Thursday, November 10th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
November 10th, 2016 at 8:40 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতার বিষয়টি তুলে এনে প্রথম আলো তাদের সম্পাদকীয়তে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক শিরোনামে লিখেছে, “হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না। নাসিরনগরে সংঘবদ্ধ আক্রমণের পর বরিশাল, ঠাকুরগাঁও, যশোর, সিলেট, ফেনী, নওগাঁ, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, ফরিদপুর, মাগুরাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এর মাত্রা নাসিরনগরের মতো নয়। গতকাল বুধবার ফরিদপুরের বালিয়াকান্দিতে একটি মন্দিরে হামলা হয়েছে। বোঝা যায়, এসব হামলার উদ্দেশ্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা। পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ঘটনার নয় দিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা পরিদর্শন এবং প্রশাসনের উদ্যোগে শান্তি সমাবেশে তাঁর অভয়বাণী হিন্দু সম্প্রদায়কে কতটা আশ্বস্ত করবে, সেটি ভবিষ্যৎই বলতে পারে। তবে ভরসা পাওয়ার মতো এখনো কিছু ঘটেনি বলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘হামলাকারীরা চিহ্নিত হয়েছেন এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ কিন্তু ইতিমধ্যে কেউ কেউ ছাড় পেয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন বলে জনমনে ধারণা জন্মেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষমতাসীন দলের কারও কারও বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে সরকারি দলের লোকেরা সব সাধু-সজ্জন। হামলার পেছনে যে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে, তা একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনেও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু দলীয় লোকদের বাঁচাতে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা সত্য উদ্ঘাটনের যেমন অন্তরায়, তেমনি অপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মনে করি।”

কালের কণ্ঠ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার হোক শিরোনামে লিখেছে, “সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পই বিজয় মুকুট ছিনিয়ে নিলেন। আগামী চার বছরের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এখন দেশজুড়ে শুধুই ট্রাম্প সমর্থকদের বিজয়োল্লাস। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটনের সমর্থকদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ, কেন এমন পরাজয়? বিজয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি শুধু কোনো দলের নন, সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হতে চান। নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমাদের অভিনন্দন।

বিশ্বের এক নম্বর শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এমনিতেই সারা বিশ্বের মনোযোগ কেড়ে থাকে কিন্তু এবারের নির্বাচন নানা কারণেই আরো বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সব নির্বাচনী ঐতিহ্য ম্লান করে দিয়ে এবার উভয় প্রার্থী পরস্পরের চরিত্র হনন ও ব্যক্তিগত আক্রমণে অনেক বেশি সরব ছিলেন। আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী কিছু বক্তব্য সমালোচনারও ঝড় তুলেছিল। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল ফাঁস ও নির্বাচনের আগে আগে দুবার করে এফবিআইয়ের তদন্তে নামার বিষয়টিও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। তার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আমেরিকার ভোটাররা তাঁদের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে যে রায় দিয়েছেন, তাকে আমরা শ্রদ্ধা ও স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গতিশীল নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আরো এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিরোনামে সমকাল শুভবুদ্ধি ও ভারসাম্যের প্রত্যাশায় লিখেছে, “মাত্র একদিন আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের দিন, আমাদের সম্পাদকীয় নিবন্ধের শিরোনাম ছিল_ ‘পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়’। ওই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং একগুচ্ছ নতুন ইস্যু নিয়ে ধারালো বিতর্ক সৃষ্টিকারী প্রেসিডেন্টসিয়াল নির্বাচনটির ফল নিয়ে বিশ্বব্যাপী অন্য সময়ের চেয়ে বেশি আগ্রহ-উদ্বেগ ছিল। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় আন্তর্জাতিক একাধিক মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘অভাবিত’ বলে অভিহিত করেছে। নানাভাবে বিতর্কিত হয়ে ওঠা রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড জন ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছেন। আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ফল প্রকাশ ও সিনেটের প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি আগামী জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব নেবেন। মার্কিন নির্বাচনী প্রচারের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বেশি তিক্ত ও ক্ষেত্রবিশেষে অরুচিকর বাকবিতণ্ডা হয়েছে এবং হেরে গেলে ফল মানবেন না বলে ট্রাম্প অচিন্তনীয় ঘোষণা দেন। এতে স্থিতিশীল গণতন্ত্রের দেশ, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সমান সুযোগের দেশ বলে স্বীকৃত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ক্ষয়ে যাচ্ছে কি-না সে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়। নির্বাচনী বিতর্কের একটি পর্বে উভয়ে করমর্দনে বিরত থেকে বিস্ময় সৃষ্টি করলেও গতকাল বেসরকারি ফল জানার সঙ্গে সঙ্গেই পরাজিত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ট্রাম্প পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি। বিজয়ী প্রেসিডেন্ট তার ক্যাম্পে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে এখন বিভক্তির ক্ষত দূর করার সময়, আমেরিকানরা সকলে এক ঐক্যবদ্ধ জাতি, তিনি সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট এবং শক্তিশালী আমেরিকার জন্য কাজ করলেও বিশ্বে সবার সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করবেন ইত্যাদি ভালো কথা বলেছেন। প্রকৃতই নির্বাচনে জয়ের জন্য নিজের সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে জনপ্রিয়তার অভিলাষী রাজনীতিবিদরা অনেক গরম কথা বললেও সে সবকিছু যে ক্ষমতায় বসে বাস্তবায়িত করা যায় তা নয়। যে পরিবর্তনের আশায় ট্রাম্প সমর্থকরা ভোট দিয়েছেন সেই পরিবর্তন ট্রাম্পের আমেরিকায় আগামী দিনগুলোতে কীভাবে আসে তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।”

অভিনন্দন ডোনাল্ড ট্রাম্প শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বিভেদাত্মক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জিতিয়া লইলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প যে কেবল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করিয়াছেন তাহা নহে, বরং তিনি বলিতে গেলে নিজ-দলের সর্বোচ্চ মহলের সমালোচনা-বিরোধিতা-অসহযোগিতাকেও পরাস্ত করিয়া হোয়াইট হাউসের দরজা নিজের জন্য উন্মুক্ত করিয়াছেন। মাসের পর মাস ধরিয়া প্রকাশিত হইতে থাকা জনমতগুলিকেও তিনি ভুল প্রমাণ করিয়াছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এতদিন পর্যন্ত বিভেদ ও উত্তেজনার রাজনীতিকে সম্বল করিয়াছেন। কিন্তু বিজয়-পরবর্তী ভাষণে ভিন্ন এক ট্রাম্পের দেখা মিলিয়াছে। অভিবাসী, বিশেষত মুসলিম-বিদ্বেষী অবস্থান, খাপখোলা সমালোচনা, এতদিন এইগুলি ছিল ট্রাম্পের রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। বিজয়ীর ভাষণে তিনি দেখা দিয়াছেন ভিন্ন রূপে। তিনি আমেরিকান সমাজে বিরাজমান বিভেদের ক্ষতগুলি নিরাময় ও ঐক্যবদ্ধ হইবার উপরে গুরুত্ব আরোপ করিয়াছেন। বুধবারের ট্রাম্প এতদিনকার ট্রাম্প হইতে ব্যতিক্রম হইয়া ‘সকল আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট’ হইতে চাহিয়াছেন। এহেন বক্তব্য শুভবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের স্মারক নিঃসন্দেহে। ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্য দিয়া আমেরিকান সমাজে সৃষ্ট বিভেদের ক্ষত শুকাইতে শুরু করিলে তাহা কেবল আমেরিকার জন্য নহে, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য স্বস্তির কারণ হইবে। নির্বাচনে জিতিবার জন্য অনেকেই অনেক কথা বলিয়া থাকে; ট্রাম্পও বলিয়াছেন। আশা করা যায় যে, প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমেরিকা ও বিশ্বের শান্তির পথে তিনি ভূমিকা রাখিয়া যাইবেন। বিশেষ করিয়া আশা করা যাক যে, জলবায়ু পরিবর্তন, ন্যাটোর বর্তমান ভূমিকা কিংবা অভিবাসন সম্পর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের এতদিনকার কথাবার্তার আক্ষরিক প্রতিফলন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাজে-কর্মে প্রতিফলিত হইবে না। স্মরণে রাখিতে হইবে যে, বুধবারের নির্বাচনে কেবল প্রেসিডেন্ট পদ নহে বরং আইনসভার উভয় কক্ষ পুনর্বার রিপাবলিকানদের দখলে গিয়াছে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা