Saturday, November 5th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
November 5th, 2016 at 8:57 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: প্রথম আলো তার সম্পাদকীয়তে আমাদের সহস্রাব্দ প্রজন্ম শিরোনামে লিখেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের জনমিতি বিশেষজ্ঞরা হিসাব দিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের মোট ৭৪০ কোটি মানুষের মধ্যে ২০০ কোটির বয়স ১৯ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। মোট বৈশ্বিক জনসংখ্যার এই ২৭ শতাংশকে বলা হচ্ছে মিলেনিয়াল জেনারেশন বা সহস্রাব্দ প্রজন্ম—আগামী পৃথিবীর সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান অনুঘটক।

যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এ টি কার্নির গ্লোবাল পলিসি কাউন্সিলের তৈরি এক গবেষণা প্রবন্ধের প্রণেতারা বিশ্বের আটটি দেশ চিহ্নিত করেছেন, যেগুলোতে সহস্রাব্দ প্রজন্মের সংখ্যাধিক্য দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ‘মিলেনিয়াল মেজরস’ নামে অভিহিত এই আট দেশের তালিকার একদম শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। কারণ, দেশভিত্তিক হিসাবে মোট জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সহস্রাব্দ প্রজন্মের বাসস্থান হলো বাংলাদেশ। আমাদের মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ বা ৪ কোটি ৯৬ লাখই সহস্রাব্দ প্রজন্ম, যাদের মেধা, শ্রম ও উদ্যম যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে এ দেশে চমক লাগানোর মতো উন্নয়ন-অগ্রগতি সাধিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।”

নকল ও ভেজাল ওষুধ নিয়ে কঠোর শাস্তি দিতে হবে শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “ওষুধের পাইকারি মার্কেট মিটফোর্ড থেকে আবার জব্দ হয়েছে বিপুল পরিমাণ নকল ও ভেজাল ওষুধ। জব্দ করা ওষুধের মধ্যে রয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা দামের কিডনি, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও লিভারের বিভিন্ন রোগের ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ নকল অ্যান্টিবায়োটিক। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে সাতটি গোডাউনের মালিককে জেল ও জরিমানা, উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। কাজটি করতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। পরে অতিরিক্ত র‌্যাব মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

নকল ও ভেজাল ওষুধের কারবারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান মাঝেমধ্যেই পরিচালনা করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়েছে বলে মনে হয় না। অভিযানের পর আবার সেই আগের অবস্থায় ফিরে যায় ব্যবসায়ীরা। মিটফোর্ডের পাইকারি বাজার থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নকল ও ভেজাল ওষুধ। এসব দেখার মূল দায়িত্ব যে ওষুধ প্রশাসনের, তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই ভেজালকারীরা দিনে দিনে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী হয়ে উঠছে। ওষুধ প্রশাসনের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত মাসোহারা পেয়ে থাকেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় কারখানায় তৈরি হচ্ছে নকল ও ভেজাল ওষুধ। মিটফোর্ডের পাইকারি বাজার হয়ে তা ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ভেজাল ও নকল ওষুধ ব্যবসায়ীদের কাছে ওষুধের বৃহত্তম এই মার্কেটও জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।”

সমকাল ঢামেকে গণধর্ষণের বিষয়টি তুলে ধরে আমরা ক্ষুব্ধ, উদ্বিগ্ন শিরোনামে লিখেছে, “সাম্প্রতিক সময়ে যৌন নিপীড়ন এমনকি ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় সমাজের প্রায় সর্বস্তরে যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো স্থানে গণধর্ষণের অঘটন তাতে নতুন ও নিকৃষ্ট মাত্রা যুক্ত করেছে। বস্তুত গত ২৭ অক্টোবর রাতে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ওই তরুণী ধর্ষিত হওয়ার পর থেকে যেসব ঘটনা প্রবাহ ক্রমে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে, তাতে করে কেবল ক্ষোভ ও উদ্বেগ নয়, আমাদের বিস্ময়ের বাঁধও ভেঙে যাচ্ছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় হাসপাতালের আউটডোরে যদি কেউ গণধর্ষণের শিকার হয়, তাহলে দেশের আর কোথায় নারী নিরাপদ থাকতে পারে? আরও অবিশ্বাস্য যে, ধর্ষকদের সবাই আনসার বাহিনীর সদস্য। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের মোতায়েন রাখা হয়েছিল নিরাপত্তার জন্য। যেখানে কারও বিপদে-আপদে তাদেরই পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে তারাই দলবেঁধে ধর্ষণ করতে গিয়েছে! এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে আসার পরও অভিযুক্ত আনসার সদস্যদের প্রায় সবাই যেভাবে চাকরিতে ‘চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র জমা’ দিয়ে লাপাত্তা হতে পেরেছে তাও কম ক্ষোভ ও বিস্ময় জাগানিয়া নয়। ঘটনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কেন আটক করা হয়নি? বাহিনীর ‘ভাবমূর্তি’ রক্ষায় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চাপা দিতে চেয়েছিল কি-না খতিয়ে দেখা জরুরি। তাদের আটক রাখার ক্ষেত্রে কারও ঔদাসীন্য বা নির্বিঘ্নে পগার পার হওয়ার ক্ষেত্রে কারও সক্রিয়তা থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বলি আমরা।”

কমলগঞ্জে টিলা কাটা প্রসঙ্গে শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “খবরে প্রকাশ, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় টিলা কাটিয়া ইকো কটেজ-মোটেল তৈরির হিড়িক পড়িয়াছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনে টিলা কাটিয়া বা টিলার বাঁকে বাঁকে চলিতেছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ। ইহাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হইতেছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ। উদ্যানের জীববৈচিত্র্যও পড়িতেছে হুমকির মুখে। ১৯৯৬ সালে কমলগঞ্জের পশ্চিম ভানুগাছের সংরক্ষিত বনের ১২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়া গঠিত হয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। ইহার পর এই উদ্যানকে কেন্দ্র করিয়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। এখানকার বিকাশমান পর্যটন শিল্পকে সম্মুখে রাখিয়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তোলারও প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় বৈকি। কিন্তু লিজকৃত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমিতে বনের উঁচুৃ টিলা কাটিয়া এইসব প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তুলিবার ধুম পড়িয়া গেলে পরিবেশবিদ ও সচেতন মানুষ উদ্বিগ্ন হইয়া পড়েন। এই উদ্বেগ এখনও বিদ্যমান। কেননা এই ডামাডোলে এখানকার পাহাড়-টিলা রক্ষা করাই কঠিন হইয়া পড়িয়াছে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা