Monday, November 7th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
November 7th, 2016 at 8:06 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: নগরায়ণে নৈরাজ্যর বিষয়টি তুলে ধরে পরিকল্পনা বাস্তবায়নই প্রধান চ্যালেঞ্জ শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “বাংলাদেশে নগরায়ণের গতি ক্রমে বেড়ে চলেছে, কিন্তু নগরায়ণ ঘটছে অপরিকল্পিতভাবে। বিশেষত রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ অদূর ভবিষ্যতে অত্যন্ত জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে; বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে ঢাকা মহানগর।

এ রকম বাস্তবতায় বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের মতো বাংলাদেশে আমরাও প্রতিবছর ৮ নভেম্বর বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস পালন করে আসছি। আগামীকালের এই দিবস সামনে রেখে কদিন আগে প্রথমআলো‘নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করেছিল, যেখানে দেশের বিশেষজ্ঞরা নগর পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক প্রয়োজনীয় কথা বলেছেন।

বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে অনেক তথ্য উল্লেখিত হয়েছে। যেমন ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী শহরের জন্য আলাদা মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ২০ বছর মেয়াদি এসব পরিকল্পনার কিছু অংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি শহরের মহাপরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। নগর গবেষণাকেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মনে করেন, ঢাকার মহাপরিকল্পনার যেটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সেটুকুর কারণেই আজ আমরা এই মহানগরে বাস করতে পারছি।”

রাজনীতিতে সহনশীলতার বিষয়টি তুলে ধরে সভা-সমাবেশের অধিকার শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “৭ নভেম্বরের সমাবেশ নিয়ে আবার মুখোমুখি সরকার ও বিএনপি। দলের কর্মসূচি পালনের জন্য প্রথমে ৭ ও পরে ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল বিএনপি। পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পরে ৮ নভেম্বর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পুলিশ জানিয়ে দেয়, তারা কোনো আবেদন পায়নি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেছেন, সরকার ভয় পায় বলে বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দিতে চায় না। দলের কর্মসূচি বানচাল করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ এনেছে দলটি।

বিএনপির জন্য ৭ নভেম্বর অন্য রকম গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জিয়াউর রহমানের উত্থান ঘটে। তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া বিএনপি দিনটিকে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। আওয়ামী লীগ দিনটিকে পালন করে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে। তাদের এখনকার মিত্র জাসদ ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে দিনটি পালন করে।

দেশের রাজনীতির মূলধারা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বিএনপি জনবিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে নতুন করে সক্রিয় হতে তত্পর। আস্থার সংকট বিএনপির বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত নির্বাচনের আগে আন্দোলনের নামে দেওয়া কর্মসূচি ঘিরে যেসব তত্পরতা লক্ষ করা গেছে, তাতে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের অধিকার আদায়ের নামে রাজনীতি করতে গিয়ে অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিএনপির যেকোনো কর্মসূচি নিয়েই সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কর্মসূচির আড়ালে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, নিরীহ মানুষের প্রাণহানি, সম্পদের সর্বনাশ বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছে। এ অবস্থা থেকে ফিরে আসতে হলে দলটিকে জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সামনে আসতে হবে। বিএনপি নতুন নতুন কর্মসূচি দিলেও অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তাদের আস্থায় নিতে পারছে না সরকার ও আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই আস্থাহীনতা থেকে নতুন সংকট দেখা দেওয়াও অস্বাভাবিক নয়।”

সমকাল দেশের বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে সার্বিক প্রতিরোধ প্রয়োজন শিরোনামে লিখেছে, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৩০ অক্টোবর ১৫টি মন্দির ও হিন্দুদের শতাধিক পরিবারের বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর-লুটপাটের পরে এলাকায় পুলিশের সতর্ক অবস্থান সত্ত্বেও পরবর্তী ছয় দিনে অবিশ্বাস্যভাবে আরও দুই দফা রাতের অন্ধকারে সাতটি বাড়ির ঘরদোর, খড়ের পালায় দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়েছে। একই সময়ে নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, নেত্রকোনায় মন্দিরে ও ধর্মগ্রন্থে অগি্নসংযোগ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সারাদেশে হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। পরপর এমনটা ঘটতে পারাই পরিস্থিতির গুরুতর মাত্রা। নাসিরনগরসহ এই ঘটনাগুলোতে প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকট। প্রশাসনের জন্য কঠোরভাবে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া ও দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য। তবে এর চেয়েও গভীরে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। সম্প্রতি ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদীদের মোকাবেলায় অনেকটা সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সরকারের নির্দেশনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে এবং রাজনৈতিকভাবে দেশের জনগণকে সমবেত ও সংগঠিত করে রাস্তায় নামানো হয়েছে। এই কৌশল সঠিক এবং বিশ্বের প্রশংসাও অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি এখন উঁচুতে আছে। বিশ্বব্যাংক এবং চীনসহ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো উন্নয়ন সহায়তা বাড়াতে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় সরকারের বিরোধী শক্তি নানাভাবে সরকারকে এবং বর্তমানে একচ্ছত্র রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অধিকারী আওয়ামী লীগকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতেই পারে।”

কারাগার যখন জাদুঘর :সাধু উদ্যোগ শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারটি এই বত্সর ২৯ জুলাই হইতে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই লইয়াছে। কিন্তু ইহার প্রতি ইঞ্চি জমিনে গাঁথিয়া আছে ২২৮ বত্সরের স্মৃতি। সেই ব্রিটিশ আমলের প্রারম্ভে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে নির্মিত হয় ক্রিমিনাল ওয়ার্ড, যাহা পরবর্তীকালে পরিচিত হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নামে। চলতি বত্সর কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি স্থানান্তর হইবার পর গত ২ হইতে ৫ নভেম্বর প্রথমবারের জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ইহা সাময়িকভাবে উন্মুক্ত করা হয় নামমাত্র প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে। স্থানটি ঐতিহাসিক, তাহার স্থানান্তর ঐতিহাসিক, এবং তাহা উন্মুক্ত করিয়া দেওয়ার প্রয়াসটিও ঐতিহাসিক। কারাগারটির অন্দরে কত নিযুত মানুষ অন্তরীণ ছিলেন, কত দেশপ্রেমিকের কত দুঃখগাথা, কত ভয়ানক অপরাধী ও অপরাধের কেচ্ছা, কত রাজনৈতিক উত্থান-পতন—এমন বিচিত্র সাক্ষ্যবহনকারী স্থান বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি নাই বলা যায়।

সোয়া দুই শতাব্দীর রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিচ্ছাপ রহিয়াছে ইহার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ইহার দেয়ালে দেয়ালে কত দীর্ঘশ্বাস, কত বিচিত্র মানুষের স্পর্শে ইহা উদ্ভাসিত, কত নোংরা হাতের ছোপে ইহা কলঙ্কিত। ইহা এক তুলনাহীন স্থান, চাহিলেই ইহার অভ্যন্তরে প্রবেশ করা যায় না, চাহিলেই ইহার ভেতর হইতে বাহির হওয়া যায় না। ব্রিটিশ আমল হইতেই এই কারাগারে কেবল অপরাধীরাই বন্দী থাকে নাই, ইহাতে অন্তরীণ ছিলেন বহু বিপ্লবী, এই দেশের মুক্তি সংগ্রামের অনেক লড়াকু বীর। রাজনৈতিক জীবনে বহুবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেল খাটিয়াছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষা আন্দোলন ছাড়াও ছয় দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাসমেত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক সরকার বিরোধী আন্দোলনে পাকিস্তান আমল হইতে স্বাধীন বাংলাদেশেও জেল খাটিয়াছেন অনেক সংগ্রামী নেতা। জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হইলে কয়েদিখানা খুলিয়া দেয় কারারক্ষীরা। কারারক্ষী ও কর্মকর্তারাও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাত্র ৭৮ দিনের ব্যবধানে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই। সুতরাং এইসকল ঐতিহাসিক ঘটনাবিজড়িত এই স্থানটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের জীবন্ত জাদুঘর হিসাবে গড়িয়া তোলাটাই যথার্থ। জানা যায়, সরকারের পরিকল্পনাও রহিয়াছে অতীত হইয়া উঠা এই কারাগারটিকে তদ্রূপ সজ্জিত করা। ইহার অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও জাতীয় চার নেতার জাদুঘর নির্মাণসহ ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষণ করারও পরিকল্পনা রহিয়াছে সরকারের। এবং আরো কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ইহাকে বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে গড়িয়া তোলা হইবে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা