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলাম। ক্রমশ আহমেদুর রহমান পঠন আমাকে একটি বিষয় উপলব্ধি করতেও সাহায্য করে।

সেটি এই- আমি লিখি, ১৫ বছর বয়স থেকেই (প্রকাশে আগ্রহী না ততো যদিও প্রথম বইটি বেরিয়েছে) কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পর সিরিয়াস হয়ে উঠি নিজ লেখার দর্শন আর শৈলি সম্পর্কে এবং ভীমরুলের রচনাবলি পড়তে দেখি তাঁর আর আমার লেখায় ধরন, দর্শন, চিন্তা, প্রবাহ আর চেতনাগত চমৎকার মিল। বুঝতে পারি, আমার লেখার বিশেষ বিশেষ কিছু দিক রক্তসূত্রে পাওয়া।

৬০’ এর দশকে বাঙালি মুসলমান- যদি আপনি হুমায়ুন আজাদের লেখার সাথে পরিচিত থাকেন তাহলে এটা অনুভব করা কঠিন কিছু নয়- সত্যিকারার্থে প্রগতিশীল বাঙালি হয়ে উঠেছিলো। আহমেদুর এ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। আমি যতদূর জেনেছি বা শুনেছি, ৫৮ থেকে ৬৪- এ সময়টিতে প্রধান প্রতিটি সাংস্কৃতিক ও চেতনাগত আন্দোলনে সামনে এবং বেশিরভাগ সময়ে পেছন থেকে নীরব নেতৃত্ব দিয়েছেন আহমেদুর। এই সময়ে তখনো তাঁর বয়স ৩০ পেরোয়নি। ৬১’এর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী উদযাপনে একসাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি, ওয়াহিদুল হক এবং মোখলেসুর রহমান (ইনি সিধু ভাই নামে পরিচিত ছিলেন এবং ছিলেন বিবি রাসেলের বাবা…প্রায়ই মা’র এবং নানুর কাছে বিবি রাসেলের সাথে তাঁরা পাঁচ বোনের বাল্যকালীন গভীর সম্পর্কের বিষয়ে শুনি)। এর সূত্র ধরে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয় ছায়ানট।

প্রতিষ্ঠাতা পাঁচ সদস্যের একজন ভীমরুল। তাঁর এই নীরব নেতৃত্ব ৬২’র ছাত্র আন্দোলনেও ছিলো; কীভাবে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেসব আমি তাঁকে নিয়ে লেখা ওই বইটিতে জানতে পারি, যেখানে কমরেড ফরহাদ বিষয়টি বিস্তৃতভাবে উল্লেখ করেছিলেন। ৬৪’র দাঙ্গা প্রতিরোধে যে কমিটি গঠিত হয়েছিলো, তাঁর কার্যক্রম, পরিকল্পনা গড়ে উঠেছিলো আহমেদুরের গোপীবাগের বাসার বৈঠকখানায় (তাঁর জীবনকেন্দ্রিক ইতিহাস এবং ঘটনাসমূহ সময়প্রবাহের সাথে সাথে আড়ালে পড়ে গিয়েছে দুঃখজনকভাবে)। ঐ বছর দাঙ্গা-বিরোধী ঐতিহাসিক ইশ্তেহারটি- যা “পূর্ব-পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও” নামে পরিচিত- আহমেদুরের লেখা। আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কুইজে – যা এককালে কয়েক বন্ধুর সাথে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চালু করার চেষ্টা করা হয়েছিলো – এককালে এই প্রশ্নটা প্রায়ই করতাম, কিন্তু কাউকে বলতাম না এটা আমারই নানার লেখা। (অনুরোধ থাকবে তাঁকে নিয়ে যে দু-তিনটি বই রয়েছে সেগুলো পড়ে দেখার; এবং  ভীমরুলের লেখার বড়ো অংশই এখনো বইআকারে অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।তাঁর লেখাগুলো খুঁজে বের করা এবং সেগুলো একত্র করা অনেকটা ঐতিহাসিক দায়িত্বপালনের পর্যায়ে পড়ে। আমি জানি না একাজটি কখনো পরিপূর্ণভাবে করা হয়ে উঠবে কিনা)

ব্যক্তিজীবনে শুনেছি তিনি উদাসীন ছিলেন, মুডি এবং সংবেদনশীল ছিলেন, অবৈষয়িক ছিলেন (তাঁর স্বভাবের অনেক কিছুই আমি পেয়েছি; এটা একদিক থেকে আমাকে সুখী করে এবং অন্যদিকে চিন্তিতও করে। চিন্তিত করে এ কারণে যে, যে জন্মবৈশিষ্ট্যসমূহ মানুষকে সৃষ্টিশীল ও সংবেদনশীল করে তোলে, সে একই বৈশিষ্ট্যসমূহ মানুষকে বহিরস্থিত (বা মিসফিট) করে তোলে। এবং এই সত্তাকে ধারণ করে চলা বেশ ভারি একটি দিক জীবনের)।  অনেক ইস্যুতে নেতৃত্বের ভার পড়তো তাঁর উপর। তিনি নেতা ও কর্মী- দু’ভূমিকাতেই থাকতেন। চাহিদা ছিলো খুব অল্প। থাকতেন অন্য কোনো জগতে। উনি নাকি এভাবে বলতেন, “আমি পেশায় সাংবাদিক, চিন্তায় বামপন্থী, কর্মে অলস ও ভবঘুরে।” তা আমাদের পরিবারে এই ঔদাসিন্যের জায়গাগুলো এখনো রয়ে গেছে। ওয়াহিদুল হক আরো বিস্তারিত বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন এই বইতে (আমি এটি লেখার সময় উদ্ভট একরকম অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, আমারই নানা অথচ তাঁকে জানতে আমার আশ্রয় নিতে হচ্ছে অন্যের লেখা বইয়ে…)। তাঁর বিদেশ ভ্রমণে তৎকালীন পাকিস্তানি সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিলো। ঐ নিষেধাজ্ঞা রহিত হয় ১৯৬৫ সালে। কায়রোয় একটি সম্মেলনে বোধহয় তিনি অংশগ্রহণ করতে পিআইএ’র ফ্লাইটে চড়েছিলেন। ওটি তাঁর প্রথম ও শেষ চড়া ছিলো। অন্তপ্রাণ বাঙালি ছিলেন, অথচ তাঁর কবর হলো মিশরে। ৩২ বছর বয়সে। এতোই অ্যাবসার্ড লাগে বিষয়টা চিন্তা করতে গেলে… তাঁর ছোটোভাই, আমার নানাভাই সে সময়ে হাল ধরলেন পুরো সংসারের। উনার রচনাবলি পড়ে আমি এটুকই বোধ করি যে উনি বেঁচে থাকলে কোথায় গিয়ে থামতেন। উনি সাংবাদিকতা থেকে সাহিত্যে ধীরে ধীরে সরে আসছিলেন… তারপর নিজেই সাহিত্যের বিষয় হয়ে গেলেন। তাঁর মৃত্যুর পর আমি যেটুক পড়েছি বা জেনেছি তাঁর সম্পর্কে… একটি বিষয়ে হাহাকার ছিলো সর্বত্র, এটাই অবাক করেছে আমাকে, সর্বস্তরের জনতা হাহাকারে ভরা চিঠি পাঠিয়েছে ইত্তেফাকের কার্যালয়ে।

অনেকেই জানতেন না কেমন দেখতে তিনি, কে তিনি, কতো তাঁর বয়স। কেবল জানতেন ভীমরুল আর নেই। এবং বইয়ের নমুনা চিঠিগুলো পড়ে হয়েছে আমার যে একজন নিকটাত্মীয় যেনো হারিয়েছে জনতা। উনি বেঁচে থাকলে কোথায় গিয়ে থামতেন? তাঁকে নিয়ে লেখা বইটিতে দেখলাম- তাঁর মৃত্যুশোকে সুফিয়া কামাল, সৈয়দ আলি আহসান, দিলওয়ার প্রমুখের উৎসর্গ করা কবিতা। নামে-বেনামে গ্রাম-গঞ্জের অনেক শোকচিঠির নমুনা দেখলাম। ৭০ বছর বয়স্কা এক স্বল্পশিক্ষিত বৃদ্ধার একটি চিঠি রয়েছে এই বইয়ে- যেটি আমি যখন প্রথম পড়ি, মনে আছে খানিক আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম।
কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গাটি ভিন্ন, কেননা বাল্যকাল থেকেই আমি এই বোধ নিয়ে বড়ো হয়েছি যে আমার মধ্যে ঠিক আমি নেই। অন্যকেউ আছে। আহমেদুর রহমাদের ব্যক্তিদিকগুলো পড়তে পড়তে আমার এটুকই মনে হয়েছে, আমি নামেই অধিপ রহমান সৌম্য কিন্তু হতে পারে আমার ভেতরে আহমেদুর রহমান হয়তো আংশিক পুনর্জন্ম নিয়েছেন। আমি আসলে অন্য কেউ। আহমেদুর রহমান আমার মানসে একটি দর্পনের মতো ছিলেন এখন বুঝতে পারি খানিক – যাতে নিজের বহিরস্থিত সত্তাটি দেখতে পাই কিন্তু দর্পণটিও যে একটি সম্পূর্ণ সত্তা সেটি বুঝতে পারতাম না, যতোদিন না তাঁকে জেনে উঠেছি লেখাসূত্রে।  আমার ছোটোভাই’র ক্ষেত্রেও এটি হয়তো প্রযোজ্য কারণ কিছু ব্যক্তিবৈশিষ্ট্য আমাদের দুজনেরই একইরকম এবং সেই একই দিকগুলো ভীমরুলের চরিত্রের প্রধান দিকসমূহ ছিলো। খুব সংক্ষেপে, আমি ভীমরুলের সাথে একরকম “কসমিক কানেকশন” অনুভব করি, যা মানবিক আবেগের অনেক উপরে, যার সাথে সংযোগ স্রষ্টাসত্তার।
অধিপ রহমান সৌম্য:

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ -এর

শিক্ষক

 


সর্বশেষ

আরও খবর

স্মরনে হাবিবুর রহমান মিলন

স্মরনে হাবিবুর রহমান মিলন


মিডিয়ায় বর্তমান সরকারের ইতিবাচক সংবাদ খুবই দুর্লভ

মিডিয়ায় বর্তমান সরকারের ইতিবাচক সংবাদ খুবই দুর্লভ


জামিল আহমদের ১৬তম প্রয়ান দিবস

জামিল আহমদের ১৬তম প্রয়ান দিবস


ক্রসফায়ারে ফেইক নিউজ

ক্রসফায়ারে ফেইক নিউজ


বিদ্রোহীধারায় আধুনিকতার প্রবর্তক মিনার মাহমুদের জন্মদিন আজ

বিদ্রোহীধারায় আধুনিকতার প্রবর্তক মিনার মাহমুদের জন্মদিন আজ


কঠিন হচ্ছে ইউটিউবে উপার্জন

কঠিন হচ্ছে ইউটিউবে উপার্জন


সংবাদকর্মীদের বেতন বাড়াতে নবম ওয়েজবোর্ড

সংবাদকর্মীদের বেতন বাড়াতে নবম ওয়েজবোর্ড


সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদের স্মরণ সভা বুধবার

সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদের স্মরণ সভা বুধবার


ডিইউজের ভোট ১৯ ফেব্রুয়ারি

ডিইউজের ভোট ১৯ ফেব্রুয়ারি


নবম ওয়েজ বোর্ডে সাংবাদিকদের স্বার্থ গুরুত্ব পাবে

নবম ওয়েজ বোর্ডে সাংবাদিকদের স্বার্থ গুরুত্ব পাবে