Wednesday, October 12th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
October 12th, 2016 at 9:03 am
আজকের সম্পাদকীয়

আজ পবিত্র আশুরা। বেদনাময় এ দিনটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে সম্পাদকীয় করেছে আজকের অধিকাংশ দৈনিক পত্রিকা।পাশাপাশি আরও কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও স্থান পেয়েছে সম্পাদকীয়তে।

পবিত্র আশুরাকে নিয়ে প্রথম আলো সম্পাদকীয়তে ত্যাগ চাই, মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহি না শিরোনামে লিখেছে, “পবিত্র আশুরা আজ। মহররম মাসের ১০ তারিখটি মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে গভীর শোকের দিন। এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চক্রান্তকারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে কারবালা প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শাহাদতবরণ করেন। দিনটি একদিকে শোকের ও বেদনার, অন্যদিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের উজ্জ্বল উদাহরণ।

হাদিস অনুযায়ী, মহররমের ১০ তারিখ ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারবালা প্রান্তরে পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথিসহ হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতবরণের মর্মান্তিক ঘটনার আগেও এই তারিখে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। আদি মানব হজরত আদম (আ.) এই দিনে পৃথিবীতে আগমন করেন, তাঁর তওবা কবুল হয় এই দিনেই। এই দিনে হজরত নূহ (আ.)-এর নৌকা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পায় ”

সমকাল সম্পাদকীয়তে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রেরণা শিরোনামে লিখেছে, “এ বছর আশুরা এমন সময় পালিত হচ্ছে, যখন মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। মহররম মাসের দশম দিবসের মর্মন্তুদ ঘটনা স্মরণ করে আমরা ঐক্যের আহ্বান জানাতে চাই। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠী যে শোক পালন করবেন, আমরা তার সঙ্গে একাত্মতাও বোধ করি। একই সঙ্গে প্রত্যাশা, এই দিনের বেদনা ও বোধ মুসলিম বিশ্বের জন্য শক্তি ও ঐক্যেরও প্রতীক ও প্রেরণা হবে। আমরা জানি, এই দিন কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীতীরে কী মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটেছিল! মূলত এ কারণেই আশুরার দিনটি মুসলিম সমাজকে আলোড়িত করে চলছে। ওই দিন মহানবীর (সা.) প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন কারবালা প্রান্তরে ৭২ জন সঙ্গী ও পরিবারের সদস্যসহ শাহাদাতবরণ করেছিলেন ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে। আমরা এও জানি, ইসলামের পঞ্চম খলিফা মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের সঙ্গে ইমাম হোসাইনের বিরোধ ছিল আদর্শিক। কারণ ইয়াজিদ ন্যায়নিষ্ঠ শাসক ছিলেন না। মুসলিম সমাজের যোগ্য নেতাও ছিলেন না। তিনি জবরদস্তিমূলক খলিফার পদ দখল করেছিলেন। এ অবস্থায় ইমাম হোসাইন ইয়াজিদকে খলিফা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এমন পরিস্থিতিতে মদিনা থেকে কুফা যাওয়ার পথে ফোরাত নদীতীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েন। তাদের শাহাদত হওয়ার ঘটনা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিপীড়িত মানুষকে আলোড়িত করে।”

কালের কণ্ঠ পবিত্র আশুরার পাশাপাশি সম্পাদকীয় করেছে সৃজনশীলে অব্যবস্থাপনা নিয়ে। শিক্ষক প্রশিক্ষণে ব্যাপক উদ্যোগ নিন শিরোনামে পত্রিকাটি লিখেছে, “ যথেষ্ট প্রস্তুতি না নিয়ে কোনো নিয়ম চালু করার খেসারত দিচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষাও জিপিএ ৫ ও শিক্ষার মানে শুভঙ্করের ফাঁকি থাকার তথ্য জানান দিচ্ছে। আট বছর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করার পর থেকে অনেক আশার বাণী উচ্চারিত হচ্ছে। তবে এই দীর্ঘ সময়ে আমরা শিক্ষার্থী দূরের কথা, শিক্ষকদেরই এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত করে তুলতে পারিনি। এর খেসারত দিচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম।

সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নে সক্ষম নয় মাধ্যমিকের অর্ধেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এ তথ্য সরকারি জরিপেই উঠে এসেছে। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানেও দেখা গেছে, বাজার সয়লাব এখন নোট-গাইডে। শিক্ষকরা গাইড কিনে প্রশ্ন করছেন, একই গাইড মুখস্থ করে শিক্ষার্থীরাও উত্তর লিখছে। বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণায় এসব অসংগতি ধরা পড়ছে। উদ্বেগ ব্যক্ত করছেন শিক্ষাবিদরাও।”

বিশৃঙ্খলা কি চলিতেই থাকিবে শিরোনামে ইত্তেফাক সম্পাদকীয় করেছে সড়ক দূর্ঘটনা নিয়ে। সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি লিখেছে, “যানবাহনে ঠাসা জনবহুল সড়কে হর্নের শব্দে চারিপাশ প্রকম্পিত করিয়া দুইটি বাসের প্রতিযোগিতা রাজধানীবাসীর নিকট কোনো নূতন বিষয় নহে। লোমহর্ষক এই প্রতিযোগিতার কারণে শুধু যে সড়কে তীব্র বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় তাহাই নহে, ইহার মর্মান্তিক বলিও হইতে হইয়াছে বহু নিরপরাধ মানুষকে। প্রতিযোগিতা করিতে গিয়া কখনো বাস সড়ক ছাড়িয়া ঢুকিয়া পড়িয়াছে দোকানে বা বাসগৃহে; কখনো-বা সেতুর রেলিং ভাঙিয়া যাত্রীসমেত পতিত হইয়াছে নদীতে বা খাদে। এইবার তাহাতে নূতন মাত্রা যোগ করিয়াছে সদ্যনির্মিত মগবাজার ফ্লাইওভারের উপর বাস উল্টাইয়া যাওয়ার ঘটনা। ইহাতে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হইয়াছেন। এই দুর্ঘটনার মূলেও রহিয়াছে দু্ইটি বাসের প্রতিযোগিতা। আরও উদ্বেগজনক তথ্যটি হইল, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির চালক মোবাইল ফোনে কথা বলিতে বলিতে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাইতেছিলেন। যাত্রীসাধারণ বার বার চেষ্টা করিয়াও তাহাকে নিরস্ত করিতে সমর্থ হন নাই। সান্ত্বনা শুধু এইটুকু যে পরিণাম আরও ভয়াবহ হইতে পারিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারিত বিপুল অর্থব্যয়ে নির্মিত উড়ালসড়কও। ভাগ্যক্রমে রক্ষা পাওয়া গিয়াছে বটে, তবে বার বার ভাগ্য আমাদের সহায় নাও হইতে পারে ”

সমন্বয়হীনতা দূর হোক শিরোনামে বণিক বার্তা লিখেছে, “২০১৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনে সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইনটিতে ১৫ (গ) নামে একটি ধারা সংযুক্ত করা হয়। আলোচ্য ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি ব্যাংকে একটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ কমিটি থাকবে, যা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করবে। এ কমিটি শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অডিট কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।’ ধারাটি বাস্তবায়নের জন্য ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (আইসিসি) নামে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিমালাটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে ব্যাংকগুলোর প্রতি সার্কুলারও জারি করে। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে ওই সার্কুলারে ১২টি পরিবর্তন এনে নতুন সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটা স্পষ্টত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বয়হীনতারই বহিঃপ্রকাশ। বলার অপেক্ষা রাখে না, ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ও স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি)। সাধারণত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিভাগটিই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন ও জারি করে। কিন্তু আলোচ্য আইসিসি নীতিমালা জারির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এক্ষেত্রে বিআরপিডি বিভাগকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি গভর্নরের মাধ্যমে নীতিমালাটি অনুমোদন করে ফেলা হয়েছিল। এ কারণে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের আপত্তির মুখে নাকি এটি কিছু সংশোধন করে জারি হয়েছে।”

নিউজনেক্সটবিডি.কম/পিএ


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা