Friday, October 28th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
October 28th, 2016 at 8:18 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: নারী-পুরুষের সমতা বিষয়ে যেতে হবে আরও বহুদূর শিরোনামে প্রথম আলো তার সম্পাদকীয়তে লিখেছে, “ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ২০১৬ সালের সূচকে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শীর্ষে থাকা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। কিন্তু বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বিচার করলে খুব একটা আশ্বস্ত হওয়া যায় না। ১৪৪টি দেশের মধ্যে এখনো আমাদের অবস্থান ৭২তম। এই সূচকে ভারতের অবস্থান ৮৭তম, শ্রীলঙ্কা ১০০তম, নেপাল ১১০তম, মালদ্বীপ ১১৫তম ও ভুটান ১২১তম; দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের অবস্থান নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়।

ডব্লিউইএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্বিকভাবে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো নারী-পুরুষের সমতায় বেশ পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে এগিয়ে আছে, সেখানে নেপাল রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও আয়ের সাম্যের ক্ষেত্রে অনেকটা সাফল্য দেখিয়েছে। লৈঙ্গিক সমতা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বে সবার শীর্ষে আছে ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ড। এর পরের অবস্থান যথাক্রমে ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও রুয়ান্ডার। অর্থাৎ আমরা পিছিয়ে থাকাদের মধ্যে কিছুটা এগিয়ে আছি।”

ইস্টার্ন বাইপাসের ধীরগতি শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “রাজধানী ঢাকার সমস্যা বহু রকমের। বন্যার ঝুঁকিতে থাকা মহানগরী সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে জনসংখ্যা। একাধিক ফ্লাইওভার ও সংযোগ সড়ক নির্মিত হওয়ার পরও কমেনি যানজট। এখনো দূরপাল্লার যানবাহন মহানগরীর মধ্য দিয়ে চলাচল করে। রাজধানী ঢাকা যে পরিমাণ গাড়ির চাপ বহন করতে পারে, চলাচলকারী গাড়ির সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। সঙ্গে আন্তজেলা চলাচলকারী গাড়ি যুক্ত হচ্ছে। প্রতিদিন যে হারে গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না রাস্তা। অন্যদিকে শহরের পূর্বদিকে কোনো বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় সম্প্রসারিত ঢাকার অনেক মানুষকে বন্যার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হয়। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের দুই বন্যায় রাজধানীর বড় একটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার পর থেকেই পূর্বদিকে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বন্যার ঝুঁকি কমাতে মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর হয়ে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত নির্মিত বেড়িবাঁধ এখন সংযোগ সড়ক হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে উত্তরা, খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে মালিবাগ, মৌচাক পর্যন্ত নির্মিত বিশ্বরোড ১৯৯৮ সালের বন্যায় বাঁধ হিসেবে কাজ করে। এই সড়ক থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকা বন্যার হাত থেকে রক্ষা পায়। বাইরের অংশের মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখনই ইস্টার্ন বাইপাসের পরিকল্পনা করা হয়। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় এ প্রকল্পের ধারণাপত্রও অনুমোদন করা হয়েছিল। পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। সেই সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। এই অর্থের অর্ধেকেরও বেশি উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা সংস্থার কাছ থেকে সংস্থানের পরিকল্পনা ছিল।”

বনিক বার্তা পল্লী বিদ্যুতের লোকসানী সমিতি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক বিআরইবি শিরোনামে লিখেছে, “লাভ নয় লোকসান নয়’ ভিত্তিতে পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) আওতায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিআরইবির অধিকাংশ সমিতি লোকসানে। এ নিয়ে গতকাল বণিক বার্তায় ‘৭৮ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৬৩টিই লোকসানে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছ থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ ক্রয় করে বিআরইবি। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে বিআরইবি সহজ শর্তে সমিতিগুলোকে সব ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ ঋণ আকারে দিয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও লোকসানের ঘেরাটোপ থেকে বের হতে পারছে না বেশির ভাগ সমিতি। কেন পারছে না, তা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। লোকসানের কারণ হিসেবে মূলত বিদ্যুৎ ক্রয়ে ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছে বিআরইবি। একই সঙ্গে বেতন-ভাতাদি ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধিও লোকসানের কারণ বলে জানানো হয়েছে। তবে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বস্বীকৃত নকশা উপেক্ষা করে নতুন সংযোগ দেয়া, কুইক রেন্টালকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা আর দুর্নীতির কারণে সমিতিগুলো লোকসানে চলছে। তাদের এ দাবি উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সমিতিগুলোয় চলা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু এসব থেকে মুক্তি মেলেনি। বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতউল্লাহ বলছেন, বিআরইবির নকশা বিশ্বের সেরা একটি নকশা। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তা অনুসরণ না করে মনগড়াভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে। তারা সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ বিতরণ করতে পারছে না। পাশাপাশি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বাঁচানোর অপচেষ্টার কারণে বিআরইবির কাছ থেকে সমিতিগুলোকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুতের দাম ও গ্রামীণ ভোক্তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় বিদ্যুৎ কিনেও সমিতিগুলো বিক্রি করতে পারছে না, যে কারণে লোকসানের ঘানি টানতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সমিতিগুলো কখনই মুনাফা করতে পারবে না। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারাও বলছেন, কিছু অসৎ কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর লোকসান হচ্ছে। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবে সমিতিগুলো। বিষয়টি সরকারের আমলে নেয়া উচিত। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। লোকসান কমাতে অবশ্যই অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এদিকে সমিতিগুলো লোকসান গুনলেও বিআরইবি কিন্তু লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ সমিতির চেয়ে বোর্ডে তদারকি বেশি। তাই সমিতিগুলোয় তদারকি বাড়াতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আরেকটি বিষয় হলো, ঢাকাসহ আশপাশের ১৫টি সমিতি লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ যেসব সমিতি শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করছে, তারা লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে আবাসিক এলাকা ও সেচ প্রকল্পে বিদ্যুৎ দেয়া সমিতিগুলোকে বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। আবার বলা হচ্ছে, বিদ্যুতের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় বেশির ভাগ সমিতিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে বিদ্যুতের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বিআরইবি। তবে নজর রাখতে হবে মূল্য নির্ধারণ যেন যৌক্তিকই হয়।”

ইহা অগ্রাধিকারের বিষয় নহে শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “অ্যাম্বুলেন্স চাপায় শিশু ও রোগীর স্বজনসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের সম্মুখস্থ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হইয়াছিল। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তাহা আবার বেদখল হইয়া গিয়াছে। নূতন দুই মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘোষণা দিয়া রাজধানীর যেইসব ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা হইয়াছিল—সেইগুলির চিত্রও খুব একটা ভিন্ন নহে। ফুটপাত লইয়া এই ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলিয়া আসিতেছে বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া। সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো ইতরবিশেষ হয় না। সমস্যাটির একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজিয়া বাহির করার কথাও বলা হইয়াছে বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু সেইদিকেও তেমন একটা মনোযোগ দেওয়া হয় নাই। দিলে ভালো হইত। এইটুকু অন্তত জানা যাইত যে, কেন বিপুলসংখ্যক মানুষ নগরমুখী হইতেছে আর কেনই-বা ফুটপাত, সড়ক সবই বেদখল হইয়া যাইতেছে বারংবার। সেইসঙ্গে ইহাও নিশ্চিত হওয়া যাইত যে, ফুটপাত লইয়া যাহা চলিতেছে তাহা আমাদের অগ্রাধিকারের বিষয় নহে। বলা বাহুল্য, রোগের প্রকৃত কারণটি জানা থাকিলে চিকিত্সাও সহজতর হইত।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা