Tuesday, January 15th, 2019
অবৈধ প্রবেশের সময় বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু, মৃতদেহ নিয়ে বিপাকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ
January 15th, 2019 at 10:01 pm
অবৈধ প্রবেশের সময় বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু, মৃতদেহ নিয়ে বিপাকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ

এম কে রায়হান;

ঢাকা: অবৈধপথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আরও এক বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। টেক্সাসের সীমান্তবর্তী রিও গ্র্যান্ড নদীতে ডুবে যাওয়ার তিন মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও ওই যুবকের পরিবার এখনও বিশ্বাসই করছেন না যুবকটি মারা গেছে। তাদের কথা, আমাদের লোক আছে, তারা জানিয়েছে কাজী আব্দুল আজিজ তারেক নিরাপদে আছে। যদিও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে বিগত মাসগুলোতে তারেকের সাথে তাদের কথা হয়নি।

এদিকে, মার্কিন ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তায় ঐ যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে। নিউইউর্কে কর্মরত এশিয়ান অভিবাসিদের নিয়ে কাজ করা ‘ড্রাম’ এর সদস্যদের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা লাশ গ্রহন করবেন না। সেক্ষেত্রে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আমেরিকান কর্তৃপক্ষের ঐ বাংলাদেশী যুবকের মৃতদেহটি ধ্বংস করে দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন ‘ড্রাম’ এর পরিচালক কাজী ফৌজিয়া।

কাজী ফৌজিয়া জানান, ১১ অক্টোবর বাংলাদেশী এক যুবক রিও গ্র্যান্ড নদীর সিমান্তে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে ধরা পরে। তখন সে জানায়, নীল শার্ট আর লাল শর্ট প্যান্ট পরা একটি ছেলে রিও গ্র্যান্ড নদীতে ভেসে গেছে। তার ঠিক পাঁচদিন পরেই একটি মৃতদেহ পাওয়া যায় নদীর তীরে। মৃতদেহ শনাক্তকরণের জন্য ওই ছেলেকে লাশের ছবি পাঠানো হলে তিনি ছবি দেখে তা নিশ্চিত করেন।

আমেরিকা থেকে সরবরাহকৃত যুবকের ছবি; পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করা হয়নি

এদিকে, ১৬ অক্টোবর লাশ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করতে টেক্সাসের হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল এক্সামিনার যোগাযোগ করেন ড্রাম এর সাথে। মেইলের মাধ্যমে ছবি ও প্যান্টের পকেট থেকে পাওয়া নাম্বার ও কাগজপত্র পাঠান মেডিক্যাল এক্সামিনার। এরপর প্রায় ৩ মাস লেগে যায় তারেকের পরিচয় বের করতে।


আমেরিকা থেকে সরবরাহকৃত যুবকের ছবি

এরপর তারেকের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। দেশে পাঠানোর সকল প্রক্রিয়া শেষ হলে তারেকের পরিবার তার লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের দাবি এটা তাদের ছেলের লাশ নয়।

এ বিষয়ে তারেকের ভাই মান্নান নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘আমার ভাই এখনও জীবিত আছে। আমার সাথে তার সরাসরি কথা না হলেও আমাদের লোক আছে সেখানে। তার সাথে তারেকের সব সময় কথা হচ্ছে। তারেক নিরাপদে আছে বলে আমাকে তারা জানিয়েছে।’

এ বিষয়ে কাজী ফৌজিয়া নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে সীমান্তের কোনো হাসপাতাল থেকে কোনো ফোন আসলে পরিচয় বের করার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। আমি কাজটি কোন অফিসিয়াল দায়িত্ব থেকে না বরং মানবতার জন্যই করি।’

উল্লেখ্য, মেক্সিকো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে গিয়ে গত ৫ মাসে টেক্সাসের লরেডো সীমান্তে অন্তত ২৩০ জন বাংলাদেশী আটক হয়েছে। শুধু গত ১৭ মে পৃথক দু’টি ঘটনায় সেখানে আটক হয়েছে ৮ জন। গত বছরের ১২ ও ১৪ মে দুইদিনের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশী তরুণের মৃতদেহ পাওয়া যায় এই রিও নদীতে। ইউএস বর্ডার পেট্রোলের হিসেব, ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত অন্তত ৭,২১৬ জন অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে মারা গেছে।

সম্পাদনা: নজরুল ইসলাম


সর্বশেষ

আরও খবর

বট-খেজুরের সখ্য এবং ‘রক্ত-রস’ রহস্য

বট-খেজুরের সখ্য এবং ‘রক্ত-রস’ রহস্য


সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের ফরম বিক্রি শুরু

সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের ফরম বিক্রি শুরু


শপথ না নিলে বেতন পাবেন না ঐক্যফ্রন্টের ৮ ‘এমপি’

শপথ না নিলে বেতন পাবেন না ঐক্যফ্রন্টের ৮ ‘এমপি’


মানবকণ্ঠ সম্পাদক আবু বকর চৌধুরী আর নেই

মানবকণ্ঠ সম্পাদক আবু বকর চৌধুরী আর নেই


সংলাপের প্রস্তাব পেলে বিবেচনা করব: ফখরুল

সংলাপের প্রস্তাব পেলে বিবেচনা করব: ফখরুল


ঢাকার ট্রাফিক শৃঙ্খলায় আবারও মাঠে নামছে পুলিশ

ঢাকার ট্রাফিক শৃঙ্খলায় আবারও মাঠে নামছে পুলিশ


শরীয়তপুরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

শরীয়তপুরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২


‘কালিদাস এওয়ার্ড’ পেলেন নাট্যকার রহিম আব্দুর রহিম

‘কালিদাস এওয়ার্ড’ পেলেন নাট্যকার রহিম আব্দুর রহিম


দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: প্রধানমন্ত্রী


পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ল

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ল