Saturday, October 29th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
October 29th, 2016 at 8:09 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: রাজধানীর যানজট নিরসনের প্রস্তাব নিয়ে সমকাল তাদের সম্পাদকীয়তে সীমিত পরিসরেই শুরুটা হোক শিরোনামে লিখেছে, “যানজট রাজধানী ঢাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিদিন যেন এ সমস্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা কৌতুক করে বলছেন, সেদিন বেশি দূরে নয় তখন হেঁটেই সবচেয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। তবে এ ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টাও কিন্তু লক্ষণীয়। সরকারি উদ্যোগে এ কাজ চলছে। কয়েকটি নতুন ফ্লাইওভার চালু হয়েছে। মেট্রোরেলের কাজ চলছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রস্তাব-পরামর্শও মিলছে। শুক্রবার সমকালে ‘সড়ক হবে যানজটমুক্ত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রকৌশলী কামরুল হাসান মনে করেন, তার উদ্ভাবিত ‘সুপার এল ইয়ার্ড’ প্রয়োগ করলে ঢাকায় যানজট বলে কিছু থাকবে না। আন্তর্জাতিক জার্নালেও তার এ উদ্ভাবন নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি প্রস্তাব করেছেন, মোড়গুলোতে যুক্ত সড়কে বিপরীত দিকে ঘোরার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে, যা অনেকটা ইংরেজি ‘এল’ অক্ষরের মতো দেখতে। রাস্তার সড়ক বিভাজন সংস্কার করেই এটা করা সম্ভব। তিনি এটাও মনে করেন, একটি মোড়ে মাত্র তিন দিনেই এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। একটি ফ্লাইওভার বাস্তবায়নে সময় দরকার পড়ে বছরের পর বছর। রেলপথ নির্মাণও দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। কামরুল হাসান যে পদ্ধতির কথা বলছেন, সেটা পরীক্ষা করে দেখতে কোনো সমস্যা থাকা উচিত নয়। একযোগে সব সড়কে নয়; অতি সীমিত আকারেও তা যাচাই করা যায়। এতে বেশি অর্থ ব্যয়েরও প্রয়োজন নেই। কেউ কেউ কৌতুক করে বলতে পারেন- ‘কত হাতি গেল তল…’।”

প্রথম আলো খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য শিরোনামে লিখেছে, “বাংলাদেশকে খাদ্য উৎপাদনের উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত করা, এমনকি খাদ্য রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে চার কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার তেথ্য দৃশ্যত কিছুটা খটকা লাগে। বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির যৌথ গবেষণায় এখন যে অপ্রিয় সত্যের ওপর নতুন করে আলো পড়ল, সেটা হলো বাংলাদেশকে খাদ্য উৎপাদনে খুব আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না, তাকে আরও বহুদূর যেতে হবে। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত খাদ্য–চাহিদা যেমন দরকার, সেটা বহু শিশুরই থাকছে না। পুষ্টিসম্মত খাদ্য খেতেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো অপারগ। আবার সামর্থ্য আছে কিন্তু বিশুদ্ধ পানি বা পয়ঃপ্রণালি-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে পুষ্টিসম্মত খাদ্য খেয়েও তা অনেকের কাজে লাগছে না।

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ এখনো প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার পায় না। অপুষ্টির কারণে প্রতি তিনটি শিশুর একটির বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে জাতীয় উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। গবেষকেরা এর আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অপুষ্টির কারণে নাগরিকের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটা সহজে পরিমাপযোগ্য না হলেও ক্ষতির ব্যাপকতা ও গভীরতা অনুমান করা কষ্টসাধ্য নয়। সুতরাং, গবেষণার ফলাফলকে একটি ‘ওয়েক আপ কল’ হিসেবে দেখাই সমীচীন হবে।”

কালের কণ্ঠ বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন শিরোনামে লিখেছে, “দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও বারবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু দুর্নীতি থামছে না। তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়—সর্বত্রই দুর্নীতি। দুস্থদের চাল চলে যায় বিত্তবানের ঘরে, ভিক্ষুকের তালিকায় থাকে চাকরিজীবীর নাম, প্রকল্পের টাকায় লুটপাট চলে, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চুক্তিতেও কমিশন আদায় হয়—কোথায় নেই দুর্নীতি? গতকালের কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তেমনি একটি ন্যক্কারজনক দুর্নীতি তথ্য-প্রমাণসহ তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়, আশুগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের একটি প্রকল্পে প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৬০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। বিনিময়ে কম্পানি দুটিকে যে সুযোগ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি। গণমাধ্যমে এমন দুর্নীতির খবর আমরা প্রায়ই দেখতে পাই। আমরা অবাক হই, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কতটা দুর্বল হলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিরা কোনো কিছুকে তোয়াক্কা না করে এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন! আশুগঞ্জের ঘটনা নিয়ে আগেও কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৫ সালে প্রতিবেদন প্রকাশের পর উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কথা ছিল, ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। সাত মাস পেরিয়ে গেলেও সেই রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। কমিটির প্রধান এরই মধ্যে অবসরে চলে গেছেন। কমিটির কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ফলে সেই রিপোর্ট কখনো পাওয়া যাবে কি না তা নিয়েই সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতির কারণ অনুসন্ধান ও প্রতিরোধে রাষ্ট্রযন্ত্রের এত অনীহা কেন?”

সম্মিলিতভাবেই মোকাবিলা করিতে হইবে শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “যত দিন যাইতেছে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতও ততই স্পষ্ট হইয়া উঠিতেছে নানা ক্ষেত্রে। অথচ কয়েক দশক আগেও কতই না বিতর্ক হইয়াছে ইহা লইয়া। চলিয়াছে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাইবার অথবা নিজেদের দায় এড়াইবার চেষ্টা। ফলে সর্বসম্মত একটি চুক্তি বা ঐকমত্যে উপনীত হইতেই কাটিয়া গিয়াছে দশকের পর দশক। এমন একটি ধারণাও গড়িয়া উঠিয়াছিল যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কেবল উন্নয়নশীল দুনিয়ার দেশগুলিই ক্ষতিগ্রস্ত হইবে। অন্যদিকে, ইহার সকল দায়দায়িত্ব ঢালাওভাবে উন্নত দেশগুলির উপর চাপাইয়া দিবার একটি প্রবণতাও প্রকট হইয়া উঠিয়াছিল। ফলে এমন একটি প্রত্যাশাও তৈরি হইয়াছিল যে, ক্ষতিপূরণ হিসাবে উন্নত দুনিয়ার দেশগুলি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিকে অর্থসহায়তা প্রদান করিবে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য। কিন্তু এখন দেখা যাইতেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান হইতে শুরু করিয়া বিশ্বের কোনো দেশই রক্ষা পাইতেছে না জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় হইতে। শুধু তাহাই নহে, যতটা আশঙ্কা করা হইয়াছিল জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতা ক্রমশ তাহাকে ছাপাইয়া উঠিতেছে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা