Thursday, November 3rd, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
November 3rd, 2016 at 10:05 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: প্রথম আলো তার সম্পাদকীয়তে নারীর অর্থনৈতিক বঞ্চনা শিরোনাম লিখেছে, “রবীন্দ্রনাথ শত বছর আগে লিখেছিলেন, ‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার/ কেন নাহি দিবে অধিকার?’ বেগম রোকেয়াও নারীকে তাঁর অধস্তন অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু শত বছর পরও বাংলাদেশের নারীরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক নির্যাতন, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নারী নির্যাতনের ওপর খানাভিত্তিক জরিপ ২০১৫ দেখাচ্ছে, বিবাহিত নারীদের প্রায় অর্ধেকই জীবনে কখনো না কখনো স্বামীদের হাতে অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানদণ্ডে অর্থনৈতিক নির্যাতনের মাপকাঠি হচ্ছে, হাতে টাকা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী তথা সঙ্গিনীর হাতে পর্যাপ্ত সংসারখরচ না দেওয়া। দেশীয় মানদণ্ডে স্ত্রীকে নিয়মিত হাতখরচ না দেওয়া, যৌতুক দাবি করা এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা বা জিনিসপত্র আনতে চাপ দেওয়া অর্থনৈতিক নির্যাতনের আওতায় পড়ে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০১৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৫০০টি। এগুলোর মধ্যে ২৯৬টি ঘটনায় নারীরা নিহত হয়েছেন বা আত্মহত্যা করেছেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদক যে ৫০ জন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তাঁদের ৪৪ জন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বিবিএসের জরিপমতে, এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি নারীর বিয়েই হয় যৌতুক দেওয়ার শর্তে। কর্মজীবী নারীদের অনেকে তাঁদের উপার্জিত অর্থ স্বাধীনভাবে খরচ করতে পারেন না।

এমপি বদির কারাদণ্ড শিরোনামে কালের কণ্ঠ দুদকের আরো একটি সাফল্য উল্লেখ করে সম্পাদকীয়তে লিখেছে, “দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতাসীন দলের এমপি আবদুর রহমান বদিকে আদালত তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এটি বাংলাদেশে প্রচলিত ‘প্রশ্রয় সংস্কৃতি’তে একটি বড় ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখা যেতে পারে। দল ক্ষমতায় থাকতে সেই দলের কোনো এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের ও সেই মামলায় আদালতে সাজা পাওয়ার ঘটনা এ দেশে বিরল। সেদিক থেকে আদালতের এই রায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

অতীতে বিভিন্ন শাসনামলেই দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বহু অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, অভিযোগের সঠিক তদন্ত করা ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ ছিল না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা তারও আগে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর ভূমিকা নিয়েও ছিল অনেক প্রশ্ন। ফলে ক্ষমতাসীন দলের অনেক এমপি কিংবা অনেক নেতাকর্মীকে দুর্নীতি-অনিয়মে বেপরোয়া হয়ে উঠতে দেখা গেছে। বর্তমানে দুদক অনেকটাই গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে পেরেছে বলে ধারণা করা যায়। এরই মধ্যে তারা সরকারি দলের আরো অনেক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মামলা হয়েছে প্রশাসনেরও অনেক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দুদকের এমন ভূমিকাই মানুষ দীর্ঘদিন থেকে আশা করে আসছিল। দেরিতে হলেও দুদকের কর্মকাণ্ডে যে গতিশীলতা এসেছে, তাকে স্বাগত জানাই। আমরা চাই, দুদকের এই উদ্যম উত্তরোত্তর আরো শক্তিশালী ও কার্যকর হোক ”

সমকাল খাল ভরাট নিয়ে ঢাকার তুঘলকি উপাখ্যান শিরোনামে লিখেছে, “চতুর্দশ শতকের দিলি্লর সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের নাম মশহুর হয়ে আছে উল্টাপাল্টা সিদ্ধান্তের জন্য। আগপাছ না ভেবে হুটহাট সিদ্ধান্ত দিলে বা পরক্ষণে বিপরীত সিদ্ধান্ত নিলে বা আজগুবি কিছু করলে তাই ‘তুঘলকি কাণ্ড’ বলা হয়। রাজকোষ শূন্য করা ও মানবিক বিপর্যয়ের বিচারে সুলতানের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্তটি ছিল রাজধানী দিলি্ল থেকে দাক্ষিণাত্যের দৌলতাবাদে নিয়ে যাওয়া এবং সাত বছর পরে আবার ফিরিয়ে আনা। এখনও যেসব তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সাম্প্রতিককালে তার বড় দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঢাকার কিছু খাল ভরাট ও কিছু খাল বা অংশ বক্স কালভার্টে রূপান্তরিত করার ২৫-৩০ বছর পরে এখন সেগুলো ভাঙার চিন্তাভাবনা। সেসব জায়গায় এখন রাজপথ, উড়াল সেতু, বহুতল ভবন, আলিশান মার্কেট কমপ্লেক্স সবকিছু আছে। খাল ভরাট ও হাজার কোটি টাকার বক্স কালভার্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিণামে ঢাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের অতীত হয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যতম একটি উপায় হিসেবে গত জুনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একাধিক জায়গার ২০ কিলোমিটার বক্স কালভার্ট ভেঙে আবার খাল ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। এই অসাধ্য সাধনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের বিড়ম্বনার খবর গত মাসে সমকালে প্রকাশিত হয়। আর গতকাল বুধবার প্রকাশিত ‘ঢাকার আরেকটি খাল মৃত্যুমুখে’ শীর্ষক খবরে তুঘলকি কারবার যে চলছে তা জানা যায়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এমন একটি খাল ভরাট করে একটি সমবায় সমিতি বহুতল মার্কেট নির্মাণ করছে যে খালটির ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩০০ মিটার পর্যন্ত দুই পাড় ইতিমধ্যে বাঁধাই করে ফেলেছে ওয়াসা।”

জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্ষ বিদীর্ণ করিয়া জাতীয় জীবনে লেপন করিয়া দেওয়া হয় অমোচনীয় কলঙ্কের দাগ। তার মাত্র দুইমাস আঠারো দিনের ব্যবধানে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র আবারও আঘাত হানে জাতির হূিপণ্ডে। ৩ নভেম্বর নাজিমুদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করে অশুভ শক্তি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়া বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতিদ্রোহী ঘাতকচক্র সংযোজন করে বর্বরতার আরও একটি নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। সমপ্রতি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরিত হইয়াছে। পুরাতন কারাভবনটি সাক্ষী হইয়া রহিয়াছে জাতিদ্রোহী ঘাতকদের পাশবিকতার। পনেরই আগস্টে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করিবার পর মহান মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির ক্রীড়নক নরপিশাচের দল জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করিয়া দিবার উদ্দেশ্যে কারাভ্যন্তরে ঠান্ডামাথায় হত্যা করে জাতীয় চারনেতাকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান—এই চারনেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহযোগী ও সহচর। বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে তাঁহারা পালন করেন অনন্যসাধারণ ভূমিকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলিতে জাতির জনকের অনুপস্থিতিতে তাঁহারাই নেতৃত্ব প্রদান করেন, বহন করেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পতাকা। শোকাবহ ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর —উভয় ক্ষেত্রেই অশুভ শক্তির করতলগত রাষ্ট্র শুধু যে তাহার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়াছিল, তাহাই নহে, বরং সভ্য সমাজের সকল রীতিনীতিকে পদদলিত করিয়া রুদ্ধ করা হইয়াছিল বিচারের পথও। নানাভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয়ও দেওয়া হইয়াছিল ঘাতকচক্রকে। এই কালিমা শুধু যে আমাদের গণতন্ত্রের পথকেই অতীতে বার বার বিপন্ন করিয়াছে তাহা নহে, জাতির সার্বিক অগ্রযাত্রার পথেও গুরুতর বাধা হইয়া দেখা দিয়াছিল।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা