Friday, November 11th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
November 11th, 2016 at 8:35 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সবার আস্থা অর্জন করতে হবে উল্লেখ করে প্রথম আলো তার সম্পাদকীয়তে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট শিরোনামে লিখেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণাকালে তাঁর অনেক কথা ও আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের জনসাধারণের এক বিরাট অংশের তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিল; বহির্বিশ্বেও তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রকাশ লক্ষ করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদার গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদী নাগরিক সমাজ, অভিবাসী জনগোষ্ঠীগুলো, নারী সমাজের একটা বড় অংশ এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু সব সত্ত্বেও দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার তাঁকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছেন—এই বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি গণতান্ত্রিকভাবেই নির্বাচিত হয়েছেন।

যদিও নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প কথায় ও আচরণে সংযত আচরণ দেখিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবাইকে নিয়ে দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন, তবু যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত এক ডজন শহরে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য পরাজিত প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেশ পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা আশা করব, আমেরিকান জনগণ নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ঐক্য, শান্তি, সৌহার্দ্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হবে। বিভেদ সৃষ্টি নয়, ঐক্য ও মিলনের উদ্যোগ বাড়িয়ে তাঁকে সবার মন জয় করতে হবে।”

নাসিরনগরকে অনুসরণ করুক দেশ শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “হিন্দু-মুসলমান সৌভ্রাতৃত্ব বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার নজির স্থাপিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে। ৩০ অক্টোবরের জঘন্য হামলার পর এখন সেখানে উভয় সম্প্রদায়ের লোকজন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। কোনো দুষ্কৃতকারী আর যেন কোনো হিন্দু বাড়িতে হামলা চালাতে না পারে সে জন্য এলাকার মুসলমানরাও এককাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য ধরে তারা আবারও একে অন্যের সুখ-দুঃখের ভাগীদার ও পরমাত্মীয় হয়ে উঠেছে। অভিসম্পাত করছে সেই নরাধমদের, যারা নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে সেদিন হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছিল। এটাই তো বাংলার চিরায়ত রূপ। একে এগিয়ে নিতে হবে।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে তার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ঘটনায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকের হীন চক্রান্ত কাজ করেছে। তারা হিন্দু বা অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িঘর, সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য কিছু সরল-সহজ মানুষকে উসেক দিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও দেখা যায়, রাত জেগে পাহারা দেওয়া লোকজনও মনে করে, নাসিরনগরের হামলার ঘটনাটিও ছিল একই রকমভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পূর্বপরিকল্পিত। হিন্দু-মুসলমান সবাই অপরাধীদের সঠিক বিচার দাবি করেছে। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, সেই ঘটনার রেশ ধরে সারা দেশেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার বেশ কিছু দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার ভোরে ও তার আগের রাতেও ফরিদপুর এবং মানিকগঞ্জের দুটি মন্দিরে হামলা করে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। মানিকগঞ্জে হামলাকারী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী বলে মনে করা হচ্ছে। চক্রান্তকারীরা বরাবরই তাই করে। গ্রামের সরল-সহজ মানুষ কিংবা নির্বোধ লোকজনকে উসেক দিয়ে এমন ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পর তারা নিরাপদে থেকে যায়। তাই পেছনের কুশীলবদের চিহ্নিত করা ও বিচারের মুখোমুখি করা খুবই জরুরি। তা না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।”

কিশোরীদের অবহেলা নয় শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “জাতিসংঘের শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ নামক সংস্থার ‘মীনা’ অ্যানিমেশন সিরিজে আমরা অনেক বছর আগে দেখেছি পরিবারে মা শিশুদের খেতে দেওয়ার সময় পুত্রকে সব সময় মাছের মাথাটা দিচ্ছেন বা তাকে দু’টুকরো মাছ দিয়ে কন্যাকে এক টুকরো দিচ্ছেন। ছেলেদের পাতে বেশি দেওয়াই মায়ের সনাতন ধারণা ও অভ্যাস। তিনি মনে করেন, ছেলেদের বেশি খেতে হয়। প্রচার সিরিজটিতে এই বৈষম্যমূলক প্রচলিত ক্ষতিকর ধারার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য গল্পের ছলে পরামর্শ দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত অত্যন্ত জনপ্রিয় এই সিরিজ তৈরিতে বাংলাদেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে পরিবারে কন্যাশিশুকে অবহেলা ও নারীদের চিরন্তন অধস্তন অবস্থান কতটুকু বদলেছে? পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনটা তেমন দ্রুত হচ্ছে না। শহরে শিক্ষিত ও সম্পন্ন অল্পসংখ্যক পরিবারে পুত্র-কন্যার ব্যবধান এখন আর তেমন দৃষ্টিগোচর না হলেও গ্রামে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবেই তা রয়েছে। আর খাদ্য ও পুষ্টি প্রসঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গির চেয়েও দারিদ্র্য বড় বাস্তবতা। দারিদ্র্য এখন একটু করে কমে এলেও তার করাল গ্রাস থেকে আমরা রক্ষা পাইনি।”

সড়কের এ কী হাল শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “খোদ রাজধানীতেই কত জায়গায় কত সড়কের অবস্থা এতটাই বেহাল যে সেইগুলিকে সড়ক বলিয়া চিহ্নিত করাটাই কঠিন। কিন্তু আমরা যেই সড়কটির কথা বলিতেছি ইহা আর দশটি সাধারণ সড়কের পর্যায়ভুক্ত নহে। এই সড়কটির গুরুত্ব আলাদা। কারণ ইহার অবস্থান মহাখালীর ‘স্বাস্থ্য জোনে’। সাততলা বস্তি সড়ক নামে পরিচিত এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে রহিয়াছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, বাংলাদেশ চিকিত্সা গবেষণা কাউন্সিল ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। পাশাপাশি ক্যানসার হাসপাতাল, গণপূর্ত বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য স্টাফ কোয়ার্টারের হাজার হাজার লোককে এই পথে যাওয়া-আসা করিতে হয়। অথচ সেই সড়কটির অবস্থা এতটাই করুণ যে দেখিয়া মনে হইতে পারে—ইহা দুর্যোগকবলিত কোনো এলাকার চিত্র। সড়ক জুড়িয়া বিপজ্জনক সব গর্ত, উভয়পার্শ্বের নর্দমা উপচাইয়া পড়া ময়লা-আবর্জনায় তাহা সয়লাব। তাহার উপর দিয়া পথচারী শুধু নহে, চলাচল করিতে হইতেছে রোগীদেরও। ফুটপাত বলিয়া কোনো কিছুর অস্তিত্ব নাই। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক— তদুপরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের এত এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা প্রতিদিন এই সড়কটি ব্যবহার করিয়া থাকেন, তাহার পরও একটি সড়কের অবস্থা এমন হয় কীভাবে তাহা ভাবিলে যুগপত্ বিস্মিত ও শিহরিত হইতে হয়।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা