Wednesday, November 9th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
November 9th, 2016 at 8:24 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: উন্নয়ন হচ্ছে ও হবে, দেশ বাসযোগ্য থাকবে তো প্রশ্ন রেখে প্রথম আলো তার সম্পাদকীয়তে তলানিতে বাংলাদেশের বনভূমি শিরোনামে লিখেছে, “এশিয়ার যে দেশগুলোতে বনের পরিমাণ সবচেয়ে কম, বাংলাদেশের অবস্থান সেখানে। বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থা আর মাত্র দুটি দেশে—পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়া। বাংলাদেশের বনভূমি আজ যে তলানিতে এসে ঠেকেছে, তা কোনো প্রাকৃতিক কারণে হয়নি। দিনে দিনে আমরাই বনজঙ্গল উজাড় করেছি। দায়িত্বহীনতা, পরিকল্পনা ও দূরদৃষ্টির অভাব এবং বাছবিচারহীন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণকেই সাধারণভাবে এর জন্য দায়ী করা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বনভূমি এতটা নিচে নেমে আসার পেছনে গত ৩০-৪০ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সুন্দরবনের বনভূমির ক্ষতিকেই বড় কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে। বোঝা যায়, বন রক্ষার বিষয়টি আমাদের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় আদৌ কোনো গুরুত্ব পায়নি। বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ ও আবহাওয়া, গাছপালা ও জঙ্গলের জন্য উর্বর ভূমি। বন শুধু ধ্বংসই করা হয়েছে, এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বনায়নের কার্যকর উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।

এটা দুর্ভাগ্যজনক যে উন্নয়নের নামে বনভূমি উজাড় করার সংস্কৃতি থেকে আমরা এখনো সরে আসতে পারিনি। তা না হলে সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হতো না, এই বনের চারপাশ ঘিরে রীতিমতো একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠত না। যেভাবে চলছে, তাতে আজ দেশে যে মাত্র ১১ দশমিক ২ শতাংশ বনভূমি টিকে রয়েছে, তা কমতেই থাকবে।”

কালের কণ্ঠ তার সম্পাদকীয়তে ভারতীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা শিরোনামে লিখেছে, “বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করে আসছে। উপযুক্ত জমি, অবকাঠামো, জ্বালানি-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সুযোগের ঘাটতি থাকায় এত দিন বিদেশি বিনিয়োগ আসার হার ছিল খুবই কম। গত কয়েক বছরের পরিকল্পিত উন্নয়নপ্রক্রিয়ার কারণে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তাই সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই আসার ক্ষেত্রেও কিছুটা গতির সঞ্চার হয়েছে। গত অর্থবছরে রেকর্ড বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এ অবস্থায় টাটাসহ ভারতের ১০টি শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল ঢাকায় এসেছে। তিন দিনের সফরকালে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখবে। আশা করা যায়, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের এই সফর বাংলাদেশে শিল্পায়নের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বাংলাদেশের ছোট্ট ভূখণ্ডে ১৬ কোটি মানুষ। কৃষিতে এত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। তাই প্রতিনিয়ত বেকারত্বের হার বাড়ছে। অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে মানুষ বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু শিল্পায়নের জন্য উন্নত অবকাঠামোসহ যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন, সেসব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আগে কোনো সরকারই তেমন মনোযোগ দেয়নি। ফলে বিদেশে দেন-দরবার, রোড শো করেও দেশে পর্যাপ্ত বিদেশি বিনিয়োগ আনা যায়নি। কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু, চার লেন সড়ক নির্মাণসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যমান দুই সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, বিদ্যুৎ উত্পাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়া, ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ এমন অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিল্পায়নের জন্য খুবই জরুরি। এই কারণে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি উদ্যোক্তারাও আকৃষ্ট হচ্ছেন। তার পরও দ্রুত শিল্পায়নের পথে বাংলাদেশে এখনো অনেক বাধা রয়ে গেছে। নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক যে সূচক রয়েছে তাতে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো তলানির কাছাকাছি। এর অন্যতম কারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অদক্ষতা-অসহযোগিতা। অভিযোগ আছে, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা করতে এসেও ফিরে গেছে শুধু এসব কারণে। তাই শিল্পায়নের স্বার্থে দ্রুত দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে শিল্পায়নের আগ্রহ নিয়ে এসেছে, তারা এ-জাতীয় কোনো জটিলতার মুখোমুখি হবে না, সে ব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করতে হবে।”

প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে অপরাধ ডিজিটাল হচ্ছে শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “সাইবার, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে কত বদলে দিচ্ছে, সভ্যতার গতি কত বাড়িয়ে দিয়েছে তা ব্যাখ্যা করে বোঝানোর দরকার পড়ে না। এমন প্রযুক্তি আগে কখনও আসেনি, যা ডিজিটালের মতো অতি সাধারণ মানুষের হাতে হাতে এত দ্রুত পেঁৗছে গেছে। তাই এর মাহাত্ম্য সবাই জানে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রার জয়ধ্বনি। কিন্তু হায়, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে, বলা উচিত অপব্যবহার করে অতি জঘন্য, অতি ধ্বংসাত্মক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। একদিকে প্রাযুক্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছিদ্র করে ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা চুরি বা প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক দলিলপত্র নষ্ট করা চলে। এর শিকার আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও হয়েছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গিরা ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এ ধরনের দক্ষ অপরাধী ছাড়াও প্রযুক্তিজ্ঞানহীন সাধারণ ব্যবহারকারীরাই ল্যাপটপ, প্যাড, নোট, সেলফোন প্রভৃতির অপব্যবহার করে অন্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে প্রতারণা ও যৌন হয়রানি। ফেসবুক ব্যবহার করে মিথ্যা রটনা দ্বারা ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে ভাংচুর, লুটপাট ও সামাজিক শান্তি বিনষ্ট করার ঘটনা তো সম্প্রতি কয়েকটি ঘটল। সবই জঘন্য ফৌজদারি অপরাধ। সংবাদপত্রের পাতায় প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও যৌন হয়রানির খবর উঠছে। স্কুলছাত্রীদের ফুসলিয়ে বা বাধ্য করে নগ্ন ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায়, যৌন দাসত্বে বন্দি করা ও প্রতিহিংসা চরিতার্থের ঘটনা ঘটেছে।”

পথের বাধা সরাইয়া নিন শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “আগামী দিনগুলিতে প্রযুক্তির প্রায়োগিক দক্ষতাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হইবে—এই অভিমত ব্যক্ত করিয়া বৈশ্বিক চাহিদার নিরিখে মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হইয়াছে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। এই লক্ষ্যে সংস্থাটির পক্ষ হইতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশও তুলিয়া ধরা হইয়াছে। পরিকল্পিত উপায়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়িয়া তোলার এই আহ্বান নূতন নহে। অস্পষ্ট নহে ইহার সহিত পরিকল্পিত বা নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির যোগসূত্রের বিষয়টিও। কান টানিলে যেমন মাথা আসে, তেমনি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন উঠিলেই রাষ্ট্রের ভূমিকাই মুখ্য হইয়া ওঠে। বলা বাহুল্য, সেই ভূমিকা প্রত্যক্ষ করিবার সুযোগও আমাদের হইয়াছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক কালে উন্নয়নের অভিযাত্রায় অভাবনীয় সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ যে সারা পৃথিবীর বিস্ময়মুগ্ধ মনোযোগ কাড়িয়া লইয়াছে—বেসরকারি খাত তথা জনগণই যে তাহার মূল চালিকাশক্তি, সেই সত্যও অস্বীকার করিবার কোনো উপায় নাই।

সমাজ ও অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই যে নজরকাড়া সাফল্য তাহা এতোটাই দৃশ্যমান যে ইহার জন্য কোনো গবেষণা বা পরিসংখ্যানের প্রয়োজন পড়ে না। বিশ্বায়নের ফলে সৃষ্ট সম্ভাবনাকে কাজে লাগাইয়া কৃষি, শিল্প এবং প্রবাসী আয় হইতে শুরু করিয়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজেদের শ্রম, নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে অসাধ্য সাধন করিয়া চলিয়াছে এদেশের মানুষ। শুধু তাহাই নহে, আরও আগাইয়া যাইবার জন্যও তাহারা টগবগ করিতেছে। ইতোমধ্যে সেই ভিত্তিও তৈরি হইয়া গিয়াছে। কোনো পরিকল্পনা নহে, বরং বাজারের চাহিদাই নূতন নূতন দিগন্ত উন্মোচন করিয়া চলিয়াছে। বিশেষ করিয়া বর্তমান সরকারকে এ কারণে ধন্যবাদ জানাইতে হয় যে তাহারা এই ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নাই, বরং যথাসাধ্য সহায়তার চেষ্টা অব্যাহত রাখিয়াছে। তাহা সত্ত্বেও বলিতে হয় যে পথের বাধা এখনো একেবারে কম নহে। সম্পূর্ণ কণ্টকমুক্ত নহে ছোটো-বড়ো নির্বিশেষে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিকাশের পথ। ব্যাংকঋণের উচ্চসুদের পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুত্সহ অবকাঠামোগত সমস্যা তো আছেই, আছে আমলাতন্ত্রের জগদ্দল পাথরও। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথে এই মুহূর্তে এইগুলিই বড় বাধা বলিয়া আমরা মনে করি।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা