Thursday, April 13th, 2017
১৬ বছরেও শেষ হয়নি রমনার বিস্ফোরক আইনের মামলা
April 13th, 2017 at 10:40 pm
১৬ বছরেও শেষ হয়নি রমনার বিস্ফোরক আইনের মামলা

ঢাকা: সাক্ষী না আসায় দীর্ঘ ১৬ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলাটির বিচার কাজ। অন্যদিকে ওই ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত, যা হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় আছে।

যদিও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় বুধবার রাতে কাশিমপুর কারাগারে হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রমনায় বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন। আগামী ২৪ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলার চার আসামি এখনো পলাতক।

মামলাটির বিচারকাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার বিষয়ে ঢাকার মহানগর রাষ্ট্র পক্ষের কৌসুলি আবদুল্লাহ আবু বলেন, একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় বার বার সমন দেওয়া সত্ত্বেও সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আসছে না। এতে বিচার বিলম্ব হচ্ছে। হত্যা মামলার রায়ের পর এ মামলার সাক্ষীদের আগ্রহ না থাকায় তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসছেন না।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনাবিচারে কারাগারে থাকা কারও জন্যই কাম্য নয়। সাক্ষী হাজিরের দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু পুলিশ তা না করে দায়িত্বে অবহেলা করছে।মামলাটিতে বিচারের নামে প্রহসন চলছে।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে এই মামলায় প্রথম অভিযোগ গঠন করার পর সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি একটি ধারা সংশোধন করে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর গত দুই বছরে মাত্র দুজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় ৮০ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত নয়জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ রমনা থানায় মামলা করে। ২০০৬ সালের ১৯ নভেম্বর এ মামলায় মুফতি আবদুল হান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঘটনার জট খোলে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলার তদন্তে গতি সঞ্চার হয়। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে ওই ঘটনায় দুটি অভিযোগপত্র দেয়৷ এর একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।

২০০১ সালে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় হয়েছে ওই হামলার প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন। রায়ে নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশের (হুজি-বি) শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। মামলার ১৪ আসামির মধ্যে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন মুফতি হান্নান (মৃত), মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা তাজউদ্দিন (সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই) এবং হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর বদর। এদের মধ্যে প্রথম চারজন কারাগারে এবং শেষোক্ত চারজন পলাতক৷ অপর ছয় আসামিকেই হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারে আটক এই ছয় আসামি হলেন হাফেজ আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আবদুর রউফ ও শাহাদাত উল্লা ওরফে জুয়েল৷

গ্রন্থনা: প্রীতম, সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

চকরিয়ায় লেগুনা-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

চকরিয়ায় লেগুনা-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প


কোটা সংস্কার চেয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কোটা সংস্কার চেয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


নাইজেরিয়ায় গ্যাস ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ৩৫

নাইজেরিয়ায় গ্যাস ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ৩৫


অক্টোবরের মাঝামাঝি নির্বাচনকালীন সরকার: কাদের

অক্টোবরের মাঝামাঝি নির্বাচনকালীন সরকার: কাদের


জামিন পেলেন না আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

জামিন পেলেন না আলোকচিত্রী শহিদুল আলম


ঢাকা; মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

ঢাকা; মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন


বিএনপির মানববন্ধন থেকে ফেরার পথে আটক অর্ধশতাধিক

বিএনপির মানববন্ধন থেকে ফেরার পথে আটক অর্ধশতাধিক


৩০ অক্টোবরের পর যে কোনো দিন তফসিল: ইসি সচিব

৩০ অক্টোবরের পর যে কোনো দিন তফসিল: ইসি সচিব