Wednesday, December 13th, 2017
অন্য কোনো সরকারের দুঃস্বপ্ন দেখে লাভ নেই
December 13th, 2017 at 6:09 pm
অন্য কোনো সরকারের দুঃস্বপ্ন দেখে লাভ নেই

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির অন্য কোনো সরকারের দুঃস্বপ্ন দেখে লাভ নেই। এটাই তার দল আওয়ামী লীগের শেষ কথা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার দপুরে রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন মাঠে প্রস্তাবিত বিবেকানন্দ ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। আর বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশের মতো ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু সরকারের রুটিন ওয়ার্ক করবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ যারা নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যাবে।

ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের নির্বাহী কমিটির সভাপতি গৌরগোপাল সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান।

এতে অন্যান্যের মধ্যে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, প্রকৌশলী সারোয়ার কায়নাত মো. নূর, রামকৃষ্ণ মঠের মহারাজ স্বামী অমেয়নন্দ মহারাজ ও স্বামী ধ্রবেশানন্দ মহারাজ বক্তৃতা করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল তখন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। তখন আপনার বিবেক কোথায় ছিল?

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে যখন সংলাপের জন্য গণভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ফোন করেছিলেন তখন আপনার অশালীন বক্তব্য দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করলে আজ আওয়ামী লীগকে এধরনের কথা শুনতে হতো না।

তিনি বলেন, আপনি যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গণভবনে আসতেন তাহলে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস ভিন্ন রকম হতো। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আপনারাই এ পথে ঠেলে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে কোন দল অংশ গ্রহণ করল বা করল না তার দায় আওয়ামী লীগের নয়। কোনো দলের নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়ার ওপর গণতন্ত্রের চলার পথ নির্ভর করবে না।

ওবায়দুল কাদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতা আপনারা উপলদ্ধি করুন। মাঝে মাঝে বিছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে। এ সকল ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলা হয়। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যদি কোনো হামলা হয় তবে তা হবে রাজনৈতিক।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হামলার বিচার যেমন শুরু হয়েছে তেমনি রংপুরের ঠাকুরপাড়ার হামলারও বিচার শুরু হবে। এ সকল হামলার সঙ্গে জড়িত কেউই রেহাই পাবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে যারা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। দু’দেশের অবিশ্বাস ও সন্দেহের দেয়াল ভেঙ্গে গেছে। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে সন্দেহের দেয়াল ভেঙ্গে গেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা সাম্প্রদায়িক শক্তি ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে তারা কখনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বন্ধু হতে পারে না। কারণ যারা সাম্প্রদায়িক শক্তি ও জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তারা কি সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি নয়? যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে তারা কি বঙ্গবন্ধুর খুনী নয়?

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা দানকারীরা মুখোশ পরে আপনাদের আপন হতে চায়। তাদের আপনাদের চিনতে হবে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সারাদেশে বিএনপি জামায়াতের হামলার শিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন তখন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোথায় ছিলেন?

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান

প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান


শেষ নিদ্রায় শায়িত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

শেষ নিদ্রায় শায়িত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম


এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের জীবনাবসান

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের জীবনাবসান


করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১০৬

করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১০৬


নীলা হত্যার প্রধান আসামি মিজান ৭ দিনের রিমান্ডে

নীলা হত্যার প্রধান আসামি মিজান ৭ দিনের রিমান্ডে


ভেঙে গেলো গণফোরাম

ভেঙে গেলো গণফোরাম


করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু


অর্থনৈতিক কূটনীতি অনুসরণের নির্দেশ শেখ হাসিনার

অর্থনৈতিক কূটনীতি অনুসরণের নির্দেশ শেখ হাসিনার


সরকারি কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রনে ৬ নির্দেশনা

সরকারি কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রনে ৬ নির্দেশনা


আপাতত লকডাউনের কথা ভাবছে না সরকার

আপাতত লকডাউনের কথা ভাবছে না সরকার