Friday, November 4th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
November 4th, 2016 at 8:15 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা শিরোনামে প্রথম আলো তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, “স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর পৃথিবীর দেশে দেশে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিকাশের যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা ঘটেনি। শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা নস্যাৎ হয়েছে সংঘাত ও সহিংসতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে। এই সমস্ত কিছুর নেতিবাচক প্রভাবে সংকুচিত হয়ে এসেছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সংস্থা ফ্রিডম হাউস হিসাব দিচ্ছে, বৈশ্বিক পরিসরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গত ১২ বছরের মধ্যে এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) তার ২০১৬ সালের গ্লোবাল ইমপিউনিটি ইনডেক্সে এমন কয়েকটি দেশের চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে সাংবাদিকদের খুন করে বিচারের বাইরে থেকে যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে। সংস্থাটি সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ১৩টি দেশের নাম উল্লেখ করেছে, তাদের তালিকায় বাংলাদেশও আছে। রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্স (আরএসএফ) তাদের ২০১৬ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের শিরোনামেই মন্তব্য করেছে, ‘লিডার্স প্যারানোয়েড অ্যাবাউট জার্নালিস্টস’। অর্থাৎ পৃথিবীর দেশে দেশে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের নেতারা সাংবাদিকদের দিক থেকে ভীতি-বাতিকগ্রস্ততায় আক্রান্ত। এর ফলে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ বেড়েছে এবং তাদের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে।”

নারী নিপীড়করা বেপরোয়া শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “নোয়াখালীতে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকেসহ তিন শিক্ষককে হত্যার হুমকি দিয়ে গেছে ওই প্রতিষ্ঠানেরই দুই ছাত্র। শিক্ষকদের ‘অপরাধ’ তাঁরা ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন। ঢাকা মেডিক্যালে এক তরুণী চরম শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন হাসপাতালেরই নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে। এ কোন সমাজে বাস আমাদের!

নারী ও শিশু নিপীড়ন, ধর্ষণ, হত্যা সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেড়ে গেলেও প্রশাসনের তরফে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নেই। গড়ে উঠছে না সামাজিক প্রতিরোধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য-প্রযুুক্তির অবাধ প্রবাহ, অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়া, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ নানা কারণে এক শ্রেণির মানুষ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে।

হাসপাতাল, শিক্ষাঙ্গন, এমনকি বাড়িতেও নারী-শিশুরা আজ নিরাপদ নয়। কলেজের অধ্যক্ষও যখন অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিজ ছাত্রের পিস্তলের গুলির মুখে পড়েন, বুঝতে অসুবিধা হয় না আমাদের মূল্যবোধে পচন ধরেছে। সবে স্কুলে যেতে শুরু করেছে এমন শিশুও যে সমাজে ধর্ষণের শিকার হয় সে সমাজ কতটুকু সুস্থ! নির্যাতনের একেকটি খবর অন্য কন্যাশিশুদের মনেও ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা ভয় ও অবিশ্বাস নিয়ে কিভাবে সুস্থ-স্বাভাবিক বিকাশ লাভ করবে?”

সমকাল তার সম্পাদকীয়তে ইতিবাচক বার্তা শিরোনামে লিখেছে, “ক্ষমতাসীন দলের একজন সংসদ সদস্যকে প্রায় চার কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার দায়ে আদালত তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন মর্মে খবরটি সব সংবাদমাধ্যমে প্রধান শিরোনামে বড় আকারে পরিবেশিত হয়েছে। ফলে যে বিরাট আওয়াজ হয়েছে এবং সারাদেশে আলোচনা হচ্ছে তাতেই প্রমাণ হয় যে, এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। খবরে বলা হয়েছে, এই প্রথম দেশে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কোনো এমপিকে দুর্নীতির মামলায় সাজা দেওয়া হলো। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় এমন দৃষ্টান্তকে অবশ্যই ইতিবাচক বলতে হবে। যে দেশে ক্ষমতা হারানোর পর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি মামলা ও কিছু সাজা হওয়ার নজির আছে সে দেশে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের কোনো মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না হওয়া আইনের শাসন ও বিচার প্রক্রিয়ার দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার চিহ্নিত করে এসেছে দীর্ঘকাল। বর্তমানে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ১২ উইকেট শিকার করিয়া সম্প্রতি তিনি যে জয়টি আনিয়া দিয়াছেন—তাহাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা অর্জন বলিয়া বিবেচিত হইতেছে। আর দুই ম্যাচে ১৯ উইকেট করায়ত্ত করিয়া গড়িয়াছেন নূতন রেকর্ডও। অভিষেক টেস্ট ম্যাচেই এইভাবে বিশ্ববাসীর নজর কাড়িয়া লওয়া মাত্র ১৯ বত্সর বয়সী এই বিস্ময়-বালকটির নাম মেহেদী হাসান মিরাজ। বিস্ময় কেবল তাহার পারফরম্যান্সেই নহে, যেইভাবে তিনি উঠিয়া আসিয়াছেন তাহাও কোনো অংশে কম বিস্ময়কর বলা যাইবে না। গণমাধ্যমের বদৌলতে খুলনায় তাহাদের ভাড়া করা টিনের চালের জরাজীর্ণ কুটিরটি না দেখিলে কেহ বিশ্বাসই করিতেন না যে, কতোটা অসচ্ছলতার সহিত পাঞ্জা লড়িয়া তাহাকে এই পর্যায়ে আসিতে হইয়াছে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পরিবারটির জীবনে যাহা ঘটিয়া গিয়াছে তাহাকে রূপকথার গল্পের মতোই মনে হইতে পারে। আর বলিলে অত্যুক্তি হইবে না যে, এমন রূপকথা কেবল বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সৃষ্টি করা সম্ভব।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা