Friday, September 7th, 2018
আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচারের পথ খুলল
September 7th, 2018 at 10:06 am
আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচারের পথ খুলল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও বিচারের পথ খুলেছে।

আইসিসির ‘প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১’ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক যুগান্তকারী রায়ে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করে বাংলাদেশে পাঠানোসহ অন্যান্য অভিযোগ আইসিসি তদন্ত করতে পারবে। ওই রায়েই আইসিসি তার প্রসিকিউটরকে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ সব অপরাধের ন্যায়বিচারের সুযোগ সৃষ্টি হলো।

আদালত সরাসরি গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধের মতো অপরাধের কথা উল্লেখ না করলেও আইসিসির রোম সংবিধির আওতায় বর্ণিত সব অপরাধ তদন্তের সুযোগ গত রাতের রায়ে দিয়েছেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বহিষ্কারের মাধ্যমে তাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগে আইসিসির তদন্ত করার এখতিয়ার আছে বলে চেম্বার আদালত রায় দিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে চেম্বার আদালত বলেছেন, ওই অপরাধের একটি অংশ (সীমান্ত পাড়ি দেওয়া) সংঘটিত হয়েছে এমন একটি ভূখণ্ডে যেটি (বাংলাদেশ) আইসিসির রোম সংবিধির পক্ষ।

আদালত আরো বলেছেন, আইসিসি তার সংবিধির পঞ্চম অনুচ্ছেদে বর্ণিত অন্য যেকোনো অপরাধ যেমন নিপীড়ন বা অন্য যেকোনো অমানবিক আচরণের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

গত ২৭ আগস্ট জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধানী দল মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ ছয় সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ তদন্তে কাঠামো সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে। ওই দলটির প্রতিবেদন আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে ওঠার কথা। এর আগেই গত রাতে আইসিসির তদন্তের সুযোগ সৃষ্টি করল। অন্যদিকে মিয়ানমার দাবি করে আসছে, তারা আইসিসির সদস্য নয় বলে বিচারের সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্তে অপরাধ প্রমাণ হলে মিয়ানমারের বিচার থেকে রেহাই নেই।

১১ লাখ শরণার্থীর ভার বহনকারী বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করার জন্য দেশটির উপর এই ধরনের চাপ বাড়ার প্রত্যাশা করছিল। আইসিসি গত মে মাসে বাংলাদেশকেও চিঠি দিলে সরকারের পক্ষ থেকে মতামত জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আইসিসির সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিয়ানমারের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত বছরের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটতে থাকে। নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মুখে উঠে আসে ধর্ষণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগের কথা।

জাতিসংঘ শুরু থেকে একে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। এক মাস আগে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন তাদের প্রতিবেদনে বলে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে। এজন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও পাঁচজন জেনারেলের বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ।

রোহিঙ্গারা রাখাইনে তাদের গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ দিলেও মিয়ানমার বরাবরই সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে গত এক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারের নিন্দার ঝড় বইছে। সমালোচনার সম্মুখীন দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী সু চিও।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: এম কে রায়হান


সর্বশেষ

আরও খবর

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবি শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবি শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন


দেশে আরও ৯৫০০ জনের করোনা শনাক্ত, হার ২৫ ছাড়াল

দেশে আরও ৯৫০০ জনের করোনা শনাক্ত, হার ২৫ ছাড়াল


টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন আইভী

টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন আইভী


অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন


আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২০০ ঘর

আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২০০ ঘর


এবারের বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

এবারের বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী


কমলো এলপিজির দাম

কমলো এলপিজির দাম


উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে খুশি না হয়ে, উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে খুশি না হয়ে, উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন


ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব