Friday, August 26th, 2016
অতুল প্রসাদ সেন’র ৮২ তম মৃত্যুবার্ষিকী
August 26th, 2016 at 11:20 am
অতুল প্রসাদ সেন’র ৮২ তম মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক: বাংলা সাহিত্য জগতের পঞ্চকবি- যারা লিখে সুর করে তা ধারণ করতেন নিজ গলায়, তাদের মধ্যে অন্যতম ভক্তি ও দেশপ্রেমের কবি অতুল প্রসাদ সেন। শুক্রবার এই মহান গীতিকার, সুরকার ও গায়কের ৮২ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট ভবলীলা সাঙ্গ করে ওপারে পাড়ি জমান।

১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় নানাবাড়িতে জন্ম নেন অতুল প্রসাদ সেন, তার পৈতৃক নিবাস দক্ষিণ বিক্রমপুরের মাগর-ফরিদপুর গ্রামে। শৈশবে বাবাকে হারাবার পর দাদা কালীনারায়ণ গুপ্ত তাকে লালন পালন করেন, দাদার কাছেই সঙ্গীত বিষক হাতে-খড়ি নেন অতুল।

১৮৯০ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কিছুদিন প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন কবি। তারপর লন্ডনে ওকালতি পড়তে যান, আইন বিষয়ক পড়াশোনা শেষে আবার ফিরে আসেন বাংলায়। মামাতো বোন হেমকুসুমকে বিয়ে করা নিয়ে তাকে যথেষ্ট ঝক্কি পোহাতে হয়। বিলাতে পসার জমাতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই পুত্র সন্তানের একজনকে হারাতে হয় এ দম্পতির।

অন্যদিকে কবি’র মা হেমন্তশশীর দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যুর পর পুত্র অতুলের সংসারে আশ্রয় নিতে হয় তাকে। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর রোষানলে পড়ে মা ও স্ত্রী দুই’ই হারাতে হয় অতুল প্রসাদ সেন’কে। জীবনের দুরবস্থায় কোন আত্মীয় স্বজনকে পাশে পাননি অতুল। তাই হয়তো বাসস্থান সহ সকল গ্রন্থের মালিকানা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে যান।

তার জীবনের দুঃখ ও যন্ত্রণাগুলি গানের ভাষায় বাঙ্ময় মূর্তি ধারণ করেছিল, তাই জনৈক সমালোচক বলেন, ‘বেদনা অতুলপ্রসাদের গানের প্রধান অবলম্বন।’ ভক্তিগীতি, প্রেমের গান ও স্বদেশী সঙ্গীত এই তিন ধারায় বিভক্ত অতুল প্রসাদ সেনের অধিকাংশ গানই করুণ রস প্রধান।

১৯০২ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত অতুল প্রসাদ আইন ব্যবসা কেন্দ্র করে লক্ষ্ণৌতে অতিবাহিত করেন। সে সময় তার বাংলোতে প্রায় প্রতি সন্ধায়ই গানের আসর বসতো। আর সেই আসরে গান শোনাতে আসতেন আহম্মদ খলিফ খাঁ, বরকৎ আলী খাঁ এবং আব্দুল করিমের মতো বিখ্যাত ওস্তাদগণ। ভালো সঙ্গীতের আসর পেলে তিনি আদালত ও মক্কেলদের কথাও ভুলে যেতেন। অতুল প্রসাদ অধিকাংশ গান লক্ষ্ণৌতেই রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যে অতুল প্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন। এছাড়া রাগ প্রধান ঢঙ্গে বাংলা গান রচনা তার থেকেই শুরু হয়।

অতুলপ্রসাদের গানের সংখ্যা ২০৮ যার মধ্যে মাত্র ৫০-৬০টি গান গীত হিসেবে প্রাধান্য পায়। অতুল প্রসাদের মামাতো বোন সাহানা দেবীর সম্পাদনায় ৭১টি গান স্বরলিপিসহ কাকলি (১৯৩০) নামে দুই খন্ডে প্রকাশিত হয়। তার অপর গানগুলিও গীতিপুঞ্জ এবং কয়েকটি গান নামে দুটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। ১৯২২-২৩ সালের দিকে কলকাতা থেকে প্রথম অতুল প্রসাদের গানের রেকর্ড বের হয় সাহানা দেবী ও হরেন চট্রোপাধ্যায়ের কন্ঠে।

অতুলপ্রসাদ সেনের কয়েকটি বিখ্যাত গান হল মিছে তুই ভাবিস মন, সবারে বাস রে ভালো, বঁধুয়া, নিঁদ নাহি আঁখিপাতে, একা মোর গানের তরী, কে আবার বাজায় বাঁশি, ক্রন্দসী পথচারিণী ইত্যাদি। তার রচিত দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে প্রসিদ্ধ উঠ গো ভারত-লক্ষ্মী, বলো বলো বলো সবে, হও ধরমেতে ধীর। তার ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

অতুলপ্রসাদের গানগুলি দেবতা, প্রকৃতি, স্বদেশ, মানব ও বিবিধ নামে পাঁচটি পর্যায়ে বিভক্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানের বিশেষ গুণগ্রাহী ছিলেন। অতুলপ্রসাদী গান নামে পরিচিত এই ধারার একজন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হলেন কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়।

রাজনীতিতে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও প্রথমে কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন, পরে লিবারেলপন্থী হন। অতুলপ্রসাদ তার সমগ্র জীবনের উপার্জিত অর্থেরও বৃহৎ অংশ স্থানীয় জনকল্যাণে ব্যয় করেন। এমনকি তিনি তার বাসগৃহ ও গ্রন্থস্বত্বও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে দান করে যান বাংলার এই বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ মনিষী’র ৮২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি রইলো।

প্রতিবেদন: এস. কে. সিদ্দিকী, সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা

নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা


তূর্ণা নিশীথা

তূর্ণা নিশীথা